জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে সরকার

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই শহীদদের পরিবারের সন্তানদের বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাদের এই ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সন্তানদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে শহীদ পরিবারের সন্তানদের অবৈতনিক শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয় শাখা থেকে সহকারী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে গত রবিবার (২০ অক্টোবর) বিষয়টি জানানো হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ২১ সেপ্টেম্বর পাঠানো একটি চিঠির নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে

মন্তব্য করুন

নতুন করে উপবৃত্তি পাবেন ৫৯ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরকারি এ সহায়তার আওতায় আসবেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি বিতরণ ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় সহায়তা প্রদান’ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য DTE Stipend MIS সফটওয়্যারে প্রোফাইল তৈরি ও লগইন করতে প্রয়োজনীয় User ID এবং বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো হবে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন অন্তর্ভুক্ত ৫৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে DTE Stipend MIS সফটওয়্যারে আগের User ID পুনরুদ্ধার করে উপবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বরিশাল অঞ্চলের ‘ব্যাংকেরহাট কো-অপারেটিভ (ডিগ্রি) কলেজ, ভোলা সদর, ভোলা’কে আপাতত উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির EIIN ১০১২১০ এবং কারিগরি কোড ৪০০০০৭। একই কারিগরি কোডের একটি স্কুল অংশ (EIIN ১০১১০৭) ইতোমধ্যে DTE Stipend MIS-এ অন্তর্ভুক্ত থাকায় কলেজ অংশের জন্য আলাদা কারিগরি কোড প্রয়োজন।

বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে কলেজের অনুকূলে পৃথক কারিগরি কোড সংগ্রহ করে তা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৃথক কোড পাওয়া গেলে কলেজ অংশকে উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মন্তব্য করুন

সরকারি পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষা আজ, প্রতি আসনে লড়বেন দুই শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) অধীন সরকারি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৮০ হাজারের বেশি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

চলতি শিক্ষাবর্ষে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার আসনের বিপরীতে ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। ফলে গড়ে প্রতি আসনের বিপরীতে দুইজনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান ও অ্যাপটিটিউড টেস্টের ওপর মোট ৭০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, গণিতে ২০, সাধারণ বিজ্ঞানে ২০ এবং অ্যাপটিটিউড টেস্টে ১০ নম্বর থাকবে। এর সঙ্গে এসএসসির জিপিএ (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) থেকে আরও ৩০ নম্বর যোগ করা হবে।

বিটিইবির অধীনে বর্তমানে ৫০টি সরকারি পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি সাধারণ পলিটেকনিক, চারটি মহিলা পলিটেকনিক এবং দুটি বিশেষায়িত বা মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট।

ভর্তি পরীক্ষা শেষে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর আগামী ১১ অক্টোবর থেকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একসময় ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। ২০১৬ সালে এ পদ্ধতি বাতিল করে এসএসসির জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে জিপিএভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতিও বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়।

মন্তব্য করুন

কারিগরি শিক্ষকদের বদলি হবে কয়েক ধাপে, মিলেছে ৯০০ শূন্য পদের তথ্য

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথম ধাপেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বদলি কার্যক্রমের জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে চূড়ান্তভাবে শূন্য পদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে কতজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বদলির জন্য প্রয়োজনীয় শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। এ পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার পর মোট শূন্য পদের সংখ্যা জানা যাবে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২২ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে কর্মরত আছেন। তাঁদের বদলির ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদ বা বিষয়ের শূন্যতা রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা অনলাইনে বিভিন্ন পদ ও বিষয়ের বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা জানাচ্ছেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে। এ বিষয়ে মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর ই-মেইল তৈরি ও তথ্য দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া না গেলেও পরবর্তী সময়ে তা সংগ্রহ করা হবে।

সফটওয়্যারের মাধ্যমে হবে বদলি

এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ই-মেইল তৈরি করে ৩০ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা বলা হয়।

অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে’র চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল প্রয়োজন হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন শিক্ষকরা

বদলির আবেদন শুরু হলে শিক্ষকরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য দিয়ে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারবেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ট্রেডের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ রয়েছে, তা দেখার সুযোগ থাকবে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পদ খালি থাকলে শিক্ষকরা সেখানে বদলির আবেদন করতে পারবেন।

বদলি কার্যক্রমে একটি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি পদ নতুন করে শূন্য হলে সেটিও পরবর্তী ধাপে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনো শিক্ষক এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হলে তিনি যে পদটি ছেড়ে যাবেন, সেটি নতুন শূন্য পদ হিসেবে সফটওয়্যারে যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে ওই পদে অন্য কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যারভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর আবেদনকারীর সংখ্যা ও শূন্য পদের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

মন্তব্য করুন

পিআইবিতে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমায় ভর্তি, আসন ৫০

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত এক বছর মেয়াদি এ কোর্সে দুই সেমিস্টারে পাঠদান করা হবে। এবার মোট ৫০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।

পিআইবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ইউজিসি স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বা তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) কিংবা তিন বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর অথবা সিজিপিএ ২.০০ থাকলে আবেদন করা যাবে। তবে ভর্তির যোগ্যতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

যেভাবে আবেদন

ভর্তিচ্ছুদের দুই ধাপে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ ধাপের আবেদনের শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে মাইগভ প্ল্যাটফর্মে ‘সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের প্রাথমিক আবেদন (পিআইবি)’ শীর্ষক সেবায় আবেদন করতে হবে। এ ধাপে আবেদন করা যাবে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। আবেদন সম্পন্নের পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেওয়া হবে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে করা প্রাথমিক আবেদনপত্রের স্বাক্ষরযুক্ত পিডিএফ কপি, পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবির সফট কপি, স্নাতক পরীক্ষার সনদ, নম্বরপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সত্যায়িত স্ক্যান কপি এবং দ্বৈত ভর্তি না হওয়ার বিষয়ে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামার পিডিএফ কপি প্রস্তুত রাখতে হবে।

প্রাথমিক ভর্তি আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। আর কোর্স ফি এককালীন ১৬ হাজার টাকা। তবে এ ফিতে পরীক্ষার ফি অন্তর্ভুক্ত নয়।

ক্লাস ও যোগাযোগ

প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজনে ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হতে পারে। ক্লাস শুরুর তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

ভর্তি ও কোর্সসংক্রান্ত তথ্য জানতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ০১৯৭৮৮১৮৮৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। পিআইবির ঠিকানা ৩, সার্কিট হাউস রোড, ঢাকা-১০০০। প্রোগ্রামটির কলেজ কোড ৬৫৬৮।

মন্তব্য করুন

২০২৫ সালের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (ভোকেশনাল/বিএম/ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পরীক্ষার ফল প্রকাশ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক (ভোকেশনাল/বিএম/ডিপ্লোমা ইন কমার্স) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এ বছর মোট ১ লাখ ৫৬১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৬ হাজার ১৮৫ জন। ফলে সামগ্রিকভাবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছিলেন ৭৭ হাজার ২৯১ জন এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৩১৯ জন। ছাত্রদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৫ হাজার ১৪৩ জন, পাসের হার ৫৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। অপরদিকে, ছাত্রীদের মধ্যে ২১ হাজার ৪২ জন পাস করেছেন, যেখানে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এছাড়া বোর্ডে মোট ১,৬১০ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৯৭ জন এবং ছাত্রী ১,২১৩ জন।

চলতি বছরে ৭৩৩টি কেন্দ্র ও ১,৮৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেয়।

মন্তব্য করুন

কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে যুবকদের জনসম্পদে রূপান্তরে বিএনপির কর্মপরিকল্পনা: ড. মঈন খান

কারিগরি শিক্ষায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। কোলাজ- এডুকেশন বাংলা
কারিগরি শিক্ষায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। কোলাজ- এডুকেশন বাংলা

দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে সফল করতে হলে অবশ্যই জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থানের বাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিএনপি এক কোটি তরুণকে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা দিয়ে কর্মে নিয়োজিত করার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল শনিবার (তারিখটি অনুমিত) বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই) এর উদ্যোগে আয়োজিত "সোসিও ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ থ্রো টিভ্যাট: প্রবলেমস এন্ড প্রসপেক্টস" শীর্ষক সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ যুবক এবং যুব শ্রেণিতে বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষিত 'যুবকের হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের' প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিএনপি এই যুব শ্রেণিকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মূল প্রবন্ধে কর্মসংস্থান ও দক্ষতার অভাব:

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরআই এর সভাপতি ও সাবেক সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতির হতাশার চিত্র তুলে ধরা হয়:

  • বাংলাদেশের ২০ শতাংশ যুবক বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক হলেও মাত্র ১৬.৮ শতাংশ যুবক কর্মসংস্থান করতে পেরেছে।

  • ইউজিসির ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, প্রতিবছর দশ লাখ যুবক জব মার্কেটে প্রবেশ করলেও অর্ধেকেরও কম যুবক কর্মসংস্থান পায়।

  • বিএমইটির ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর দশ লাখ যুবক বিদেশে চাকরির জন্য গেলেও এদের অধিকাংশই অদক্ষ, ফলে তারা কম বেতন পায় ও নিম্নমানের কাজে নিয়োজিত হয়।

  • সুতরাং, প্রশিক্ষিত জনগণ ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

কারিগরি শিক্ষায় বৈশ্বিক উদাহরণ এবং বাংলাদেশ:

প্রবন্ধে বিদেশে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার সফলতার উদাহরণ তুলে ধরা হয়:

দেশ কারিগরি শিক্ষার দৃষ্টান্ত
জার্মানি ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহণ করে কাজে প্রবেশ করে।
মালয়েশিয়া প্রতিবছর বিশ লাখ যুবককে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা দান করে।
সিঙ্গাপুর স্কিলস ফিউচার প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার সঙ্গে কারখানার সংযোগ স্থাপন এবং বয়স নির্বিশেষে সবাইকে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেয়।
ভিয়েতনাম শিক্ষার সঙ্গে ম্যানুফেকচারের লিংকআপ করে বেকারত্ব ৭ শতাংশের কমে নামিয়ে এনেছে।

কিন্তু বাংলাদেশ কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় দৃশ্যমানভাবে পিছিয়ে আছে। এই উপলব্ধি থেকেই বিএনপি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।

সুপারিশমালা এবং শিক্ষকদের প্রতি অঙ্গীকার:

সেমিনারে উপস্থাপিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • কারিগরি শিক্ষার উন্মুক্তকরণ ও এটিকে মূলধারার শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ।

  • একটি একক অথরিটির মাধ্যমে একীভূত দক্ষতা শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি।

  • কলকারখানার চাহিদা ভিত্তিক কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ ও শক্তিশালীকরণ।

  • দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল গঠন।

  • ডিজিটাল ও সবুজ অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ।

  • নারী সমাজকে সমানতালে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় সম্পৃক্তকরণ।

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে শিক্ষা তার একমাত্র 'ভিশন' হবে এবং শিক্ষকদের জাতীয়করণ, ভাতা বাড়ানোসহ কোনো বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না।

অন্যান্য বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত:

  • ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার: কর্মসংস্থান বিহীন শিক্ষাকে অসম্পূর্ণ বিদ্যা আখ্যা দিয়ে শিক্ষাকে কর্মসংস্থানমুখী করার দাবি জানান। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে সক্ষম শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

  • অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া: সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষার পরিবর্তে তরুণ সমাজকে কর্মমুখী শিক্ষার ওপর আগ্রহী হতে আহ্বান জানান।

  • ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ: দেশের অধিকাংশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং পড়ানো হলেও কর্পোরেট বডিতে চিফ অ্যাকাউন্টেন্টরা বাইরের, যা শিক্ষা আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করেছে। এই ফারাক পূরণ করতে সিলেবাসকে নতুন করে সাজাতে হবে।

  • ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শামসুন্নাহার: কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার কারিকুলামকে দেশ-বিদেশের চাহিদার উপযোগী করে তৈরি এবং শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির (বুটেক্স) ভিসি ড. জুলহাস উদ্দিন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং অন্যান্য শিক্ষাবিদ ও নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন
×