জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা নিতে গাজীপুরে আসতে হবে না শিক্ষার্থীদের

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন, কলেজ পরিবর্তন ও টিসি নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে আসতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই এসব সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য বলেন, আগে প্রফেশনাল ও ফাইনাল সার্টিফিকেট নিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে গাজীপুরে এসে আবেদন করতে হতো। বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যেরও অভিযোগ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করবেন। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেবেন। এরপর অনলাইনেই আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ফাইনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।’

কলেজ থেকেই মিলছে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট

উপাচার্য জানান, প্রভিশনাল সার্টিফিকেটগুলো সংশ্লিষ্ট কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজ থেকেই তা সংগ্রহ করতে পারছেন। আর ফাইনাল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে অনলাইনে প্রস্তুতির তথ্য দেখে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র নিয়েও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র ছিল ছয়টি। পরে আরও ছয়টি বাড়িয়ে বর্তমানে ১২টি করা হয়েছে।

দুই জেলায় একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিকল্পনা

অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের মূল টার্গেট হলো প্রতি দুই জেলায় একটি করে আঞ্চলিক কেন্দ্র করে ৩২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র করা। শুধু আঞ্চলিক কেন্দ্র নয়, আট বিভাগে আটটি ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

এসব আঞ্চলিক ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর কার্যক্রমও পরিচালনা ও তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলো প্রতিষ্ঠা করা হলে বর্তমানে গাজীপুরে থাকা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ফ্যাসিলিটি ধীরে ধীরে এসব ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে।

এক বছরের মধ্যে পেপারলেস হওয়ার লক্ষ্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী এক বছরের মধ্যে পেপারলেস করার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে জানান উপাচার্য। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ নথি ই-নথির আওতায় এসেছে। বাকি নথিগুলোও ধাপে ধাপে ই-নথিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে ক্যাশলেস করা হয়েছে। সেখানে কোনো নগদ লেনদেন করা হয় না। বাকি ছোটখাটো কিছু ক্ষেত্রও শতভাগ ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রয়োজন বন্ধ করতে চাই’

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা নিতে ব্যক্তিগতভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য বলেন, ‘নাম সংশোধন, কলেজ ট্রান্সফার, টিসি নেওয়া কিংবা সার্টিফিকেট উত্তোলনের মতো কাজ এখন অনলাইনেই শেষ করা যাচ্ছে। এসব কাজের জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। যে মাইন্ডসেট—আমাকে একটু যেতে হবে, একটু কথা বলতে হবে, কোনো একজন অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে—সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি সরাসরি আসবে এবং পারসন টু পারসন যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই বিভিন্ন ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ থাকে। তাই সেবাগুলোকে যতটা সম্ভব অনলাইননির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন কিংবা কলেজে টিসি নেওয়ার মতো সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে আসতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘প্রফেশনাল হোক বা ফাইনাল—কোনো ধরনের সার্টিফিকেটের জন্যই শিক্ষার্থীদের যেন ক্যাম্পাসে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এক কথায়, সারা বাংলাদেশের ছাত্র ও শিক্ষকদের শুধু মডারেশন ও প্রশ্ন করার বিষয় ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে যাতে আসতে না হয়, সেদিকে আমরা হাঁটছি।’

মন্তব্য করুন

শিক্ষকতা মহান পেশা, কিন্তু মান-মর্যাদায় পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা

শিক্ষকতাকে দীর্ঘদিন ধরে মহান পেশা হিসেবে অভিহিত করা হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মান-মর্যাদা ও আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব পর্যায়ের শিক্ষকই বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদা নিয়ে অসন্তুষ্ট।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৬২০টি, যেখানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি সহকারী শিক্ষক এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদায় আছেন। তাঁরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান—যেখানে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা, মোট বেতন প্রায় ১৮ হাজার টাকার মতো। যদিও প্রধান শিক্ষকদের সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে, তবুও এখনো তাঁরা সমপদের পূর্ণ বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।


 প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন

সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রাথমিক সহকারী সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
তাদের তিন দফা দাবি হলো—
► সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ,
► চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়ন,
► প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের প্রতিবার আশার বাণী দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমি ১৬ বছর চাকরি করছি, এখনো ১৩তম গ্রেডে বেতন পাই। শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হন, পাঠদানে মনোযোগী হবেন কিভাবে?”


