শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প রয়েছে: মাহদী আমিন

প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ এবং নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এগিয়ে চলার এক অসামান্য ত্যাগের গল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ ছাড়া সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, আজকের অর্জিত সনদ তাদের আলোকিত ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত এবং বাবা-মায়ের দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। তাঁদের অবদান ও সংগ্রামের কথা সব সময় স্মরণে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আইইউটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর বিশেষ ব্যক্তিগত অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আইইউটির গ্র্যাজুয়েটরা দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও পরিচয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার আইইউটি ক্যাম্পাসে এসেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও শিক্ষা ও প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কিংবা রোবোটিক্স ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারলেও প্রযুক্তিকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নির্ভর করে মানুষের সুবুদ্ধি, সততা ও মূল্যবোধের ওপর। তাই শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সমাজ, মানবজাতি এবং নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সিলিকন ভ্যালির বাইরেও আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের হাত ধরে প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যবোধের মধ্যে মিল রয়েছে। জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবর্তনে মোট ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। এ ছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে সাতজন শিক্ষার্থীকে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ রানী অর্জন করেন ‘ওআইসি গোল্ড মেডেল’। অন্য ছয়জন শিক্ষার্থী পান ‘আইইউটি গোল্ড মেডেল’। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন তাঁদের হাতে মেডেল ও সনদপত্র তুলে দেন।

মন্তব্য করুন

নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিতে প্রস্তুত এনসিটিবি

এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা
এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা

সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কাজ করছে—বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো এনসিটিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো ছাপা ও বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে সংস্থাটি। বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির নিজস্ব তদারকির পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়েও নজরদারি করছে। প্রেস মালিকদের সঙ্গেও চলছে নিয়মিত সমন্বয়।

সম্প্রতি এনসিটিবি অডিটোরিয়ামে বই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেখানে মালিকরা মুদ্রণ ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধান করা হলে সময়মতো বই সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মত দেন।

এর পরপরই গত মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি দেশের এক হাজারের বেশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় আগের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরবরাহকৃত বইয়ের বিল দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বই গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বই পাঠানোর সময় মাঠপর্যায় সঠিকভাবে অবহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বই সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত স্থান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে নির্ধারিত সময়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।

মন্তব্য করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের: মাউশি

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন বা অধ্যাদেশ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন সব দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাইবার স্পেসে আচরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই নীতিমালাগুলো অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারীর 'আচরণবিধি লঙ্ঘনের' শামিল হবে। এর পাশাপাশি এটি অনেক ক্ষেত্রে 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি' এবং 'শাস্তিযোগ্য অপরাধ' হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে 'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)' এবং 'সাইবার সুরক্ষা আইন/অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২৫ নং অধ্যাদেশ)'-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সব আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজনে পরিবর্তন

শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো
শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো

২০২৬ সাল থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বাংলা ২য় পত্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজনে পরিবর্তন এনেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আজ রোববার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়েছে:

১. বাংলা দ্বিতীয় পত্র: বাংলা ২য় পত্রের রচনামূলক অংশের প্রশ্ন কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। 'অনুবাদ' অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুবাদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ নম্বর এখন থেকে সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য বরাদ্দ করা হবে।

২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি): আইসিটি বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামো থেকে 'সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন' বাদ দেওয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ নম্বর বহুনির্বাচনি অংশের ১৫ নম্বরের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে, আইসিটির বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য মোট ২৫ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।

৩. ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং: এই বিষয়ে এখন থেকে ফিন্যান্স অংশ থেকে ৮টি এবং ব্যাংকিং অংশ থেকে ৭টি প্রশ্নসহ মোট ১৫টি সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন থাকবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো একটি বিভাগ থেকে ন্যূনতম ৪টি সহ মোট ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি আরও জানিয়েছে যে, দশম শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষায়ও বাংলা ২য় পত্র, আইসিটি এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে সংশোধিত প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন অনুযায়ী প্রশ্ন করতে হবে। এটি একটি অতীব জরুরি নির্দেশনা।

