নবীনবরণ ঘিরে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, ভাঙচুর

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এ ঘটনায় কয়েকটি দোকান ও যানবাহন ভাঙচুরের পাশাপাশি জামায়াতের একটি ইউনিয়ন কার্যালয় ও বিএনপি নেতার মালিকানাধীন একটি পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক ও ছাতক সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, সকালে কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথকভাবে নবীনদের স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেয়। মিছিল দুটি গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে কাছাকাছি এলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়।

এরপর উভয় পক্ষ সড়কে অবস্থান নেয়। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। এর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংঘর্ষে পথচারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে; তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুনেদ আহমদ অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ নবীনবরণ কর্মসূচিতে ছাত্রদল হামলা করেছে। তার দাবি, তারা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা হতে দেবেন না।

অন্যদিকে ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহবুব আহমেদ অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির তাদের নবীনবরণ-পরবর্তী মিছিলে বাধা দেয়। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সড়কে এসে যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর এবং বিএনপি নেতার পেট্রোল পাম্পে হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম বলেন, কলেজের ভেতরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কলেজের গেটের বাইরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

ছাতক থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভক্ত চন্দ্র দত্ত বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক করা হয়। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মন্তব্য করুন

কেশবপুরে মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজে ‘অবৈধ’ প্রিন্সিপাল: নতুন প্যানেল তলব

যশোরের কেশবপুরস্থ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানকে অবৈধ ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিধি বহির্ভূতভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের প্যানেল পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়ে একটি চিঠি প্রদান করেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে জানানো হয় যে, কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব জি এম সাজ্জাত হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক প্রদান করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে এই দায়িত্ব অর্পণটি বৈধতা হারিয়েছে।

এই অবৈধ নিয়োগের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কলেজের জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির প্রস্তাবক্রমে ৩ জন শিক্ষকের একটি প্যানেল তৈরি করে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে।

বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নতুন আবেদন প্রেরণের জন্য গভর্নিং বডিকে পুনরায় অনুরোধ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপের ফলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের আর কোনো আইনি সুযোগ রইল না।

মন্তব্য করুন

মানারাতে সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির সমাপনী, শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

 

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাপনী দিনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের ফুয়াদ আল-খতীব অডিটোরিয়ামে বালক ও বালিকাদের জন্য পৃথক আয়োজনে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত, ইসলামী সংগীত, কোরাস, কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে মুখর ছিল পুরো আয়োজন।

সকাল সাড়ে ৮টায় বালিকা শাখার অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক, বক্তা ও শিক্ষাবিদ ড. নাসিমা হাসান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল (মর্নিং শিফট) প্রফেসর তাহমিনা ইয়াসমিন।

বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয় বালক শাখার অনুষ্ঠান। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অর্থবহ ব্যাখ্যার পর শিক্ষার্থীরা হামদ, নাত, ইসলামী সংগীত ও কোরাস পরিবেশন করে।

আলোচনা সভায় মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অতিথিরা। মানারাত ট্রাস্টের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ মহানবী (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত ন্যায়ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা ও ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসৃত অর্থব্যবস্থায় সম্পদের সুষম বণ্টন, সামাজিক নিরাপত্তা, উত্তরাধিকার আইন ও সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা রয়েছে। ইসলামী অর্থনীতি মানুষের স্বাভাবিক জীবন, সামাজিক কল্যাণ ও উৎপাদনশীলতার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে বৈষম্য কমাতে এবং সম্পদের সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারবিয়্যাহ ইডুকেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোখতার আহমদ বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবন মানবতার জন্য এক অনন্য আদর্শ। তার চরিত্র, নৈতিকতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, সত্যবাদিতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা সবার জন্য অনুসরণীয়। শুধু মুখে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার কথা না বলে তার সুন্নাহ ও আদর্শ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সচিব ও মানারাত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মো. মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক ও সুন্দর আচরণ করতেন। তার জীবনী শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের জন্যও এটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর কথা, কাজ ও চরিত্র সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস. এম. মাহবুব-উল-আলম, ওএসজি, এসজিপি, এসডিসি, পিএসসি (অবসরপ্রাপ্ত)। তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবন শুধু ধর্মীয় ইতিহাসের বিষয় নয়; একজন আদর্শ মানুষ, নেতা ও সমাজসংস্কারক হিসেবেও তার জীবন অনুসরণীয়।

মক্কা বিজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও প্রতিকূলতার পরও মক্কা বিজয়ের সময় রাসুল (সা.) প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একই সঙ্গে একজন সামরিক নেতা হিসেবে তার কৌশল ও নেতৃত্বের দৃষ্টান্তও ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক প্রজন্মই একটি দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। রাসুল (সা.)-এর আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করে তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও মানারাত ট্রাস্টের একাডেমিক কমিটির কনভেনার প্রফেসর ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং মানারাত ট্রাস্টের সদস্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এম. উমর আলী।

সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে কোরআন তেলাওয়াত, আজান, সিরাতভিত্তিক আবৃত্তি, রচনা ও ইসলামী সংগীতসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কার গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

মন্তব্য করুন

ঢাকার সাত কলেজে ভর্তি–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে বেআইনি আখ্যা, শিক্ষকদের তিন দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা

