নীতিমালার জটিলতায় এমপিওভুক্তি থেকে বাদ ৬০৯ মাদ্রাসা, শিক্ষকদের হতাশা বেড়েছে

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ১ হাজার ৮৯টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে শেষ মুহূর্তে নীতিমালার জটিলতায় এর মধ্যে ৬০৯টি মাদ্রাসা বাদ পড়তে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের নির্দেশে নতুন (২০২৫) নীতিমালার পরিবর্তে পুরোনো (২০১৮) এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করতে হওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এমপিওভুক্তির স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে অনেক প্রতিষ্ঠানই তালিকায় ঠাঁই পাচ্ছে না। হতাশা আর নিরাশায় ভর করেছে বাদ পড়া মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মন।

জমি-সংক্রান্ত শর্তেই বাদ পড়ছে অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান

৩ নভেম্বর সরকার শর্তসাপেক্ষে ১ হাজার ৮৯টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্তির অনুমোদন দেয়। কিন্তু ২০১৮ সালের নীতিমালায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জন্য জমির পরিমাণ নির্ধারিত—মহানগরে ১০ শতক, পৌর এলাকায় ২০ শতক ও মফস্বলে ৩৩ শতক। অন্যদিকে ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালায় এই শর্ত শিথিল করে যথাক্রমে ৮, ১২ ও ২৫ শতক করা হয়েছিল।
পুরোনো নীতিমালা প্রয়োগ করায় জমির শর্ত পূরণ না করতে পারায় বাদ পড়ছে ৬০৯টি মাদ্রাসা। ফলে এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকছে মাত্র ৪৮০টি।

নীতিমালা বদলের কারণ—ব্যয় সংকোচন

সরকারি হিসাব বলছে, সব ১ হাজার ৮৯টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করতে গেলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় মনে করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ব্যয় বহন সম্ভব নয়। তাই ব্যয় কমাতে পুরোনো নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে, যাতে তালিকা নেমে আসে ৪৮০-তে। এতে সরকারের প্রায় ৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এমপিওভুক্ত একটি মাদ্রাসায় ছয়টি পদ থাকে—প্রধান শিক্ষক, তিনজন সহকারী শিক্ষক, একজন কারি/নূরানি শিক্ষক এবং একজন অফিস সহায়ক। এ হিসেবে পূর্ণ তালিকায় এমপিওভুক্ত হলে নতুন নিয়োগ হতো ৬ হাজার ৫৩৪ জন জনবল। তাদের বেতন-ভাতাই বড় অঙ্কের বাড়তি ব্যয় তৈরি করত।

মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই মতবিরোধ

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টা দপ্তর থেকেই অনুমোদিত হয়েছে। আমরা কেবল নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।”
তবে মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তাদের মত, নতুন নীতিমালা জারি হওয়ার পর পুরোনো নীতিমালা প্রয়োগের নজির নেই। এতে আইনি জটিলতার আশঙ্কাও রয়েছে—কেউ চাইলে আদালতে যেতে পারে, আর এতে পুরো প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষকদের হতাশা ও আশঙ্কা

বর্তমানে ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সামান্য সরকারি অনুদান পায়—প্রধান শিক্ষকের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা, সহকারী শিক্ষকের জন্য ৩ হাজার টাকা। আরও ৫ হাজার ৯৩২টি মাদ্রাসা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তাই পায় না।

এ অবস্থায় নীলফামারীর জলঢাকা থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন,
“প্রথমবার এমপিওভুক্তির ঘোষণা এলে আমাদের আশা বেড়েছিল। কিন্তু কঠোর শর্ত নতুন করে ফাঁদে ফেলল। সরকার বদল হলে আবার টালবাহানা শুরু হবে—শেষ পর্যন্ত হয়তো এমপিও হবেই না।”

স্বতন্ত্র ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মুখলেছুর রহমান জানান,
“সরকার আমাদের দাবি মেনে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এজন্য কৃতজ্ঞ। তবে নতুন নীতিমালায় হলে আরও ভালো হতো। যেহেতু পুরোনো নীতিমালা অনুসরণ হবে, আমরা তা মেনে নিচ্ছি—শর্ত হলো, বাদ পড়া মাদ্রাসাগুলোকে যেন পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হয়।”

দীর্ঘ আন্দোলনের পর শেষ মুহূর্তে নতুন জট

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা দুই যুগ ধরে এমপিও ও জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। গত কয়েক বছরে আন্দোলন নতুন করে ঘনীভূত হয়, বিশেষত গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারির শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর সরকার নতুন নীতিমালা জারি করে।
তবুও বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে ২২ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকে। এর মধ্যেই আসে ৩ নভেম্বরের অনুমোদনের ঘোষণা—যা আবার জমির শর্তে আটকে গেল।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়

বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চেক ছাড় করা হয়েছে। আগামী ৪ অক্টোবরের পর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ১ অক্টোবর বিতরণকারী ব্যাংকগুলোতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চেকগুলো অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৪ অক্টোবরের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য তালিকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। শর্ত পূরণ করা মাদ্রাসাগুলোর নামের তালিকা প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

 কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাদ্রাসা-১) মো. রাহাত মান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তকরণ বিষয়ক একটি সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

প্রথম পর্যায়ে, ২০১৮ সালের ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতাদি/অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা’ অনুসারে যেসব মাদ্রাসা সব শর্ত পূরণ করেছে, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের বিস্তারিত প্রতিবেদন গ্রহণ করতে হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে, একই নীতিমালার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী অবশিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম পর্যায়ের জন্য ২০১৮ সালের নীতিমালার ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ করেছে এমন অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তালিকা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে হবে। পূর্বে পাঠানো তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্যের কোনো অমিল থাকলে তা ব্যাখ্যাসহ জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ফতুল্লায় মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে মুসলিমনগর এলাকার তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভুক্তভোগীর মায়ের করা মামলায় রফিকুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বরুনদা গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে মুসলিমনগর থেকে এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, মাদ্রাসার এক শিক্ষক ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে মারধর করে আটকে রেখেছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরে ফতুল্লা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুলকে হেফাজতে নেয়।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই ছাত্রকে এর আগেও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট রাতে মাদ্রাসার শৌচাগারে আটকে রেখে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা ওই ছাত্রকে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। এরপর তার মা থানায় মামলা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান বলেন, আগামী শনিবার ভুক্তভোগী ছাত্রকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সুখবর

বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ছাড়ের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি হতে পারে। জিও জারি হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট শাখা) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মঙ্গলবার বলেন, বেতন সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারই এ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে একই দিন জিও জারি করা সম্ভব হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার আশা রয়েছে।

মোহাম্মদ মাহমুদুল হক আরও বলেন, এবার বেতন প্রদানে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাজনৈতিক স্বার্থ, সতর্ক করেছেন উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের কারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলপ্রাপ্ত হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও দেশ পরিচালনায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার বিশেষ অবদান রয়েছে। তবে অতীতে মাদ্রাসায় জঙ্গি কার্যক্রম এবং শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার মতো অঘটন ঘটেছে।”

বুধবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়াও বিজ্ঞান ও আধুনিক বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

চৌধুরী রফিকুল আবরার জানান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ ও জমি দ্রুত সমাধান করা হবে, শিক্ষক সংকট দূর করা হবে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ধর্ম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন।

মন্তব্য করুন

সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে, হার্ডকপিতে নেওয়া আবেদন ছিল তথ্য সংগ্রহের জন্য

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে আরও ৪–৫ মাস লাগতে পারে

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় এ কার্যক্রমে আরও চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। সফটওয়্যার তৈরি হতে আরও চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন।’

সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ম্যানুয়ালি আবেদন নেওয়া হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘হার্ড কপিতে আবেদন নেওয়া হয়েছে মূলত শিক্ষকদের তথ্য নেওয়ার জন্য। সফটওয়্যারের মাধ্যমেই বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রায় ৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। গত ৩০ আগস্ট থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’-এর বিধি ৩.১৯ অনুযায়ী জনস্বার্থে বদলির লক্ষ্যে শূন্যপদের বিপরীতে ম্যানুয়াল (হার্ডকপি) আবেদন নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শূন্যপদের তালিকা থেকে পছন্দের মাদ্রাসা নির্বাচন করে নির্ধারিত ছকে আবেদন করতে বলা হয়। আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারী ও স্পাউসের জাতীয় পরিচয়পত্র, বর্তমান পদের প্রথম ও শেষ এমপিও কপি, বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানপত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্পাউসের কর্মস্থলের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে বলা হয়।

আবেদনে যেসব তথ্য দিতে হয়েছে

বদলির আবেদনে আবেদনকারীর নাম ও ইনডেক্স নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা, বিষয় ও পদের নাম, যোগদানের তারিখ, বর্তমান কর্মস্থলের জেলা-উপজেলা, মাদ্রাসার নাম ও এমপিও নম্বর উল্লেখ করতে বলা হয়।

এ ছাড়া বদলি হতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রমও দিতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলার নামসহ সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করার সুযোগ রাখা হয়।

আবেদনে আরও দিতে হয়েছে স্পাউসের কর্মস্থলের তথ্য, বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্থায়ী ঠিকানার দূরত্ব এবং প্রয়োজনীয় মন্তব্য।

ফলে ম্যানুয়ালি আবেদন সম্পন্ন করলেও এখন বদলির মূল কার্যক্রম সফটওয়্যার তৈরির ওপর নির্ভর করছে। সফটওয়্যার প্রস্তুত ও চালু না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম এগোচ্ছে না।

মন্তব্য করুন
×