শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ ছয়টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে কমিটিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এদিন সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (বরগুনা-২) সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এসব কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে যারা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া ছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা (গোপালগঞ্জ-১), মো. জাহাঙ্গীর আলী মিয়া (মাদারীপুর-২), তাহসিনা রুশদীর (সিলেট-২), বীথিকা বিনতে হোসাইন (মহিলা আসন-২৪), মো. মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১) এবং আতিকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও কৃষি, মহিলা ও শিশু, সড়ক পরিবহন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও এদিন গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

'এখন ১০ শতাংশ নয়, শিক্ষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান'

পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষক নেতাদের সময়মতো দাবি ও হিসাব-নিকাশ পেশ না করার কারণে চলতি বাজেটে বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, "এখন ১০ শতাংশ নয়, পরের বাজেটে বাড়ানো যেতে পারে।"

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সময়মতো প্রস্তাব না দেওয়ায় বরাদ্দ কম

অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষক নেতারা যদি প্রাথমিক হিসাবটা আগেভাগে মন্ত্রণালয়ে দিতেন, তবে বাজেট ঘোষণার আগেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো যেত। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য এবং সময়মতো প্রস্তাব গেলে এখনকার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হতো।

তবে, বর্তমানে যেখানে অর্থের সংস্থান নেই, সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

 

পরের বাজেটে বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার আগামী বছরের বাজেটে কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে। তিনি শিক্ষক নেতাদের ধৈর্য ধরার এবং আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করছি, কিন্তু তাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।"

 

শিক্ষক নেতারা রাজি নন

অধ্যাপক আবরার জানান, শিক্ষক নেতারা সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এখনই ১০ শতাংশ এবং সামনের বছর আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবে, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তারা তাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, "সংস্থান থাকলে আমরা এখনই দিতাম। কিন্তু বাস্তবতায় অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে।" শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেন তিনি।

 

পে-কমিশনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আবরার নতুন পে-কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠন করেছে, যার প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পে কমিশনের রিপোর্টে ৫০, ৭০ বা এমনকি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

 

ভবিষ্যতের জন্য 'থোক বরাদ্দ' থেকে মুক্তি

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, তারা বর্তমানে 'থোক বরাদ্দ' থেকে শতকরা হারে ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে যাচ্ছেন, যা একটি বড় অগ্রগতি। কারণ ভবিষ্যতে মূল বেতন বাড়লে সেই অনুপাতে বাড়ি ভাড়াও বাড়বে।

তিনি শিক্ষক নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ভবিষ্যৎ সরকার 'থোক বরাদ্দ' পদ্ধতিতেই থেকে যেতে পারে, যা শিক্ষকদের জন্য লাভজনক হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে, কিন্তু বর্তমানে সময় ও অর্থ দুটোই সীমিত। তিনি শিক্ষক নেতাদের এই সুযোগ না হারানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

বগুড়ায় আরও এক বেসরকারি স্কুল সরকারি, বদলেছে নাম

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করা হয়েছে। সরকারি হওয়ার পর বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাধীন গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ২৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো। প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে।

তবে আত্তীকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কেও সরকারি করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বা ২৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের বেতন বাড়বে দ্বিগুণ, যেভাবে হবে কার্যকর

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা কার্যকর করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এ জন্য গেজেট প্রকাশের পর চারটি প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে একটি চিঠি দেওয়া হবে। ওই চিঠিতে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা হিসাব করে জানাতে বলা হবে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর মাউশি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করবে। এটি হবে দ্বিতীয় ধাপ। পরে ওই সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তৃতীয় ধাপে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পৃথক দুটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়ের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চাওয়া হবে এসব চিঠিতে।

সবশেষে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি জানিয়ে দুই বিভাগে চিঠি পাঠাবে। এই অনুমোদন পাওয়ার পরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা পে-স্কেলের গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছি। গেজেট জারির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মাউশিকে চিঠি পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে দ্রুত গেজেট জারি করে শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।’

কার বেতন কত হতে পারে

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে—

  • চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষ: বর্তমানে মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় হবে ১ লাখ টাকা।

  • ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক: বর্তমান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭১ হাজার টাকা।

  • সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক: বর্তমান ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৫৮ হাজার টাকা।

  • নবম গ্রেডের প্রভাষক: বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা।

  • দশম গ্রেডের বিএডধারী শিক্ষক: বর্তমান মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৩২ হাজার টাকা।

  • একাদশ গ্রেডের সহকারী শিক্ষক: বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২৫ হাজার টাকা।

  • ষোড়শ গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর: বর্তমান ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

  • অষ্টাদশ গ্রেডের ল্যাব সহকারী: বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২১ হাজার টাকা।

  • বিংশ গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া: বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন পাওয়া যায়। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

বগুড়ায় মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার স্কুল সরকারি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কে সরকারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০২৬ (১১ ভাদ্র ১৪৩৩) থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন

আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অবসরভাতা না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ৮৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

অবসরে যাওয়া শিক্ষক
অবসরে যাওয়া শিক্ষক

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৮ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী চার বছর ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিয়মিত চাঁদা দেওয়া সত্ত্বেও অবসরের পর তারা প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবসরের ছয় মাসের মধ্যে ভাতা পরিশোধ করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা বাস্তবায়ন করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট জানিয়েছে, জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তিতে এখনই প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি সরকার দিয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা—যার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা বন্ড আকারে অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং ২০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও সংকট নিরসন হবে না। বর্তমানে একটি আবেদন নিষ্পন্ন হতে গড়ে আড়াই বছর সময় লেগে যাচ্ছে।

এদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে চলছেন, আবার অনেকে টাকা না পেয়ে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা প্রাপ্য পাওয়ার জন্য ছুটছেন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও সমাজে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। তরুণ প্রজন্মও শিক্ষা পেশায় আগ্রহ হারাতে পারে। তাদের মতে, শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করাতেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের হিসাবে, বর্তমানে ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন, যার জন্য প্রয়োজন ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে ৪২ হাজার ৬০০ আবেদন জমে আছে, যা নিষ্পত্তি করতে লাগবে প্রায় ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। অথচ বোর্ডের মাসিক চাহিদা ৬৫ কোটি টাকা হলেও জমা হয় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

চাকরিকালে কাটা টাকা

অবসর সুবিধার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬% এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪% টাকা কেটে রাখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে—এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য। অর্থাৎ, চাকরিকালে নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পেতে এখন বছরের পর বছর ধরনা দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

সমাধানের দাবি

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট সমাধানে প্রয়োজন এককালীন বিশেষ বরাদ্দ। নাহলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতেই থাকবে।


 

মন্তব্য করুন
×