রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, ৩ দফা দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।

৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফের অভিযোগ

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, ভেন্যু ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার উপাচার্যের।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’

তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ফলে এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পদোন্নতির রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ

এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য বিষয়টিতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে তা সংশোধন করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশাসনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় নিয়ম ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

তিন দফা দাবি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। দাবিগুলো হলো—

১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন।

২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিয়ামত এলাহি

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন, ২০১৩-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার বছরের জন্য নিয়োগ

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে—পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক-গবেষক পেলেন সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ শতাংশ ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।

এ বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশিত ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালের গবেষণাপত্র পুরস্কারের আওতায় এসেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

পুরস্কারের আওতায় আসা গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে ১২৪টি নিজ নিজ বিষয়ের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে।

গবেষণায় উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বিষয়

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এসব গবেষণায় অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় কেন বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদান রয়েছে।

স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ খাতে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুতেও এসব গবেষণা ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা ও পাঠদান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও পাঠদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।’

গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ।

এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন, যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের যৌথ উদ্যোগে এই ক্লাসরুমে সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক এই স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পাঠদান ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও প্রাণবন্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুগোপযোগী এই ক্লাসরুমটি এখন থেকে মূলত পিএইচডি (PhD) গবেষকদের ডিফেন্স এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত ভার্চুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার এই গুণগত আধুনিকায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিডিরেন (BdREN)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন
×