মন্তব্য করুন

উপজেলা নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারিতে শিক্ষক পদায়নের দাবি

উপজেলাভিত্তিক নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের দাবি জানিয়েছেন ২০২৫ ব্যাচের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক। একই সঙ্গে পদায়ন প্রক্রিয়া সবার সামনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান শিক্ষকরা। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া দাবিতে তারা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন তারা। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয় নির্ধারণ করে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় উপজেলাভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, উপজেলাভিত্তিক লটারির ফলে একই উপজেলার একজন শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের কোনো বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সমস্যা, অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষকদেরও নানা বাস্তব জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিজের এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া। বিশেষ করে নারী, বিবাহিত ও দুর্গম এলাকার প্রার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের দাবি, একটি উপজেলার সব বিদ্যালয়কে একত্রে বিবেচনা না করে ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দেওয়া হোক। এতে শিক্ষকরা তুলনামূলকভাবে নিজ এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন তারা।

এ ছাড়া লটারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। কোন বিদ্যালয়ে কতটি শূন্যপদ রয়েছে, লটারি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নির্বাচন করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লটারি প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। সম্ভব হলে শিক্ষক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সবার সামনে লটারি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।

দুর্গম, হাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকার বাস্তবতাকে পদায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষকরা বলেন, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জসহ হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষক এবং যাতায়াত-সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

নারী শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পদায়ন নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। দূরবর্তী বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত যেসব বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো পদায়ন নীতিতে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, ‘আমরা কোনো অনিয়ম বা ব্যক্তিগত সুবিধা দাবি করছি না; আমরা একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, মানবিক ও বাস্তবসম্মত পদায়ন ব্যবস্থা চাই।’

তাদের জোর দাবি, ‘উপজেলাভিত্তিক নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দিতে হবে। লটারি হতে হবে সবার সামনে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে।’

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাস্তবতা ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-২০২৫ ব্যাচের শিক্ষকরা।

মন্তব্য করুন

অননুমোদিত ক্যাম্পাস ও সার্টিফিকেট বাণিজ্য: ইউসেটের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ইউজিসির

অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা, ডোমেইন জটিলতা ও সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং সাময়িক অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউসেট) সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ইউজিসি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট ২১১ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার খোর্দ ঘোষপাড়ার সামাদবানু টাওয়ারে (প্লট নম্বর ২৯৮-২৯৯) সাত বছরের জন্য ইউসেট অস্থায়ীভাবে স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতি দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শর্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে সরকার ও ইউজিসি অনুমোদিত ঠিকানায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ঠিকানা বা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।

ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইউসেটের অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা, ডোমেইন-সংক্রান্ত জটিলতা এবং সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক অনুমতির মেয়াদও শেষ হয়েছে। এসব কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী ইউসেটের ভর্তি ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান প্রোগ্রামে ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইউজিসি থেকে শিগগিরই পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউজিসির সদস্য ও মুখপাত্র অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন  বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনেই সব বলে দেওয়া হয়েছে। তারা সরকার ও ইউজিসির কোনো নিয়ম মানেনি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা আর কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।’

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরাও, প্রজ্ঞাপনের আগে পেরোতে হবে ৪ ধাপ

সরকারি চাকরিজীবীদের মতো নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। তবে তাদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আর এ প্রজ্ঞাপন জারির আগে চারটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার সময়ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একই প্রক্রিয়ায় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ওই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্মসচিব মো. মজিবুর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ১ জুলাই ২০১৫ থেকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর নির্ধারিত নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ও ভাতা পাবেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর তফসিল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আদেশটি ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর করা হয় এবং তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পরিচালক (শিক্ষা), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এ নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অষ্টম পে-স্কেলের সময়ের মতো এবারও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন হবে। এজন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ার চারটি ধাপ শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্তব্য করুন
×