মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:৩৭ এএম


কমনওয়েলথ স্কলারশীপ: যোগ্যতা, প্রক্রিয়া এবং আবেদনের নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৪৫, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:৫২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক স্কলারশীপগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সরকার প্রদত্ত কমনওয়েলথ স্কলারশীপ অন্যতম। প্রতিবছর কমনওয়েলথভূক্ত দেশসমূহের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা এ স্কলারশীপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্স সম্পন্ন করেন। যেহেতু এটি বিশ্বের সেরা স্কলারশীপ তাই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশি।

কমনওয়েলথ স্কলারশীপের নির্বাচন প্রক্রিয়াও দীর্ঘমেয়াদী যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। ১ বছরেরও বেশি সময় লাগে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যারা এ স্কলারশীপের জন্য নির্বাচিত হবেন তাদের প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কমনওয়েলথ স্কলারশীপের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন ২০০৯ সালে লিডস বেকেট ইউনিভার্সিটিতে পিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স ও ২০১২ সালে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে পিএইচডি’র জন্য কমনওয়েলথ স্কলারশীপ প্রাপ্ত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল।

কারা কমনওয়েলথ স্কলারশীপের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
কিছু সংখ্যক যোগ্যতা ও শর্ত পূরন সাপেক্ষে কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহের যেকোন নাগরিক যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশীপের জন্য তালিকাভূক্ত নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ১ বছর মেয়াদী মাস্টার্স ও ৩ বছর মেয়াদী পিএইচডি ডিগ্রীর জন্য আবেদন করতে পারবেন? মাস্টার্স কোর্সের জন্য ভর্তির যোগ্যতাসহ সনাতন পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ঠ কোর্সে ২য় শ্রেনীর ব্যাচেলর ডিগ্রী থাকতে হবে। আর পিএইচডি’র জন্য থাকতে হবে উচ্চতর ২য় শ্রেনীর মাস্টার্স ডিগ্রী। গ্রেডিং পদ্ধতিতে বি বা বি প্লাস থাকলে আবেদন করা যাবে। এটি হলো নুন্যতম যোগ্যতা। তবে আগেই বলা হয়েছে এটি বিশ্বের মধ্যে অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশীপ এবং সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতামূলক তাই শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেনী বা অন্ততঃ এ মাইনাস গ্রেড থাকা প্রয়োজন।

কখন, কোথায়, কিভাবে আবেদন করতে হবে?
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশীপ কমিশন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বা ইউজিসিকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। ইউজিসি তাদের ওয়েবসাইট (www.ugc.gov.bd) ও বেশ কয়েকটি প্রধান জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সাধারণত প্রতি বছরের আগস্ট মাসে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবেদন আহবান করে থাকে। যারা ২০২০ সালের কমনওয়েলথ স্কলারশীপের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক তাদের প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন পত্র পূরন করে শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদপত্রের সত্যায়িত কপি, আইইএলটিএস এর সনদের সত্যায়িত কপি (যদি থাকে), প্রকাশনার কপি (যদি থাকে), ১ কপি পাসপোর্ট সাহজের ফটোসহ আবেদন পত্র ইউজিসির সচিব বরাবর পৌছাতে হবে। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানাঃ সচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭।

