তরুণদের চাকরির সুযোগ বাড়াতে ডিসেম্বরে সরকারের নতুন কর্মসংস্থান উদ্যোগ

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায় শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে দেওয়া অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মাহদী আমিন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন এবং মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বর ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

মাহদী আমিন জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। সরকারের লক্ষ্য হলো তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। একই সঙ্গে মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের জনবলের চাহিদা রয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

একই সঙ্গে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। একদিকে থাকবে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য, অন্যদিকে থাকবে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদা। এই দুই তথ্যের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

নিয়মিত হবে ক্যারিয়ার ফেয়ার

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি দেশব্যাপী নিয়মিত ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জেলা পর্যায়ে এসব ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমিয়ে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল খুঁজে নিতে পারবে।

মাহদী আমিন বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা হবে।

এই ব্যবস্থার আওতায় চাকরিপ্রার্থীদের সিভি লেখার কৌশল, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, ইন্টারভিউ মোকাবিলা এবং চাকরির বাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে।

বিদেশগামী তরুণদেরও যুক্ত করা হবে

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতারা সরাসরি নিবন্ধন না করলেও বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণদের নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) অথবা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

সরকার এমন একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ তাঁর ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

মন্তব্য করুন

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের জন্য বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি: শূন্যপদের চাহিদা নেওয়া শুরু

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য একটি বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি জারির প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্যপদের তথ্য বা চাহিদা সংগ্রহ শুরু করেছে সংস্থাটি।

চাহিদা দেওয়ার সময়সীমা:

  • শুরু: বুধবার (১৯ নভেম্বর)

  • শেষ: আগামী ২৮ নভেম্বর

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, যে সমস্ত পদ ৩০ সেপ্টেম্বরের (২০২৫) মধ্যে শূন্য হয়েছে, শুধুমাত্র সেই এমপিওভুক্ত পদগুলোর চাহিদা অনলাইনে দিতে হবে।

নির্দেশিকা ও নীতিমালা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এবং কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ থেকে জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী প্যাটার্নভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা দিতে হবে।

  • শূন্যপদের তথ্য অনলাইনে দেওয়ার পর, প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে ই-রিকুইজিশন ফি জমা দিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত শূন্যপদের চাহিদা গ্রহণ করা হবে।

  • পূর্বের জারি করা কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় দেওয়া অনলাইন চাহিদা বহাল থাকবে না।

  • অফলাইনে, হার্ডকপিতে বা ই-মেইলের মাধ্যমে কোনো চাহিদা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এনটিআরসিএতে নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিম্নলিখিত প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে অনলাইনে এই চাহিদা জমা দিতে পারবেন:

  •  ওয়েবসাইট: http://ngi.teletalk.com.bd

  • অথবা, এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটের (www.ntrca.gov.bd) "ই-রিকুইজিশন" সেবা বক্সের "ই-রিকুইজিশন লগইন" অপশনে ক্লিক করে।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের আবেদন বাড়ল ১ অক্টোবর পর্যন্ত

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনের সময় আরও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির আবেদন করা যাবে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা সময় বাড়াচ্ছি। মন্ত্রী মহোদয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের বৈঠকে আজ সকালে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সময় বাড়ানোর নোটিশ ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময়সীমা ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

কেন বাড়ানো হলো সময়

সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো ভর্তি কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি, তারও বেশি—সাড়ে লাখের কাছাকাছি শিক্ষার্থী এই সিস্টেমের বাইরে আছে। কেউ প্রথম ধাপে আবেদন করেনি, কেউ আবেদন করে নিশ্চায়ন করেও ভর্তি হয়নি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে রেখে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি না। সে কারণেই সময় বাড়ানো হয়েছে।’

কারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবে

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যারা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আগে আবেদন করেনি অথবা আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি, তারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবে।

এ ছাড়া চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও নিশ্চায়ন করতে পারেনি কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কলেজে ভর্তি হতে পারেনি—এমন শিক্ষার্থীরাও দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ পাবে।

ভুল কোটা নির্ধারণের কারণে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও যারা কলেজে ভর্তি হতে পারেনি, তারাও এ ধাপে আবেদন করতে পারবে।

দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দ দিতে হবে। তবে কলেজে বিদ্যমান আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে পছন্দক্রম নির্ধারণ করতে হবে।

এরপর যেসব তারিখ গুরুত্বপূর্ণ

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের পর ১ থেকে ৩ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচন নিশ্চায়নের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ অক্টোবর রাত ৮টায়। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ৫ থেকে ৭ অক্টোবর।