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র

বাংলাদেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, যেখানে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যাদের বিএড নেই, তাঁরা ১১তম গ্রেডে ১২,৫০০ টাকা মূল বেতন পান। আর বিএডধারীরা ১০ম গ্রেডে যান, যেখানে মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা। তাঁদের বাড়িভাড়া ১,০০০ টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা।

কলেজ পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নবম গ্রেডে ২২,০০০ টাকা মূল বেতন পান। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা তাঁরা পান না। সম্প্রতি উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।


 নন-এমপিও শিক্ষকদের দুরবস্থা

দেশে এখনো ৬,৫০০ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা কোনো সরকারি বেতন পান না।
এছাড়া অনার্স-মাস্টার্স কলেজে প্রায় ৫,৫০০ শিক্ষক এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক একই অবস্থায় আছেন।
তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি— এমপিওভুক্তির আওতায় আনা এবং পূর্ণাঙ্গ ভাতা নিশ্চিত করা।

এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।


 শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য : 

বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার বলেন,

“ইউনেসকোর ১৯৯২ সালের সনদে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা থাকবেন সব পেশার ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশ সেই সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা এখনো বেতন-ভাতায় সবচেয়ে পিছিয়ে। অভাব-অনটনে ভালো শিক্ষাদান আশা করা যায় না।”তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের অবহেলা, হেনস্তা, চাকরিচ্যুতি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা চাই, আগামী দিনে সরকার যেই হোক না কেন, শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিক।”


🎓 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাস্তবতা

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মোট ১৭২টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে—সরকারি ৫৬টি এবং বেসরকারি ১১৬টি।

কয়েকটি নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের বেতন দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকরা নামমাত্র বেতন পান।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।


🌍 আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান

দেশ

পদ/ মূল বেতন (প্রায়)

বাংলাদেশ

প্রভাষক – ২২,০০০ টাকাঅধ্যাপক – ৬৪,৬০০ টাকা

ভারত

সহকারী অধ্যাপক – ৫৫,০০০ টাকাসহযোগী অধ্যাপক – ৯০,০০০ টাকাঅধ্যাপক – ১,১০,০০০ টাকা

পাকিস্তান / শ্রীলঙ্কা

তুলনামূলকভাবে উন্নত বেতন ও ভাতা

অধিকাংশ দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রভাষকের পদ নেই—শুরু হয় সহকারী অধ্যাপক থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক মানে বাংলাদেশের শিক্ষকরা অনেকটাই পিছিয়ে।


 

শিক্ষকতা পেশা মহান হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মর্যাদা, পদোন্নতি ও আর্থিক নিরাপত্তায় পিছিয়ে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব স্তরেই রয়েছে বেতন বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও আন্দোলনের ইতিহাস।
ইউনেসকোর এবারের প্রতিপাদ্য— “শিক্ষকতা পেশা : মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি”—এই আহ্বানটিই যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের শিক্ষকদের।

মন্তব্য করুন

ঢাবিতে বাংলা শিখতে আগ্রহ বাড়ছে চীনা শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা শেখা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার প্রতি চীনা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেওয়া চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় চলতি বছর অংশগ্রহণকারী চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।

শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যাই নয়, এ কোর্সে অংশ নেওয়া চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, চীনা শিক্ষার্থীদের এ আগ্রহ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময় আরও জোরদার হওয়ারই প্রতিফলন।

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ ও ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেন।

পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ জনে। সে বছর ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি ও বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষার্থীরা কোর্সটিতে অংশ নেন।

চলতি বছর এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৬ জন হয়েছে। এবার ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি, কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটি এবং গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।

উপাচার্যের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

এদিকে সোমবার বাংলা ভাষা বিষয়ে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভাষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার কথাও উপাচার্যের কাছে জানান।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনার পর উপাচার্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের খাবার, ওয়াই-ফাই, আবাসনসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন সুবিধা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চীনা শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখার এ আগ্রহ দুই দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাশোনার সুযোগও তৈরি করছে।

