ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ায় বাবার দাফনে আপত্তি মেয়ের, গাইবান্ধায় পারিবারিক বিরোধ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পর বাবার জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন মেয়ে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা মীমাংসার উদ্যোগ নেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারি (৭০)। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন ছেলের নামে ওই জমি লিখে দেন। তবে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) জমি না পাওয়ায় এ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। এর মধ্যে রোববার দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বোন হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী। তবে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধের সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি বলেন, নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। বিরোধের সমাধান করে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করাই তাঁদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য করুন

শহীদ জেহাদ দিবস আজ, তাঁর আত্মত্যাগে গতি পায় এরশাদবিরোধী আন্দোলন

আজ ১০ অক্টোবর, শহীদ জেহাদ দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায়। জেহাদের আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়। সেই ঐক্য ও ধারাবাহিক গণআন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন ঘটে এরশাদ সরকারের।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সন্তান নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ ছিলেন সরকারি আকবর আলী কলেজ শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর এরশাদ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি।

সেদিন সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ও বিরোধী দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পল্টন এলাকায় পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে জেহাদ গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রসমাজসহ আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

অপরাজেয় বাংলায় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য

জেহাদের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে আসার পর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে গড়ে ওঠে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারাও এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ছাত্রনেতারা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। এ সময় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, বাকশাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতারাও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এরশাদের শাসনের অবসান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর এই ঐক্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। মিছিল, সমাবেশ, ধর্মঘট ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ছাত্র আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর থেকেই তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং ১৯৮৭ সালে নূর হোসেনের আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে আছে।

১৯৯০ সালে এসে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট এবং বামপন্থী দলগুলোর পাঁচদলীয় জোট এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাদের দাবির মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়।

১০ অক্টোবর জেহাদের মৃত্যুর পর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের তৎপরতা এই আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করে। ছাত্রসমাজের পাশাপাশি শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। ক্রমেই তা দেশব্যাপী গণপ্রতিরোধে রূপ নেয়।

ডা. মিলনের মৃত্যু ও এরশাদের পতন

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তাঁর মৃত্যুর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

এর আগে ১৯ নভেম্বর তিনটি রাজনৈতিক জোট গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করে। এতে এরশাদের পদত্যাগ, নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অবশেষে গণআন্দোলনের মুখে ৪ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রায় নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে জেহাদের আত্মত্যাগ

শহীদ জেহাদ দিবস বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাঁর মৃত্যু ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জেহাদের আত্মত্যাগ, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ভূমিকা, রাজনৈতিক জোটগুলোর আন্দোলন এবং ডা. মিলনের মৃত্যুর পর গণপ্রতিরোধের বিস্তার—সব মিলিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদ দিবসে তাঁর আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়। দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং জনগণের অংশগ্রহণের ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়।

মন্তব্য করুন

হজের তিন প্যাকেজ ঘোষণা, কমছে খরচ

আগামী বছরের হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এবারের হজ পালনের খরচ সামান্য কমছে। ২০২৬ সালের হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৩-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। প্যাকেজ ২-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ ১-এর মূল্য ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।

প্রথম প্যাকেজের হজ পালনকারীরা পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে থাকবেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় প্যাকেজের হাজ পালনকারীরা মসজিদুল হারামের ১ দশমিক ৭ কিলোমিটারের মধ্যে এবং তৃতীয় প্যাকেজের হজ পালনকারীরা আজিজিয়া এলাকার মধ্যে থাকবেন।

ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, এ বছর হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ভাড়াও কমানো হয়েছে। গত বছর ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা, এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৭০ বা ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে যেতে চাইলে ৫০ বছরের নিচে একজনকে সাথে নিতে হবে, সংক্রামক রোগ আক্রান্ত কেউ হজ পালন করতে যেতে পারবেন না।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে-২০২৬ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ জুলাই শুরু হওয়া হজ নিবন্ধন শেষ হবে ১২ অক্টোবর।

মন্তব্য করুন

পিংক বাসে যাত্রী বাড়লেও দৈনিক ৫০-৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চলতি বছরের আগস্টে চালু করা হয় বিশেষায়িত ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। শুরুর দিকে যাত্রীসংখ্যা কম থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল এবং অফিস সময়ের বাইরে যাত্রী কম থাকায় দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো অলস পড়ে থাকছে। ফলে যাত্রী বাড়লেও এই সেবায় প্রতিদিন বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়। প্রথম দিকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা হলেও সেপ্টেম্বরের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০-তে পৌঁছেছে।

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় হলেও এ সেবায় সরকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামের ১৩টি রুটে মোট ১৪টি পিংক বাস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস, বগুড়ার দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং চট্টগ্রামের একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলাচল করছে।

সার্ভিস চালুর পর ১৯ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ দিন বাসগুলো চলেছে। এ সময়ে মোট ২৭২টি ট্রিপ পরিচালনা করা হয়। এসব ট্রিপে প্রায় ২১ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে যাত্রী ছিলেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন।

এই ২০ দিনে পিংক বাস থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। বিপরীতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

অফিস সময়ের বাইরে কম যাত্রী

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বাসগুলো দিনের প্রথম ট্রিপে ছাড়ে। ঢাকায় বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বাস চলাচল করে। বগুড়া ও চট্টগ্রামে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টার দিকে বাস চলাচল করে।

ফলে দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো ডিপোতে অবস্থান করছে। যাত্রী না থাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাসগুলোর ব্যবহারও কম হচ্ছে।