সাত কলেজ
সাত কলেজ

ঢাকার সাত কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র নামে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি ও ক্লাস শুরুর যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, সেটিকে আইনসিদ্ধ নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষকরা। এই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তির কারণে তৈরি হওয়া জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান পরীক্ষাসমূহ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

আজ সোমবার ঢাকা কলেজ মিলনায়তনে সাত কলেজের শিক্ষকদের এক জরুরি সভায় এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (যার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান) বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের অন্তর্বর্তী প্রশাসক ১৬ নভেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া ১৭–২০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং ২৩ নভেম্বরের মধ্যে ক্লাস শুরু করতে হবে।

কিন্তু আজকের সভায় শিক্ষকরা বলেন, এখনো প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ চূড়ান্ত না হওয়ায় এমন বিজ্ঞপ্তি আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাঁরা আরও জানান, তাঁরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বিধিবদ্ধভাবে সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালন করছেন; তাই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন বা ক্লাস শুরুর কাজে তাঁদের যুক্ত হওয়ার অবকাশ নেই। সাত কলেজের স্বতন্ত্র কাঠামো বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জোর দাবি জানানো হয়।

ঢাকার সাত কলেজকে কেন্দ্র করে বহুদিন ধরেই সংকট চলছে। ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এসব কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলে সমস্যার সূচনা হয়। সাত কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে—তৎকালীন সিদ্ধান্তের পরই একের পর এক জটিলতা দেখা দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল করায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

বর্তমানে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষকে প্রশাসক করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় সাত কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকার যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে, তার কাঠামো নিয়ে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে আগে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালনের পর এখন তাঁরা তিন দিনের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন।

সাত কলেজের মধ্যে বর্তমানে ইডেন ও তিতুমীর কলেজে শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠদান হয়; অন্য পাঁচটি কলেজে স্নাতক–স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকও চালু রয়েছে।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ–প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আসছে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা পদ্ধতি

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি’ ১০০ নম্বরের পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে নিয়োগ আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অনিয়মমুক্ত হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদে নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ। তারা শূন্যপদ ঘোষণা করে আবেদন গ্রহণ করবে এবং আবেদনকারীদের লিখিত বা এমসিকিউ ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশ করবে। এ পরীক্ষা লিখিত হবে নাকি শুধুই এমসিকিউ—তা চূড়ান্ত করবে এনটিআরসিএ বোর্ড।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে কেবল মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কারণে অনেক সময় প্রকৃত দক্ষতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের কাঠামো প্রস্তাব করেছে কমিটি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সচিবের দপ্তর থেকে অনুমোদন মিললে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ দিতো ম্যানেজিং কমিটি। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকায় অন্তর্বর্তী সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। ফলে এখন থেকে অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকসহ সব সমমানের পদে নিয়োগ দেবে এনটিআরসিএ—এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেন, দক্ষ ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এনটিআরসিএ এখনও ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত না করলেও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়—লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা এবং প্রার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ যাচাই-ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মেধাভিত্তিক পদ্ধতি চালু হলে বেসরকারি স্কুল-কলেজ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী প্রশাসন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মনোনয়ন

সরকারি কর্মকর্তার একচ্ছত্র বিধান স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে শুধু সরকারি কর্মকর্তা (নবম গ্রেডের নিচে নয়) বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয়) মনোনয়ন দেওয়ার বিধান সংবলিত প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন যে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে কেবল সরকারি কর্মকর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মনোনয়নের এই বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।

আদেশের দিন ও বেঞ্চ

বুধবার (২২ অক্টোবর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রিটের কারণ ও আইনজীবীর বক্তব্য

বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের মনোনয়নের এই বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট মোকছেদুর রহমান আবির রিটটি দায়ের করেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের মনোনয়নের বিধান বৈষম্যমূলক। এই যুক্তিতেই আদালত প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়বস্তু

গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। এই পদে নবম গ্রেড বা তার ওপরের পদে কর্মরত কিংবা পঞ্চম গ্রেড বা তার ওপরের পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এছাড়া, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান হতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সভাপতি হতে পারবেন।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক খন্দোকার এহসানুল কবির জানান, বিদ্যমান নিয়মে সামান্য সংশোধন এনে শুধু সভাপতি পদটির জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ৩ পদে নিয়োগ, আবেদন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। প্রতিষ্ঠানটিতে ৯ম থেকে ১৬তম গ্রেডে তিনটি পদে একজন করে মোট তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থীর কাছ থেকেই আবেদন গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে।

পদ ও বেতন স্কেল

১. আইটি কর্মকর্তা
পদসংখ্যা: ১টি
বেতন স্কেল: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯)

২. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ১টি
বেতন স্কেল: ৯,৭০০–২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫)

৩. ইলেকট্রিশিয়ান
পদসংখ্যা: ১টি
বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। আবেদনপত্র ‘অধ্যক্ষ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ’ বরাবর সরাসরি অথবা ডাকযোগে পাঠিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন ফি

আইটি কর্মকর্তা পদে আবেদন করতে ১,০০০ টাকা এবং অফিস সহায়ক ও ইলেকট্রিশিয়ান পদে আবেদন করতে ৬০০ টাকা আবেদন ফি জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

মন্তব্য করুন
×