মেয়েদের আসনে ছেলেরা, ‘মুক্তি’ বাসে নিয়ম মানা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

গোবিপ্রবির নতুন ভিসির বিরুদ্ধে ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ আড়াল করতে ইউজিসির একটি চিঠির আদলে ভুয়া নথি তৈরি করে তা সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে চার বছরের জন্য গোবিপ্রবির ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তাকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০ মাস প্রো-ভিসির দায়িত্ব পালনের পর তিনি ভিসির দায়িত্ব নেন।

ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সাংবাদিকদের কাছে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। এতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত ‘২০ লাখ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাতে চাওয়া সেই অধ্যাপককে এবার ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো’ শীর্ষক প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপির সঙ্গে ইউজিসির একটি চিঠিও পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই চিঠির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

ইউজিসির চিঠি ‘ফেইক’, বললেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা

প্রতিবাদলিপি ও চিঠিটি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পাশাপাশি ফোনও করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম। এ সময় তিনি দাবি করেন, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসিত হয়েছে এবং এ ঘটনায় ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে চিঠিটি পর্যালোচনা করে এবং ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো চিঠিটি ‘ফেইক’।

তিনি একই তারিখ ও স্মারক নম্বরের একটি প্রকৃত চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তদন্ত শেষে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য গত ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি পাঠায় ইউজিসি।

অভিযোগ উঠেছে, ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠনের ওই চিঠির একই তারিখ ও স্মারক নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া চিঠি তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়।

২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

গোবিপ্রবির শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগপত্রে সিফাত উল্লেখ করেন, তিনি গোবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক পদে আবেদন করেছিলেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রো-ভিসির সঙ্গে তার একাডেমিক পরিচয়ের সূত্রে যোগাযোগ হয়। পরে তাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

সিফাতের অভিযোগ, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে তোফায়েল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ভিসির পিএস পরিচয় দেন। তিনি চাকরি পেতে হলে ‘খুশি’ করার কথা বলেন এবং প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই অর্থের অর্ধেক নিয়োগের আগে এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিফাত। তার দাবি, আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষা থাকলেও এবার লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপের অভিযোগ

অভিযোগপত্রে সিফাত আরও দাবি করেন, অভিযোগটি ইউজিসিতে জমা দেওয়ার পর তা কোনোভাবে তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের হাতে চলে যায়। এরপর তাকে এবং তার পরিবার ও কর্মস্থলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন সিফাত। তবে পরে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি জানান, অভিযোগ প্রত্যাহারের চিঠিটি তিনি নিজে লেখেননি; শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন। চিঠিতে ব্যবহৃত তারিখও ব্যাকডেটেড ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ওই প্রার্থী ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয়

ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ভিসির নির্দেশে তিনি সেদিন চিঠি ও প্রতিবাদলিপি সাংবাদিকদের পাঠিয়েছিলেন। পরে চিঠিটি জালিয়াতি করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি সেটি পাঠিয়েছেন।

অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, ভিসি ওই দিন ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে থাকায় কথা বলতে পারছেন না।

এদিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাটি দেখবেন বলে জানান।

সরকারি চাকরি আইনে শাস্তির বিধান

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিম্ন পদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত।

তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

এনএসটি ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিলে’, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রশ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিরুদ্ধে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিভাগটির দাবি, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এনএসটি ফেলোশিপের আওতায় প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের এমএস/এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গবেষণার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিন বছরে ফেলোশিপ পেয়েছেন ৭২ শিক্ষার্থী

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিন বছরে মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫৪ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ পেয়েছেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা করে বিভাগে জমা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ বিভাগে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয়’

বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’ বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ব্যাচের অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে।

তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ফেলোশিপ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় এই টাকা খুবই কম। তারপরও যদি গবেষণার জন্য পাওয়া টাকা বিভাগের ফান্ডে দিতে হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। গবেষণার টাকা কল্যাণ তহবিলে খরচ করলে বিভাগ গবেষণায় আরও পিছিয়ে পড়বে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় এমনিতেই দিন দিন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এভাবে গবেষণার টাকা অন্য ফান্ডে ব্যয় করলে দেখা যাবে, শিক্ষার্থীরা আর এদিকে আগ্রহই দেখাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা উচিত। গবেষণার জন্য পাওয়া ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা কল্যাণ তহবিলে দেওয়া অযৌক্তিক।’

‘গবেষণার যন্ত্রপাতির খরচ মেটাতেও অর্থ লাগে’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। অঙ্গীকারনামা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসবের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিভাগীয় বরাদ্দ দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে নষ্ট হলে সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘ল্যাবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনেক সময় অন্য ল্যাবেও কাজ করাতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। একটি জিনোম বিশ্লেষণ বা ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এসব কাজে শিক্ষকেরাও অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ল্যাবের খরচ মেটে না। শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকাটা কল্যাণ তহবিলে যোগ হয় এবং ওই অর্থ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আমিও প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে এ তহবিলে টাকা দিই।’

তবে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফেলোশিপের অর্থ থেকে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগের আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বিভাগের এখতিয়ার।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে চাপ দেওয়া হয় না; বরং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থ দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে নেওয়া হয় না ফেলোশিপের অর্থ

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিভাগ উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা এনএসটি ফেলোশিপ পেয়ে থাকেন। তবে বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী নাহিদা বেগম জানিয়েছেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে বিভাগ কোনো অংশ নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। তারা পুরো অর্থই গবেষণার কাজে ব্যয় করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকও গবেষণার বিভিন্ন ব্যয় বহন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের বিভাগে আলাদা একটি তহবিল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ দেন এবং সেই অর্থ আমরা আনুপাতিকভাবে প্রতি ব্যাচের জন্যই ব্যয় করি।’

ফলে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের অর্থের একটি অংশ বিভাগীয় ‘কল্যাণ তহবিলে’ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দাবি, অর্থটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও গবেষণার প্রয়োজনেই ব্যয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টোরিয়াল বডি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে।

কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চার দফা সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টোরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে বিভাগভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উত্তেজনা ছড়ায়

এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

এরপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য করুন

রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন
×