বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ২৩ শিক্ষক অধ্যাপক, একজনের সিদ্ধান্ত স্থগিত

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৩ শিক্ষককে একসঙ্গে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা ২৪ শিক্ষকের মধ্যে ২৩ জনকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পদোন্নতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে একজন শিক্ষকের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অডিট আপত্তিসহ বিভিন্ন জটিলতায় পদোন্নতির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকে। অবশেষে রোববার ২৪ জনের মধ্যে ২৩ শিক্ষককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ড. প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. জামাল উদ্দীন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. সাদেকুর রহমান ও ড. তারেক মাহমুদ আবীর, লোক প্রশাসন বিভাগের ড. ইসরাত জাহান, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. হাফিজ আশরাফুল হক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. সুব্রত কুমার দাস, ইতিহাস বিভাগের ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ড. ধীমান কুমার রায় এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল।

এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, ড. হালিমা বেগম, ড. মো. নাজমুল কায়েস ও ড. মো. মাসুদ পারভেজ অধ্যাপক হয়েছেন।

গণিত বিভাগের ড. মো. শফিউল আলম, ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ড. বিজন কৃষ্ণ সাহা ও ড. হেনা রানী বিশ্বাস এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড. তাজিজুর রহমান, ড. সোহেল চৌধুরী ও ড. মো. আলমগীর মোল্লাও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

তবে অধ্যাপক পদে আবেদন করা ড. আবদুল কাইউমের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সিন্ডিকেট সদস্য জানান, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত হওয়া এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ড. আবদুল কাইউমের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তার পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পরে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মন্তব্য করুন

এনএসটি ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিলে’, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রশ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিরুদ্ধে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিভাগটির দাবি, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এনএসটি ফেলোশিপের আওতায় প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের এমএস/এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গবেষণার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিন বছরে ফেলোশিপ পেয়েছেন ৭২ শিক্ষার্থী

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিন বছরে মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫৪ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ পেয়েছেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা করে বিভাগে জমা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ বিভাগে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয়’

বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’ বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ব্যাচের অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে।

তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ফেলোশিপ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় এই টাকা খুবই কম। তারপরও যদি গবেষণার জন্য পাওয়া টাকা বিভাগের ফান্ডে দিতে হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। গবেষণার টাকা কল্যাণ তহবিলে খরচ করলে বিভাগ গবেষণায় আরও পিছিয়ে পড়বে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় এমনিতেই দিন দিন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এভাবে গবেষণার টাকা অন্য ফান্ডে ব্যয় করলে দেখা যাবে, শিক্ষার্থীরা আর এদিকে আগ্রহই দেখাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা উচিত। গবেষণার জন্য পাওয়া ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা কল্যাণ তহবিলে দেওয়া অযৌক্তিক।’

‘গবেষণার যন্ত্রপাতির খরচ মেটাতেও অর্থ লাগে’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। অঙ্গীকারনামা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসবের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিভাগীয় বরাদ্দ দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে নষ্ট হলে সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘ল্যাবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনেক সময় অন্য ল্যাবেও কাজ করাতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। একটি জিনোম বিশ্লেষণ বা ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এসব কাজে শিক্ষকেরাও অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ল্যাবের খরচ মেটে না। শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকাটা কল্যাণ তহবিলে যোগ হয় এবং ওই অর্থ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আমিও প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে এ তহবিলে টাকা দিই।’

তবে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফেলোশিপের অর্থ থেকে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগের আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বিভাগের এখতিয়ার।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে চাপ দেওয়া হয় না; বরং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থ দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে নেওয়া হয় না ফেলোশিপের অর্থ

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিভাগ উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা এনএসটি ফেলোশিপ পেয়ে থাকেন। তবে বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী নাহিদা বেগম জানিয়েছেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে বিভাগ কোনো অংশ নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। তারা পুরো অর্থই গবেষণার কাজে ব্যয় করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকও গবেষণার বিভিন্ন ব্যয় বহন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের বিভাগে আলাদা একটি তহবিল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ দেন এবং সেই অর্থ আমরা আনুপাতিকভাবে প্রতি ব্যাচের জন্যই ব্যয় করি।’

ফলে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের অর্থের একটি অংশ বিভাগীয় ‘কল্যাণ তহবিলে’ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দাবি, অর্থটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও গবেষণার প্রয়োজনেই ব্যয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিয়ামত এলাহি

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন, ২০১৩-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার বছরের জন্য নিয়োগ

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে—পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ৯৮ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স বিতরণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের উদ্যোগে লেভেল-৫, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

‘সার্জিক্যাল অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্যাল বক্স ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক এই আয়োজনের প্রথম পর্ব সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় পর্ব বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে অত্যাবশ্যকীয় এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির অ্যাগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের হাতে বক্স তুলে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "এই সার্জিক্যাল কিট বক্স গ্রহণের মাধ্যমে তোমরা বিশ্বজুড়ে প্রাণিচিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে। এই অনুষদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুদৃষ্টি রয়েছে। আমরা ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছি। পাশাপাশি তোমাদের টিএ/ডিএ (TA/DA) দাবির প্রেক্ষিতেও একটি নীতিমালা করা হয়েছে, যা আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় পাস হবে বলে আশা করছি। এটি পাস হলে তহবিলের অভাব দেখিয়ে কেউ আর তোমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।"

শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে আমরা একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (যেমন- চাইনিজ বা জাপানিজ ভাষা) চালুর বিষয়ে কাজ করছি। এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক মানের করে তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী (লিডারশিপ) বিকাশ করা।"

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেকৃবির রজতজয়ন্তী উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রজতজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ রঙিন বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা কবুতর উড়িয়ে রজতজয়ন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তাঁর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।

কৃষি অনুষদের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি, আবাসিক হল ও বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা কৃষক-কৃষাণী, জেলে-জেলেনী ও পশু চিকিৎসকের সাজে অংশ নেন। নাচ-গানের মাধ্যমে তারা বাংলার কৃষি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়।

দিনের পরবর্তী আয়োজনে সকাল ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছরের অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রত্যাশা এবং শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ঐতিহ্য ও অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা শেকৃবির শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক-গবেষক পেলেন সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ শতাংশ ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।

এ বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশিত ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালের গবেষণাপত্র পুরস্কারের আওতায় এসেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

পুরস্কারের আওতায় আসা গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে ১২৪টি নিজ নিজ বিষয়ের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে।

গবেষণায় উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বিষয়

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এসব গবেষণায় অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় কেন বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদান রয়েছে।

স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ খাতে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুতেও এসব গবেষণা ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা ও পাঠদান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও পাঠদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।’

গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ।

এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন
×