নতুন করে উপবৃত্তি পাবেন ৫৯ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরকারি এ সহায়তার আওতায় আসবেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি বিতরণ ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় সহায়তা প্রদান’ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য DTE Stipend MIS সফটওয়্যারে প্রোফাইল তৈরি ও লগইন করতে প্রয়োজনীয় User ID এবং বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো হবে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন অন্তর্ভুক্ত ৫৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে DTE Stipend MIS সফটওয়্যারে আগের User ID পুনরুদ্ধার করে উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বরিশাল অঞ্চলের ‘ব্যাংকেরহাট কো-অপারেটিভ (ডিগ্রি) কলেজ, ভোলা সদর, ভোলা’কে আপাতত উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির EIIN ১০১২১০ এবং কারিগরি কোড ৪০০০০৭। একই কারিগরি কোডের একটি স্কুল অংশ (EIIN ১০১১০৭) ইতোমধ্যে DTE Stipend MIS-এ অন্তর্ভুক্ত থাকায় কলেজ অংশের জন্য আলাদা কারিগরি কোড প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে কলেজের অনুকূলে পৃথক কারিগরি কোড সংগ্রহ করে তা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৃথক কোড পাওয়া গেলে কলেজ অংশকে উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মন্তব্য করুন

কারিগরি শিক্ষকদের বদলি হবে কয়েক ধাপে, মিলেছে ৯০০ শূন্য পদের তথ্য

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথম ধাপেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বদলি কার্যক্রমের জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে চূড়ান্তভাবে শূন্য পদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে কতজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বদলির জন্য প্রয়োজনীয় শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। এ পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার পর মোট শূন্য পদের সংখ্যা জানা যাবে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে কর্মরত আছেন। তাঁদের বদলির ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদ বা বিষয়ের শূন্যতা রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা অনলাইনে বিভিন্ন পদ ও বিষয়ের বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা জানাচ্ছেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর ই-মেইল তৈরি ও তথ্য দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া না গেলেও পরবর্তী সময়ে তা সংগ্রহ করা হবে।

সফটওয়্যারের মাধ্যমে হবে বদলি

এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ই-মেইল তৈরি করে ৩০ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা বলা হয়।

অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে’র চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল প্রয়োজন হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন শিক্ষকরা

বদলির আবেদন শুরু হলে শিক্ষকরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য দিয়ে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারবেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ট্রেডের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ রয়েছে, তা দেখার সুযোগ থাকবে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পদ খালি থাকলে শিক্ষকরা সেখানে বদলির আবেদন করতে পারবেন।

বদলি কার্যক্রমে একটি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি পদ নতুন করে শূন্য হলে সেটিও পরবর্তী ধাপে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষক এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হলে তিনি যে পদটি ছেড়ে যাবেন, সেটি নতুন শূন্য পদ হিসেবে সফটওয়্যারে যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে ওই পদে অন্য কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর আবেদনকারীর সংখ্যা ও শূন্য পদের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

মন্তব্য করুন

বদলির পর নতুন প্রতিষ্ঠানে বেতন কার্যকর নিয়ে অনিশ্চয়তায় কারিগরি শিক্ষকরা

কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম এগোলেও বদলির পর নতুন কর্মস্থলে বেতন-ভাতা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ সংক্রান্ত সফটওয়্যার ব্যবস্থা চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর বেতন পেতে শিক্ষকদের জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বদলির পর একজন শিক্ষকের বেতন নতুন প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে এ কাজে ব্যবহৃত আগের সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে অধিদপ্তরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে নতুন একটি সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বদলি কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো নতুন কর্মস্থলে শিক্ষকের বেতন কার্যকরের সফটওয়্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নতুন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “যে প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষক বদলি হবেন, সেখানে তাঁর বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। এটি শেষ পর্যায়ের একটি বিষয়। আগের সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। নতুন কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। চুক্তি হয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে।”

তবে সফটওয়্যার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বদলি কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, “দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ যেকোনো একটি কোম্পানির সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়ে যাবে।”

শূন্যপদ নিয়েও জটিলতা

এদিকে শিক্ষকদের বদলির আগে প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। বদলি কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে এমপিও-টিটিএস সফটওয়্যারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তবে সফটওয়্যারে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বাস্তব পরিস্থিতির মিল না থাকায় শূন্যপদ নির্ধারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোন প্রতিষ্ঠানে কতটি পদে শিক্ষক বদলি করা যাবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বদলি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে একদিকে যেমন শূন্যপদের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তেমনি বদলির পর নতুন কর্মস্থলে শিক্ষকদের বেত

মন্তব্য করুন

সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষা আজ, প্রতি আসনে লড়বেন দুই শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) অধীন সরকারি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৮০ হাজারের বেশি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

চলতি শিক্ষাবর্ষে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার আসনের বিপরীতে ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। ফলে গড়ে প্রতি আসনের বিপরীতে দুইজনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান ও অ্যাপটিটিউড টেস্টের ওপর মোট ৭০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, গণিতে ২০, সাধারণ বিজ্ঞানে ২০ এবং অ্যাপটিটিউড টেস্টে ১০ নম্বর থাকবে। এর সঙ্গে এসএসসির জিপিএ (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) থেকে আরও ৩০ নম্বর যোগ করা হবে।