আবেদন ফি নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা

প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি—এমন শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের জন্য ২২০ টাকা অনলাইন আবেদন ফি দিতে হবে না। তাদের ভর্তি ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজ সিলেকশন অথবা এডিট সম্পন্ন করতে হবে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সময় কোটার যোগ্যতা যাচাই করে সঠিকভাবে কোটা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ফি জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

২০২৬ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এবং মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বুধবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এরপর মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর অধিভুক্ত সব উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসিতে প্রায় শতভাগ সাফল্য, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০০-র বেশি শিক্ষার্থী

রাজধানীর উত্তরার রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবারও এইচএসসি পরীক্ষায় দারুণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ১৬৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেবল একজন অকৃতকার্য হয়েছেন। অর্থাৎ, ১৬৯২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

ফলাফলে দেখা যায়, রাজউকের ১২১৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৭১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রতিফলন।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়—

  • বিজ্ঞান বিভাগে ১১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৩২ জন পাস করেছেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৬৩ জন শিক্ষার্থী।

  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, সবাই পাস করেছে। এদের মধ্যে ১৮৬ জনের ফল জিপিএ-৫।

  • মানবিক বিভাগেও ১৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ৬৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, জাতীয়ভাবে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছর (২০২৪) এই হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফলে এবারে পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

তবে জাতীয় গড়ের তুলনায় রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফল অনেক এগিয়ে, যা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।

মন্তব্য করুন

এইচএসসি ফল অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রকাশ হলে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। ফল প্রকাশে দেরি হলে পিছিয়ে যেতে পারে ভর্তি পরীক্ষাও।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এইচএসসি ফলের ওপর

 

দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৪ ডিসেম্বর আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি ফল প্রকাশ না হলে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ৪ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করেছি। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে এইচএসসি ফলাফল যথাসময়ে প্রকাশের ওপর।’

তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে শেষ হয়েছে। ফলে ফল প্রকাশেও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এইচএসসি ফল প্রকাশ হতে পারে।

মহাপরিচালক বলেন, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে এইচএসসি ফল প্রকাশ করা সম্ভব হলে ৪ ডিসেম্বরই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা যাবে। তবে এর মধ্যে ফল প্রকাশ না হলে জটিলতা তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, এইচএসসি ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের পুনঃনিরীক্ষণের জন্য প্রায় এক মাস সময় থাকে। ফলে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ করা সম্ভব না হলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একই দিনে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও নম্বর বণ্টনসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মন্তব্য করুন

বিটাকে ৮ ট্রেডে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ৪০০ টাকা বৃত্তি

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব (৪আইআর) সংশ্লিষ্ট আধুনিক ও স্মার্ট প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) ঢাকাকেন্দ্রে তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। অর্থ বিভাগের স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি) আওতায় অষ্টম ব্যাচের এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৪০০ টাকা হারে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ বৃত্তির অর্থ সনদপত্র দেওয়ার সময় এবং বাকি ২০ শতাংশ চাকরিতে প্রবেশের পর প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

যেসব ট্রেডে প্রশিক্ষণ

এবার মোট আটটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এগুলো হলো—

১. নিউমেটিক অ্যান্ড হাইড্রোলিক সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স
২. ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট অপারেশন অ্যান্ড ট্রাবলশুটিং
৩. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাপ্লিকেশন
৪. অ্যাডভান্স সিএনসি মেশিনিং সেন্টার অপারেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিস
৫. ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন
৬. থ্রিডি প্রিন্টিং অ্যান্ড থ্রিডি স্ক্যানিং উইথ সলিডওয়ার্কস
৭. ক্যাড-ক্যাম (মেকানিক্যাল)
৮. ড্রোন অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স

প্রতি ট্রেডে ২৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থী নেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণের সময়সূচি

প্রশিক্ষণের মেয়াদ তিন মাস বা ৩০০ ঘণ্টা। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলবে।

যোগ্যতা

আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া এসএসসি পাস এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে কমপক্ষে তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করা যাবে।

আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনের সঙ্গে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ও স্ট্যাম্প সাইজের এক কপি ছবি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব ও পারিবারিক আয়ের সনদপত্র জমা দিতে হবে।

আবেদন যেভাবে

আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে বিটাকের অ্যাডভান্সড ট্রেনিং অ্যান্ড ইনোভেশন কমপ্লেক্স (এটিআইসি), অফিস কক্ষ-৯ম তলায়। এছাড়া বিটাকের ওয়েবসাইটের প্রশিক্ষণ সেবা বক্স এবং ফেসবুক পেজ ‘SICIP-BITAC’ থেকেও ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ অক্টোবর ২০২৬।

প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ০১৭৯৭১১২৩৪১ (হোয়াটসঅ্যাপ) নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

মন্তব্য করুন
×