যবিপ্রবি শিক্ষার্থী তোহার আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জয়

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন (ডব্লিউ-আই-সি-ই) ২০২৫-এ স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মো. তোহা বিন আছাদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ২১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ আসরে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশ থেকে দেড় হাজারের মতো প্রতিযোগী প্রকল্প নিয়ে অংশ নেয়। সেখানে তোহা ও তার সহযাত্রী জাহিদ হাসান জিহাদ এবং তাদের দল ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ প্রকল্প নিয়ে অংশ নেন এবং আইটি অ্যান্ড রোবোটিকস ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক জয় করেন।

উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহী এই তরুণ গবেষণামুখী শিক্ষার্থী সবসময়ই স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখার। এরই ধারাবাহিকতায় হেক্সাগার্ড রোভার প্রকল্পটি একটি উদ্ভাবনী রোবোটিক সিস্টেম, যা দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজ, নজরদারি এবং দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

স্বর্ণপদক জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে দ্বীপ বলেন, স্বর্ণপদক অর্জনের সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। বাংলাদেশের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে যখন ঘোষণা করা হলো আমরা স্বর্ণপদক পেয়েছি, তখন মনে হয়েছিল—এটাই জীবনের অন্যতম গর্বের অর্জন। আমার পরিবার আনন্দে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকরাও গভীর গর্ব অনুভব করেছেন এবং বলেছেন, এ অর্জন যবিপ্রবির জন্যও একটি সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি পদক নয় বরং বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি বিশ্বাস করি, এই সাফল্য আগামীতে দেশের আরও তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে।

মন্তব্য করুন

ঢাবিতে বাংলা শিখতে আগ্রহ বাড়ছে চীনা শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা শেখা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার প্রতি চীনা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেওয়া চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় চলতি বছর অংশগ্রহণকারী চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।

শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যাই নয়, এ কোর্সে অংশ নেওয়া চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, চীনা শিক্ষার্থীদের এ আগ্রহ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময় আরও জোরদার হওয়ারই প্রতিফলন।

আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ ও ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেন।

পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ জনে। সে বছর ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি ও বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটি থেকে শিক্ষার্থীরা কোর্সটিতে অংশ নেন।

চলতি বছর এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৬ জন হয়েছে। এবার ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি, কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটি এবং গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।

উপাচার্যের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ

এদিকে সোমবার বাংলা ভাষা বিষয়ে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভাষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার কথাও উপাচার্যের কাছে জানান।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনার পর উপাচার্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের খাবার, ওয়াই-ফাই, আবাসনসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন সুবিধা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চীনা শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা শেখার এ আগ্রহ দুই দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাশোনার সুযোগও তৈরি করছে।

মন্তব্য করুন

এইচএসসির নিম্নমুখী ফল, ভর্তিযুদ্ধে নামছে শিক্ষার্থীরা

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৩ লাখ আসন; তবু শঙ্কা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

নিম্নমুখী এমন ফলাফলে অনেক শিক্ষার্থী মন খারাপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। কারণ, সামনে তাদের অপেক্ষা করছে কঠিন ‘ভর্তিযুদ্ধ’।

ভর্তিযুদ্ধের সামনে শিক্ষার্থীরা : দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলে উচ্চশিক্ষার স্তরে প্রায় ১৩ লাখ আসন রয়েছে। কিন্তু এবার পাস করেছেন মাত্র ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, আসন ফাঁকা থাকবে ৬ লাখেরও বেশি।

তবুও প্রতিযোগিতা থাকবে শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে; এর মধ্যে ৫৩টিতে চলছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টালে আরও প্রায় ৫ হাজার আসন রয়েছে।
ফলে এই ২০-২২টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে সবচেয়ে তীব্র।

🎓 শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

শিক্ষার্থীদের প্রধান টার্গেট বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষ ২০-২২টি বিশ্ববিদ্যালয়।

নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, “প্রত্যাশা ছিল গোল্ডেন জিপিএ-৫। তা হয়নি। এখন লক্ষ্য বুয়েট— না হলে ঢাবি বা কুয়েট-চুয়েট।”

অন্যদিকে ভিকারুননিসা নূন কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা বলেন, “ঢাকাতেই পড়তে চাই। তাই ঢাবি প্রথম টার্গেট। না হলে রাজশাহী বা জাহাঙ্গীরনগরেও চেষ্টা করবো।”

🏫 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিকল্প

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী—প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে আসন: ৬,৩৪০টি      প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে: ১,৩৫০টি        আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে: ৩৫০টি

এছাড়া শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে ১,৮৬,৮৯৯টি আসন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩,৬৩০টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৮,৫৮,২৭৫টি (অনার্স ও পাস কোর্স মিলিয়ে) আসন রয়েছে।এছাড়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪,৫২৯টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭,৫৯৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজে ১,৪৪০টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে ৫,৬০০টি আসন রয়েছে।

📊 বিশেষজ্ঞের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে আসন সীমিত। ফলে সবাই সুযোগ পাবে না। শিক্ষার্থীদের উচিত বিকল্প সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। সরকারেরও উচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে সেখান থেকেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়।”

 