স্টপেজ ও সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ

পিংক বাস চালুর সময় বিআরটিসি জানিয়েছিল, ঢাকার ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি নির্ধারিত স্পটে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা থাকবে।

তবে অনেক যাত্রীর অভিযোগ, অপেক্ষমাণ যাত্রী না থাকলে নির্ধারিত স্টপেজেও বাস থামছে না। ফলে রুটের অন্যান্য স্থান থেকে নারীরা ইচ্ছা থাকলেও বাসটিতে উঠতে পারছেন না।

এ ছাড়া বাস ছাড়ার সময় ও নির্দিষ্ট স্টপেজে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় অনেক নারী পিংক বাস ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বিশেষায়িত বাস নিয়ে ভিন্নমত

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী পিংক বাস সার্ভিসকে অদূরদর্শী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও জরিপ ছাড়াই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এটি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানও নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিসকে স্থায়ী সমাধান মনে করেন না। তাঁর মতে, শুধু বাসের রং ও নাম পরিবর্তন করে নারীবান্ধব পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং সব গণপরিবহনকেই নারী ও শিশুবান্ধব করতে হবে।

তবে বিআরটিসির ডিজিএম (অপারেশন) শুকদেব ঢালী বলেন, বর্তমানে লাভ-ক্ষতির হিসাবের চেয়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাত্র এক মাসে যাত্রীসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।

নারী চালকের সংখ্যা বেড়েছে

পিংক বাস পরিচালনায় প্রশিক্ষণ শেষে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০ জন নারী চালক গত বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিয়েছেন। এতে নারী চালকের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিআরটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপে নারী চালকদের প্রশিক্ষণ চলতি মাসেই শুরু হবে। ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্যও তাঁদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আসছে আরও ১০০ আধুনিক বাস

পিংক বাস সার্ভিসকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বহরে আরও ১০০টি আধুনিক বাস যুক্ত করা হবে।

নতুন বাসগুলো তুলনামূলক ছোট আকারের হবে। এতে ওয়াই-ফাই, সিসি ক্যামেরা, এসি ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন বাস যুক্ত হলে সেবার মান ও যাত্রীসংখ্যা দুটিই বাড়বে।

তবে বর্তমানে যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও প্রতিদিনের বড় অঙ্কের ভর্তুকি এবং দিনের একটি বড় সময় বাস অলস পড়ে থাকার কারণে পিংক বাস সার্ভিসকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক মারধরের শিকার এবং তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী সাংবাদিক আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন আতিকুর। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। তখন তিনি মিছিলটির সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করছিলেন।

ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার বিভাগ ও ভিডিও করার কারণ জানতে চান। পরে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাকে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। তাদের চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

তবে এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন আতিকুর। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে তাতে থাকা অন্যান্য ভিডিওও মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আতিকুর বলেন, ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনের সময় হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ কারণে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, প্রক্টরের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রতিটি ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই শেষে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

 

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে রবিউস সানি মাস। সে হিসাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পালিত হবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, এমপি।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম রবিউস সানি মাসের ১১তম দিন। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নেই। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় ২৪ সেপ্টেম্বর এ উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কার্যকর হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ উপলক্ষে ছুটি থাকবে। একইভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায়ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি রয়েছে। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বর ছুটি উল্লেখ করা হলেও তা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কি বন্ধ থাকবে?

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এক নয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এদিন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে, আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম চলতে পারে। তাই ২৩ সেপ্টেম্বর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী?

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মূলত রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনকে বোঝায়। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ ১১। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে এ দিনটি পালন করা হয়।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদের হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমী (রহ.)-এর কাছে মারেফাতের জ্ঞান অর্জন করেন।

মুসলিম সমাজে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হয়।

মন্তব্য করুন

ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনে রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

ধাতু-জৈব কাঠামো বা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOF) উদ্ভাবনের জন্য চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি।

বুধবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির মতে, তিন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত বিশেষ ধরনের আণবিক কাঠামোর ভেতর দিয়ে গ্যাস ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এ উপাদানের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা।

যে কারণে নোবেল

ধাতু-জৈব কাঠামো এমন এক ধরনের ছিদ্রযুক্ত উপাদান, যার ভেতরে অণু বা গ্যাস আটকে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করার সুযোগ রয়েছে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মতো কাজে এর ব্যবহার সম্ভব।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হেইনার লিঙ্কে বলেন, ধাতু-জৈব কাঠামো ‘অসীম সম্ভাবনার’ দ্বার খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের পছন্দমতো উপাদান নকশা করতে পারছেন।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি পানিতে থাকা ক্ষতিকর পিএফএএস আলাদা করা, পরিবেশে জমে থাকা ওষুধের অবশেষ ভেঙে ফেলা এবং শুষ্ক অঞ্চলের বাতাস থেকে পানি সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

তিন নোবেলজয়ী

জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়ার জন্ম ১৯৫১ সালে কিয়োটো শহরে। ১৯৭৯ সালে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রিচার্ড রবসনের জন্ম ১৯৩৭ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসবার্নে। ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

অন্যদিকে ওমর এম. ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন তিনি। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পুরস্কার হিসেবে যা পাবেন

এ বছর নোবেলজয়ীরা পাবেন একটি নোবেল মেডেল, একটি সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। কোনো বিভাগে একাধিক ব্যক্তি পুরস্কার পেলে অর্থের পরিমাণ সাধারণত তাঁদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়।

প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শুরু হয়। চলতি বছরের ঘোষণার সূচি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞান, ৭ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞান, ৮ অক্টোবর রসায়ন, ৯ অক্টোবর সাহিত্য এবং ১০ অক্টোবর শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা।

মন্তব্য করুন
×