বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করবে মাউশি

৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাউশি জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

গঠন হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য মাউশির মহাপরিচালক একটি প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করেছেন।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচন করা হবে।

যেসব শর্ত মানতে হবে

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই পত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা অফিস আদেশসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণক জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময় বাড়ল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদনের পূর্বনির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। শিক্ষকদের অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুতে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ, জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

অনুমোদন পেল ৯ম জাতীয় পে-স্কেল, প্রজ্ঞাপন রোববার

প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা। আগামী রোববার অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থসচিব বলেন, রোববার অর্থ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তখন নতুন বেতনকাঠামোর সব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত নতুন বেতনস্কেল ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

২০টি গ্রেডই বহাল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

কমেছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান

নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমানো হয়েছে।

বর্তমানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫। নতুন পে-স্কেলে এ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

ফলে নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।

মন্তব্য করুন

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নবম পে স্কেল, প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবারের মধ্যে

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন গ্রেড ও বেতন বৃদ্ধির হার কত হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নবম পে স্কেল নিয়ে গত দুদিন ধরে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এসব সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠক সংসদ ভবনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার করার সুপারিশ

নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কমিশনের হিসাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলেও তখন হিসাব দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার কত রাখা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সচিব কমিটির সুপারিশ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।

গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

ই-বুকে বলা হয়েছে, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে এবং সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিও শিক্ষকদের কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষক-কর্মচারীদের এ জন্য সশরীরে বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

একই সঙ্গে অবসর সুবিধার অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারক চক্রের খপ্পরে না পড়তে শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করেছে বোর্ড।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ আগস্ট থেকে পাঠানো অবসর সুবিধা ভাতার আবেদনকারীদের মধ্যে যারা এখনো ভাতা পাননি, শুধু তাদেরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সশরীরে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে এসব কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

আবেদনকারীদের আবেদনের রিসিটের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।

ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠাতে হবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের ঠিকানায়। পাশাপাশি শাখাভিত্তিক ই-মেইলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে। স্কুল শাখার জন্য school.terbb@gmail.com, কলেজ ও কারিগরি শাখার জন্য college.terbb@gmail.com এবং মাদ্রাসা শাখার জন্য madrasha.terbb@gmail.com ঠিকানায় কাগজপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিজ্ঞপ্তিতে অবসর সুবিধাপ্রত্যাশী শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে আইবাস++ অথবা ইএফটির মাধ্যমে অবসর সুবিধার অর্থ পৌঁছে যাবে। তাই এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া অবসর সুবিধা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ এবং অনলাইন আবেদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বোর্ডের নির্ধারিত মাধ্যম থেকে এসব তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল বদলেছে? একাদশে আবেদনের সুযোগ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলাফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থী এখন নতুন করে একাদশে ভর্তির আবেদন করতে অথবা আগে করা আবেদন পরিমার্জন করতে পারবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত ফলাফলগুলো ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তারা আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর আগে আবেদন করে থাকলে পছন্দক্রমসহ আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। যারা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

মন্তব্য করুন
×