কারিগরি শিক্ষকদের বদলি হবে কয়েক ধাপে, মিলেছে ৯০০ শূন্য পদের তথ্য
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথম ধাপেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বদলি কার্যক্রমের জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে চূড়ান্তভাবে শূন্য পদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে কতজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, বদলির জন্য প্রয়োজনীয় শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। এ পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার পর মোট শূন্য পদের সংখ্যা জানা যাবে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে কর্মরত আছেন। তাঁদের বদলির ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদ বা বিষয়ের শূন্যতা রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা অনলাইনে বিভিন্ন পদ ও বিষয়ের বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা জানাচ্ছেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর ই-মেইল তৈরি ও তথ্য দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া না গেলেও পরবর্তী সময়ে তা সংগ্রহ করা হবে।
সফটওয়্যারের মাধ্যমে হবে বদলি
এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ই-মেইল তৈরি করে ৩০ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা বলা হয়।
অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে’র চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল প্রয়োজন হবে।
যেভাবে আবেদন করবেন শিক্ষকরা
বদলির আবেদন শুরু হলে শিক্ষকরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য দিয়ে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারবেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ট্রেডের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ রয়েছে, তা দেখার সুযোগ থাকবে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পদ খালি থাকলে শিক্ষকরা সেখানে বদলির আবেদন করতে পারবেন।
বদলি কার্যক্রমে একটি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি পদ নতুন করে শূন্য হলে সেটিও পরবর্তী ধাপে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষক এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হলে তিনি যে পদটি ছেড়ে যাবেন, সেটি নতুন শূন্য পদ হিসেবে সফটওয়্যারে যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে ওই পদে অন্য কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর আবেদনকারীর সংখ্যা ও শূন্য পদের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।