দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, প্রস্তুত থাকবে সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

রোববার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব কিংবা ছবি আপলোডের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দুর্গাপূজা চলাকালে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ, সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।

সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউয়ের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ ও এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসানসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

মন্তব্য করুন

শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে নির্ধারিত আসনে বসেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমানসহ বিশিষ্টজন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিশেষ এ আয়োজনে শিশুদের অংশগ্রহণে থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া শিশুদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে ‘শৈশব’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী

কর্মসূচি অনুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি।

মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন। সেখানে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত আধুনিক সোলার প্যানেল ও সাবস্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

মন্তব্য করুন

৮ বিভাগে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ

দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সভায় বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জেলায় জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে। অথচ সরকারি মাদ্রাসা মাত্র তিনটি। এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক সভায় মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। আশা করছি, এ সরকারের আমলে এ বিষয়ে ভালো কিছু হবে।’

দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাত্র ৩টি

বর্তমানে দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে।

ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ১৭৮০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ঢাকার বকশীবাজারে বর্তমান স্থায়ী ক্যাম্পাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ১৯১৩ সালে আসাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধীনে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় এটি সিনিয়র মাদ্রাসা হিসেবে পুনঃস্থাপিত হয়। ১৯৩৩ সালে এটি নিউ স্কিম উচ্চ মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৩৫ সালে কামিল হাদিসের স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা ধারার প্রথম কামিল মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

সরকারি স্কুল-কলেজের তুলনায় মাদ্রাসা খুবই কম

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। সরকারি কলেজ রয়েছে ৭০৮টি। এছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে রয়েছে সরকারি স্কুল-কলেজের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯৪টি।

অন্যদিকে, দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৭টি, আলিম ১ হাজার ২৮৫টি, ফাজিল ৯৯৩টি এবং কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি। এছাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে ১ হাজার ২৫৮টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি স্কুল-কলেজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকলেও বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। সীমিত সুযোগের মধ্যেও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভালো করছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটসহ) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হচ্ছেন।

‘জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মানও বাড়বে’

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার তুলনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বর পেয়ে পড়াশোনা করছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।’

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা জাতীয়করণ হলে শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়বে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। তবে জাতীয়করণের বিষয়টি এখনো আলোচনা ও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

মন্তব্য করুন

গণতন্ত্রের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (১৬ নভেম্বর) প্রেস ক্লাবে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, দেশে রাজনীতি বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমান সময়টা জটিল সংকটে পড়েছে।

ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও কিছু গোষ্ঠি রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নেই, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এটি সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আসন্ন গণহত্যার রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন, যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি। বিএনপির প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে, কারণ তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ শিক্ষার গেজেট সোমবার

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় সুপারিশ পাওয়ার পরও গেজেটে নাম না থাকা শিক্ষা ক্যাডারের ৪৬ প্রার্থীর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে ৬৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে ৬৫৭ জন নিয়োগের জন্য বিবেচনায় ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে সরকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। এর আগে প্রয়োজনীয় কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইসহ নিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জনের নিয়োগ প্রকাশ করা হয়। এতে পিএসসির সুপারিশের পরও ৪৬ জনের নাম গেজেটে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘পিএসসি সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সকল যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে থাকে। নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

মন্তব্য করুন

ধর্ম-বর্ণ নয়, সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় যেন কোনো নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এমন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে টানা পাঁচ দিন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানান।

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান তিনি। দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজায় ৫ কোটি, বৌদ্ধ উৎসবে ৩ কোটি টাকা

মতবিনিময় সভা শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা চাওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

ইতালি পাঠানোর কথা বলে মালয়েশিয়ায় পাচার, ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ; পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং তার কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতারকুল এলাকার নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার ভেলানগর এলাকার স্বদেশ চন্দ্র দাসের ছেলে শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। পিবিআই জানিয়েছে, সুবোধ এই চক্রের মূল হোতা এবং শিমুল তার প্রধান সহযোগী।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী আব্দুর রউফকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তিতে রাজি করায় চক্রটি। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করা হয়।

পরে ২০২৫ সালের ৪ জুন ইতালি না পাঠিয়ে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে রউফকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

দেশে ফিরে বিষয়টি আসামিদের জানালে তারা ভুল স্বীকার করে আবারও ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয় এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। ইতালি যাওয়ার আশায় রউফ দফায় দফায় তাদের হাতে মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ইতালি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় চক্রটি। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুর রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনসহ পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা করা হয়।

পরে তদন্তকারী দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুর থেকে চক্রের মূল হোতা সুবোধকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর টাউয়াদী এলাকা থেকে সহযোগী শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা মানবপাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন
×