বিটিইবির অধীনে বর্তমানে ৫০টি সরকারি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি সাধারণ পলিটেকনিক, চারটি মহিলা পলিটেকনিক এবং দুটি বিশেষায়িত বা মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট।

ভর্তি পরীক্ষা শেষে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর আগামী ১১ অক্টোবর থেকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একসময় ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। ২০১৬ সালে এ পদ্ধতি বাতিল করে এসএসসির জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে জিপিএভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতিও বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়।

মন্তব্য করুন

ভাড়া বাড়িতে দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা অনুমোদনের নতুন নীতিমালা

 

সরকার নতুন নীতিমালা জারি করে ভাড়া বাড়িতে দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির অনুমতি দিয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের পুরোনো নীতিমালা সংশোধন করে ‘বেসরকারি মাদ্রাসা (দাখিল ও আলিম) স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।


ভাড়া বাড়িতে মাদ্রাসা অনুমোদন

নীতিমালায় বলা হয়েছে—

  • সিটি করপোরেশন, শিল্প এলাকা ও পৌরসভায় ভাড়া বাড়িতে মাদ্রাসা স্থাপন করা যাবে।

  • ভাড়ার চুক্তিপত্র কমপক্ষে ৬ বছরের হতে হবে।

  • মাদ্রাসার নামে ব্যাংকে অন্তত ৫ লাখ টাকার ডিপোজিট থাকতে হবে।

  • ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, মিশন, এনজিও, ফাউন্ডেশন বা দাতব্য সংস্থা এসব মাদ্রাসা পরিচালনা করতে পারবে।


দূরত্ব ও জনসংখ্যার শর্ত

  • সিটি করপোরেশন, শিল্প এলাকা ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে ১ কিলোমিটার, আলিম মাদ্রাসার মধ্যে ২ কিলোমিটার দূরত্ব থাকতে হবে।

  • মফস্বলে দাখিল মাদ্রাসার জন্য দূরত্ব হবে ২ কিলোমিটার, আলিমের জন্য ৩ কিলোমিটার।

  • দাখিল মাদ্রাসা স্থাপনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ন্যূনতম ১০ হাজার মানুষ থাকতে হবে।

  • আলিম মাদ্রাসার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জনসংখ্যা হতে হবে ৪০ হাজার।


পাঠদানের অনুমোদন

  • দাখিল সহশিক্ষা মাদ্রাসায় প্রতি শ্রেণিতে গড়ে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।

  • দাখিল বালিকা মাদ্রাসায় প্রতি শ্রেণিতে গড়ে ২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।

  • আলিম সহশিক্ষা মাদ্রাসায় প্রতি শ্রেণিতে গড়ে ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং আলিম বালিকা মাদ্রাসায় গড়ে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।


বিশেষ ছাড়ের বিধান

নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনগ্রসর এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল, দ্বীপ, বস্তি, নারী শিক্ষা বা সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা যাবে।

  • সিটি করপোরেশন, শিল্প এলাকা ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় জনসংখ্যার শর্ত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

  • তবে সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া কোনো মাদ্রাসার অনুমোদন মিলবে না।


শিক্ষা বোর্ডের মন্তব্য

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন,
“অনেক প্রাইভেট মাদ্রাসা আগে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিতো। এখন তারা নিজেদের নামে পরীক্ষা দিতে পারবে। সরকার আর্থিকভাবে ব্যয় বহন করছে না, অথচ এসব প্রতিষ্ঠান ভালো পারফর্ম করছে। তাই তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত থাকবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে হবে।”


দেশে মাদ্রাসার বর্তমান চিত্র (সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী)

  • স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা (প্রথম–পঞ্চম শ্রেণি): ৩,৪৩৩টি (এমপিওভুক্ত ১,৫১৯টি, শিক্ষক ৪,৪৩১ জন)

  • দাখিল মাদ্রাসা (ষষ্ঠ–দশম শ্রেণি): ৬,৫৯৩টি (এমপিওভুক্ত ৫,৩৭১টি, শিক্ষক ৭০,৯৮২ জন)

  • আলিম মাদ্রাসা (একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি): ১,৫৫৮টি (এমপিওভুক্ত ৯৮২টি, শিক্ষক ২০,০৮১ জন)

  • কামিল মাদ্রাসা (স্নাতকোত্তর স্তর): ২১৯টি (এমপিওভুক্ত ১৪৫টি, শিক্ষক ৫,০৭৯ জন)

  • এমপিওবিহীন মাদ্রাসা: প্রায় ১,৭৩০টি

সব মিলিয়ে, এমপিও ও নন-এমপিও উভয় ধরনের মাদ্রাসাই সরকারের অনুমোদন নিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে।