ধরন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট আসন মন্তব্য
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৩ ৫০,০০০ উচ্চ প্রতিযোগিতা
সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৫,০০০ সীমিত আসন
প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৭,৬৯০ বেশি খরচ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০+ ১,৮৬,৮৯৯ বিকল্প সুযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৬৪ কলেজ ৮,৫৮,২৭৫ তুলনামূলক সহজ ভর্তি
অন্যান্য (উন্মুক্ত, নার্সিং, টেক্সটাইল, মেরিন ইত্যাদি) - ১,০০,০০০+ বিভিন্ন সুযোগ

 “ভর্তিযুদ্ধে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়”
📍বুয়েট, 📍ঢাবি, 📍রাজশাহী, 📍চট্টগ্রাম, 📍জাহাঙ্গীরনগর, 📍জগন্নাথ, 📍শাহজালাল, 📍খুলনা, 📍বরিশাল ও 📍মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেখানো থাকবে।

মন্তব্য করুন

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যুতে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার-রাকসু জিএসের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা

রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় রেজিস্ট্রারের কক্ষে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আম্মার রেজিস্ট্রারের সাথে কথোপকথন শুরু করেন এবং জানতে চান তিনি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। রেজিস্ট্রার তাকে ১০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এ সময় আম্মার অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি আটকে রেখেছেন। রেজিস্ট্রার উত্তরে বলেন, তিনি চিঠি আটকে রাখেননি। এর পরে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যালাপ শুরু হয়।

রেজিস্ট্রার সিপিএসের উপস্থিত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা কারা?” শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। রেজিস্ট্রার তাঁদের অফিসে আসার অনুমতি দেন, কিন্তু আম্মার বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, আমাদেরও কথা বলার অধিকার আছে।”

রেজিস্ট্রার তখন আম্মারকে তর্ক করেন কেন তিনি অনুমতি না নিয়ে ভিতরে ঢুকেছেন এবং বলেন, গেট আউট। আম্মার তার শিক্ষার্থীর অধিকারকে সামনে রেখে ভিতরে থাকতে চান। এ সময় এনসিপির নেতারা নিশ্চিত করেন, তারা বিএনপির কেউ নন, বরং এনসিপির নেতাকর্মী।

ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে আম্মার উল্লেখ করেন, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ আন্দোলন ২৩ দিন ধরে চলছিল। উপাচার্য বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, যা রবিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের অফিসে আটকে থাকে। এতে ছাত্রদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, এই জরুরি বিষয় দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন ছিল।

অন্যদিকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তিনি সকাল থেকেই চিঠি ইস্যুর জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো যাচাই করছিলেন। এরপর অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার কারণে কিছু কাজ শেষ করা বাকি ছিল। ছাত্ররা যখন এল, তখনও তিনি ভদ্রভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আম্মারের উপস্থিতি বা রাজনীতি এতে কোনো প্রভাব রাখেনি। এছাড়াও রেজিস্ট্রার স্পষ্ট করেছেন, রুমে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এনসিপির নেতাকর্মীদেরকে ভুলক্রমে বিএনপি মনে হওয়ায় এই ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।

উভয় পক্ষের বিবরণে দেখা যায়, এই উত্তেজনা মূলত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যু, প্রশাসনিক ফর্মালিটি এবং দপ্তরে অননুমোদিত প্রবেশের কারণে ঘটে।

মন্তব্য করুন

৩ জানুয়ারি কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা

৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি
৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি


২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন।

তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সব সমন্বয় করবে গাকৃবি। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ACAS–এর অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, আসন বিন্যাস এবং প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তথ্য পরে জানানো হবে।

কৃষি গুচ্ছের আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের খাতা পুনর্মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল শুক্রবার থেকে এ আবেদন শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন এক-দুই দিনের মধ্যেই শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে তাদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।

যেভাবে আবেদন ও ফি জমা দিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে সিস্টেম থেকে পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।

পে-স্লিপের মাধ্যমে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ফি পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের Online Payment Gateway ব্যবহার করেও ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অনলাইনে ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ, বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া AMERICAN EXPRESS, VISA, DBBL, NEXUS ও MASTER CARD-এর মাধ্যমেও ফি দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীরা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

ফি পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

সময়সীমা মেনে আবেদন করতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আবেদন ফরম পূরণ করা যাবে না। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা ফি জমা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য হবে না।

ব্যাংকের প্রচলিত অন্য কোনো ফরম ব্যবহার করে ফি জমা দিলে পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

আবেদন ফরম বা পে-স্লিপের কোনো কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।

এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি পত্রে ১ হাজার ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত তথ্য জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

প্রশাসনিক ভবনে তালা, দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনটির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষকরা জানান, রোববার দুপুর থেকে তারা প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও অংশ নেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো এবং আন্দোলন করেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনিক কালক্ষেপণের কারণে তাদের একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে তারা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না।

তাদের একমাত্র দাবি, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

অধ্যক্ষ বদলির আদেশও প্রত্যাখ্যান

আন্দোলনের মধ্যেই রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবারের মধ্যে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীরা এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। নতুন করে যাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাকেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউন থাকবে।’

‘দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ’

প্রশাসনিক ভবনে আটকা পড়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে দাবি, তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। তবু তারা আমাদের আটকে রেখেছে। আমরা দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কলেজের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য করুন
×