মন্তব্য করুন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের লং মার্চ ঘোষণা

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা শিক্ষাভবন অভিমুখে লং মার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“আমরা এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে এক কদম পিছিয়ে আসা মানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আশা ও আত্মত্যাগকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, বহু প্রতীক্ষিত এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি না হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“এই আন্দোলন শুধু দাবি নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ইতিহাসে এত সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও পরিণত আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। আমরা আমাদের শেষ পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।”

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের জন্য একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে—

  • সায়েন্স স্কুলে থাকবে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ

  • আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ স্কুলে থাকবে সরকারি বাংলা কলেজ

  • বিজনেস স্কুলে অন্তর্ভুক্ত হবে সরকারি তিতুমীর কলেজ

  • ল অ্যান্ড জাস্টিস স্কুলে থাকবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুসারে শিক্ষার্থীরা প্রথম চার সেমিস্টারে সাধারণ নন-মেজর কোর্স করবে, এরপরের চার সেমিস্টারে নির্দিষ্ট বিষয়ে (ডিসিপ্লিনভিত্তিক) অধ্যয়ন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস এমন স্থানে স্থাপন করা হবে, যা সব শিক্ষার্থীর জন্য যাতায়াত-সুবিধাজনক হবে। ক্লাস নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

খসড়া কমিটির সদস্য তানজিমুদ্দিন খান বলেন,“আমাদের দায়িত্ব ছিল খসড়া তৈরি করা। আমরা তা সম্পন্ন করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।”

উল্লেখ্য, সাত কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু এরপর থেকেই নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতা দেখা দেয়, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনে নামে। দীর্ঘদিনের সেই জটিলতার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, কলেজগুলোকে পুনরায় পৃথক করা হবে। পরে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট পৃথকীকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

মন্তব্য করুন

ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে ১৮ কোটি মানুষ: ভিপি সাদিক

ভারতের বিরুদ্ধে শুধু ১১ জন না, ১৮ কোটি মানুষ খেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাবি মহসিন হলের মাঠে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখতে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাদিক বলেন, আমরা এতদিন ভারতের আধিপত্যের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে সে আধিপত্য ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি আজকে জিতব।

তিনি বলেন, আজকে শুধু মাত্র ভারতের বিরুদ্ধে ১১ জন খেলছে না, খেলছে ১৮ কোটি মানুষ।

মন্তব্য করুন

ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে অনলাইন ক্লাস

আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রথমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস চালুর কথা জানিয়েছে।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক জরুরি নোটিশে জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনিবার্য কারণে স্থগিত থাকবে, তবে পরীক্ষা চলবে। পরবর্তী দিনের (১৪ নভেম্বর) কার্যক্রম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস ও শাটল সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক দপ্তর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

স্কুলগুলোর মধ্যেও অনলাইন ক্লাস ও বন্ধের সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিউ ইস্কাটনের এজি চার্চ স্কুল নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আজ ও আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

সব প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ‘অনিবার্য কারণে’ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা

ইনকোর্স পরীক্ষায় নম্বর পেতে হলে ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও ছবি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর পেতে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা আবশ্যক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে দুটি মানদণ্ডে—ক্লাসে উপস্থিতি ও ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর। উপস্থিতি বা ইনকোর্সের যেকোনো একটি বাদ পড়লে পরীক্ষার ফরম পূরণ করা যাবে না।

শনিবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১২ অক্টোবর। পরীক্ষা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—প্রথম ধাপ ১২ থেকে ২৩ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৬ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষায় ১৫ শতাংশ এবং ক্লাসে উপস্থিতিতে ৫ শতাংশ নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ২০ শতাংশ নম্বর কেবল ইনকোর্স পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে পরীক্ষা নেবে এবং শিক্ষকরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত সময় অনুযায়ী অনলাইনে ইনকোর্স নম্বর এন্ট্রি দিতে হবে। একবার নম্বর এন্ট্রি দেওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মূল্যায়িত উত্তরপত্র, হাজিরাপত্র এবং ইনকোর্স নম্বরপত্রের কপি সিলমোহর দিয়ে গাজীপুর ক্যাম্পাস বা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×