মন্তব্য করুন

সফটওয়্যার সমস্যায় আটকে বদলি, সময় বাড়ানোর চিন্তা ডিটিইর

সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতায় বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার সময় বাড়ানোর কথা ভাবছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিটিই)। বর্তমানে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার শেষ সময় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা নির্ধারিত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো তথ্য দিতে পারছে না।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক শূন্যপদের তথ্য নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের পরও তথ্য দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নতুন এমপিও-টি-টি-এস (MPO-TTS) সফটওয়্যারে প্রবেশ করে শূন্যপদের চাহিদা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই সফটওয়্যার নিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। কোথাও প্রতিষ্ঠানের ধরন ভুল দেখাচ্ছে, কোথাও কাঙ্ক্ষিত বিষয় বা পদের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ই-মেইল-সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যারে প্রবেশই করতে পারছে না।

এসব সমস্যা জানিয়ে এখন পর্যন্ত সফটওয়্যারের ‘মন্তব্য’ ঘরে দুই শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তবে এ সংখ্যা সমস্যায় পড়া শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা নয়; এটি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জমা দেওয়া অভিযোগের সংখ্যা।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহৃত ইএফটি (EFT) সিস্টেমে থাকা ২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নতুন বদলি সফটওয়্যারে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানান্তরের সময় কিছু তথ্য সঠিকভাবে না আসায় নতুন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।

এর ফলে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ইনস্টিটিউট টাইপ’ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। যেমন, স্বতন্ত্র এইচএসসি ক্যাটাগরির কোনো প্রতিষ্ঠানকে সফটওয়্যারে সংযুক্ত এইচএসসি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয় ও পদের তালিকাতেও অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। এতে শূন্যপদের সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

ই-মেইল-সংক্রান্ত সমস্যাও জটিলতা বাড়িয়েছে। এর আগে ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত বা ভুল ই-মেইল ব্যবহার করায় ওটিপি পাওয়া ও লগইনে সমস্যা হচ্ছে। কোথাও একই ই-মেইল দিয়ে একাধিক ব্যবহারকারী প্রবেশের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, সফটওয়্যারে পাওয়া অসঙ্গতিগুলো যাচাই করে সংশোধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য নিশ্চিত না করে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে চায় না অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের এমপিও শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংযুক্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান এখনো শূন্যপদের চাহিদা দিতে পারছেন না। যদি সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক শূন্যপদের সংখ্যা না জানতে পারি, তাহলে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে পারব না। তাই সময় বাড়ানোর চিন্তা করছি।’

তিনি বলেন, সফটওয়্যার নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সফটওয়্যারের ‘কমেন্ট বক্সে’ সমস্যার কথা জানানো যাবে। ই-মেইল জটিলতার কারণে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলো অফিস চলাকালে ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ দিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি কেন্দ্রে বিনা মূল্যে পাঁচটি কোর্সে প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৪ জুলাই পর্যন্ত

বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি কেন্দ্র
বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি কেন্দ্র

বাংলাদেশ–জার্মান কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের 'অ্যাসেট' (ASSET) প্রকল্পের অধীনে কর্মসংস্থানের উপযোগী পাঁচটি স্বল্পমেয়াদি কোর্সে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বিশেষ সুবিধা হলো, এই কোর্সটিতে সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আগ্রহী নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষণার্থীদের আগামী ২৪ জুলাই ২০২৫, বিকেল চারটার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

কোর্স ও যোগ্যতা:

কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী মোট পাঁচটি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোর্সের ভিত্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিন্নতা রয়েছে:

কোর্সের নাম

শিক্ষাগত যোগ্যতা

প্রশিক্ষণার্থী

১. ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (ইআইএম)

অষ্টম শ্রেণি

নারী ও পুরুষ

২. টেইলরিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং

অষ্টম শ্রেণি

নারী ও পুরুষ

৩. রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং

অষ্টম শ্রেণি

নারী ও পুরুষ

৪. কম্পিউটার অপারেশন

এসএসসি পাস

শুধু নারী

৫. ক্যাড অপারেশন

এসএসসি পাস

শুধু নারী

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুবিধা:

  • কোর্সের মেয়াদ: ৩ মাস (৩৬০ ঘণ্টা)।

  • আসনসংখ্যা: প্রতিটি কোর্সে ২৪টি করে আসন রয়েছে।

  • ভাতা: প্রশিক্ষণার্থীরা অ্যাসেট প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সব সুবিধা ও ভাতা পাবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া ও সময়সূচি:

আগ্রহী প্রার্থীরা নিম্নোক্ত কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে পারবেন:

  • প্রার্থীর তিন কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার ফটোকপি।

ধাপ

তারিখ

সময়

আবেদনের শেষ তারিখ

২৪ জুলাই ২০২৫

বিকেল ৪টা পর্যন্ত

ভর্তি পরীক্ষা (লটারি বা সাক্ষাৎকার)

২৮ জুলাই ২০২৫

সকাল ৯টায় (নিজ নিজ ট্রেডে)

ফলাফল প্রকাশ ও ভর্তি

২৯ জুলাই ২০২৫

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত

অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি

৩০ জুলাই ২০২৫

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত

ক্লাস শুরুর তারিখ

৩ আগস্ট ২০২৫

-

মন্তব্য করুন
×