কোন কোন বিষয়ে আবেদন করা যাবে?
এবছর ৬ টি থিমের উপর মাস্টার্স বা পিএইচডি আবেদন আহবান করা হয়েছে। বিষয়সমূহ হলোঃ ক) সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ফর ডেভেলপমেন্ট; খ) স্ট্রেন্দেনিং হেলথ সিস্টেমস এন্ড ক্যাপাসিটি; গ) প্রোমোটিং গ্লোবাল প্রসপারিটি; ঘ) স্ট্রেন্দেনিং গ্লোবাল পিস, সিকিউরিটি এন্ড গভার্নেস; ঙ) স্ট্রেন্দেনিং রেসিলিয়েন্স এন্ড রেসপন্স টু ক্রাইসেস; ও চ) এক্সেস, ইনক্লুশন এন্ড ওপুরচুনিটি। [(i) Science and technology for development (ii) Strengthening health systems and capacity (iii) Promoting global prosperity (iv) Strengthening global peace, security and governance (v) Strengthening resilience and response to crises (vi) Access, inclusion and opportunity]। মাস্টার্স বা পিএইচডি স্কলারশীপের জন্য এই ৬টি থিমকে বিবেচনায় রেখে আবেদনকারীতে তার মূল বিষয় অর্থাৎ কোন বিষয়ে তার প্রথম বা টার্মিনাল ডিগ্রি অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করতে হবে। একজন আবেদনকারীকে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি যেকোনো একটি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া
আবেদনপত্র ইউজিসিতে পৌঁছার পর তারা যাচাই বাছাই করে পূর্ববর্তী পরীক্ষাসমূহের ফলাফল, প্রকাশনা প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে শর্টলিস্ট করবেন। শর্টলিস্টভূক্ত ক্যান্ডিডেটদের সাধারনতঃ অক্টোবরের শেষ অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। ইউজিসি সমজাতীয় বিষয়গুলোর উপড় ভিত্তি করে সাক্ষাৎকার বোর্ড গঠন করে। সাধরনত ইউজিসি’র একজন সদস্য হন সাক্ষাৎকার বোর্ডের সভাপতি। সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকেন অন্ততঃ ১০/১২ বিশেষজ্ঞ ও দেশের অধ্যাপকগণ। প্রতি বোর্ড থেকে সাধারণত ১/২ জন মাস্টার্সের জন্য ও ১/২ জন পিএইচডি’র জন্য মনোনয়ন দেন। মনোনয়নপ্রাপ্তরা যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশীপ কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ সময় প্রার্থীকে যুক্তরাজ্যে পড়তে ইচ্ছুক এমন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দিতে হবে। দুইজন প্রফেসরের নাম দিতে হবে যারা অনলাইনে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আবেদনকারীর সপক্ষে লেটার অব রিকোমেন্ডেশন সাবমিট করবেন। প্রার্থীর যদি আইইএলটিএসের স্কোর না থাকে তাহলে জানুয়ারীর মধ্যে অবশ্যই ইউকেভিআই আইইএলটিএস দিতে হবে। আইইএলটিএসের নুন্যতম স্কোর হলো ৬পয়েন্ট ৫ কিন্ত কোনো ব্যান্ডে কমপক্ষে ৬ পেতে হবে। তবে প্রার্থী যদি প্রথমসারীর ইউনিভার্সিটিতে পড়তে ইচ্ছুক হন তাহলে তাকে সে স্কোর অর্জন করতে হবে। যেমন কেউ যদি স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজে পিএইচডিতে এডমিশন নিতে চান তাহলে তাকে আইইএলটিএসে ন্যূনতম স্কোর হলো ৭ পয়েন্ট ৫ এবং প্রতিটি ব্যান্ডে অন্ততঃ ৭ পেতে হবে। এই ফরমটি খুবই সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে। কারন ঐ আবেদনের উপর ভিত্তি করেই কমনওয়েলথ স্কলারশীপ কমিশন এর নির্বাচনী বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে।

এপ্রিলের দিকে যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশীপ কমিশন নির্বাচিত বা সফল প্রার্থীদের চিঠি দেয়া শুরু করে। এরপর সফল প্রার্থীদের মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ডাটা প্রোটেকশন ফরম পূরন করে পাঠাতে হয়। সবকিছু টিক থাকলে মে মাসে এওয়ার্ড নোটিফেকশন লেটার প্রেরন করা হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ কাউন্সিল নির্বাচিত প্রার্থীদের ভিসা ও টিকেটের যাবতীয় পদক্ষেপ নেন। সেপ্টেম্বর মাসে চূড়ান্ত
নির্বাচিত প্রার্থীদের যুক্তরাজ্যে গমন করতে হয়।

লেখক: অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

ইমেইলঃ [email protected]

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর