পিংক বাসে যাত্রী বাড়লেও দৈনিক ৫০-৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চলতি বছরের আগস্টে চালু করা হয় বিশেষায়িত ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। শুরুর দিকে যাত্রীসংখ্যা কম থাকলেও এক মাসের ব্যবধানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল এবং অফিস সময়ের বাইরে যাত্রী কম থাকায় দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো অলস পড়ে থাকছে। ফলে যাত্রী বাড়লেও এই সেবায় প্রতিদিন বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়। প্রথম দিকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা হলেও সেপ্টেম্বরের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০-তে পৌঁছেছে।

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় হলেও এ সেবায় সরকারের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামের ১৩টি রুটে মোট ১৪টি পিংক বাস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস, বগুড়ার দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং চট্টগ্রামের একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলাচল করছে।

সার্ভিস চালুর পর ১৯ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ দিন বাসগুলো চলেছে। এ সময়ে মোট ২৭২টি ট্রিপ পরিচালনা করা হয়। এসব ট্রিপে প্রায় ২১ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে যাত্রী ছিলেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন।

এই ২০ দিনে পিংক বাস থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। বিপরীতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

অফিস সময়ের বাইরে কম যাত্রী

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বাসগুলো দিনের প্রথম ট্রিপে ছাড়ে। ঢাকায় বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বাস চলাচল করে। বগুড়া ও চট্টগ্রামে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৩টার দিকে বাস চলাচল করে।

ফলে দিনের বড় একটি সময় বাসগুলো ডিপোতে অবস্থান করছে। যাত্রী না থাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাসগুলোর ব্যবহারও কম হচ্ছে।

স্টপেজ ও সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ

পিংক বাস চালুর সময় বিআরটিসি জানিয়েছিল, ঢাকার ১০৬টি, চট্টগ্রামের ১২টি এবং বগুড়ার ১৬টি নির্ধারিত স্পটে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা থাকবে।

তবে অনেক যাত্রীর অভিযোগ, অপেক্ষমাণ যাত্রী না থাকলে নির্ধারিত স্টপেজেও বাস থামছে না। ফলে রুটের অন্যান্য স্থান থেকে নারীরা ইচ্ছা থাকলেও বাসটিতে উঠতে পারছেন না।

এ ছাড়া বাস ছাড়ার সময় ও নির্দিষ্ট স্টপেজে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় অনেক নারী পিংক বাস ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বিশেষায়িত বাস নিয়ে ভিন্নমত

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী পিংক বাস সার্ভিসকে অদূরদর্শী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও জরিপ ছাড়াই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এটি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানও নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিসকে স্থায়ী সমাধান মনে করেন না। তাঁর মতে, শুধু বাসের রং ও নাম পরিবর্তন করে নারীবান্ধব পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং সব গণপরিবহনকেই নারী ও শিশুবান্ধব করতে হবে।

তবে বিআরটিসির ডিজিএম (অপারেশন) শুকদেব ঢালী বলেন, বর্তমানে লাভ-ক্ষতির হিসাবের চেয়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাত্র এক মাসে যাত্রীসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন।

নারী চালকের সংখ্যা বেড়েছে

পিংক বাস পরিচালনায় প্রশিক্ষণ শেষে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০ জন নারী চালক গত বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিয়েছেন। এতে নারী চালকের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিআরটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপে নারী চালকদের প্রশিক্ষণ চলতি মাসেই শুরু হবে। ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্যও তাঁদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আসছে আরও ১০০ আধুনিক বাস

পিংক বাস সার্ভিসকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বহরে আরও ১০০টি আধুনিক বাস যুক্ত করা হবে।

নতুন বাসগুলো তুলনামূলক ছোট আকারের হবে। এতে ওয়াই-ফাই, সিসি ক্যামেরা, এসি ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা থাকবে। কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন বাস যুক্ত হলে সেবার মান ও যাত্রীসংখ্যা দুটিই বাড়বে।

তবে বর্তমানে যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও প্রতিদিনের বড় অঙ্কের ভর্তুকি এবং দিনের একটি বড় সময় বাস অলস পড়ে থাকার কারণে পিংক বাস সার্ভিসকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

হজের তিন প্যাকেজ ঘোষণা, কমছে খরচ

আগামী বছরের হজযাত্রীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এবারের হজ পালনের খরচ সামান্য কমছে। ২০২৬ সালের হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৩-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। প্যাকেজ ২-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ ১-এর মূল্য ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।

প্রথম প্যাকেজের হজ পালনকারীরা পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে থাকবেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় প্যাকেজের হাজ পালনকারীরা মসজিদুল হারামের ১ দশমিক ৭ কিলোমিটারের মধ্যে এবং তৃতীয় প্যাকেজের হজ পালনকারীরা আজিজিয়া এলাকার মধ্যে থাকবেন।

ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, এ বছর হজযাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান ভাড়াও কমানো হয়েছে। গত বছর ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা, এবার তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৭০ বা ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ হজে যেতে চাইলে ৫০ বছরের নিচে একজনকে সাথে নিতে হবে, সংক্রামক রোগ আক্রান্ত কেউ হজ পালন করতে যেতে পারবেন না।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে-২০২৬ পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ জুলাই শুরু হওয়া হজ নিবন্ধন শেষ হবে ১২ অক্টোবর।

মন্তব্য করুন

তাকভর্তি বই, খালি চেয়ার-টেবিল; পাঠকহীন গণগ্রন্থাগার

তাকজুড়ে সারি সারি বই। পাশে সাজানো চেয়ার-টেবিল। প্রতিদিনের সংবাদপত্রও আসে। পরিচ্ছন্ন ভবন, আলো-বাতাস আর পড়ার উপযোগী পরিবেশ—সবই আছে। শুধু নেই পাঠক। দিনের পর দিন বইয়ের তাকগুলো নীরব পড়ে থাকে, খালি পড়ে থাকে পাঠকের জন্য রাখা চেয়ার-টেবিল।

মাঝেমধ্যে দু-একজন শিক্ষার্থী এলেই পাঠাগারে পাঠকের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। একসময় যেখানে বই পড়তে মানুষের আনাগোনা ছিল, সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের বিস্তারে বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যেন ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।

এমন চিত্র দেখা গেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারে। প্রায় এক দশক আগে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও দুই পাঠাগারেই এখন পাঠকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। বকশীগঞ্জে মাঝেমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী এলেও দেওয়ানগঞ্জের পাঠাগারে নিয়মিত পাঠক পাওয়া কঠিন। অথচ দুই পাঠাগার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই।

ভবন আছে, বই আছে, নেই পাঠকের ভিড়

দেওয়ানগঞ্জ শহরের অদূরে এ কে মেমোরিয়াল কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আছে সরকারি গণগ্রন্থাগারের দোতলা ভবন। নিচতলায় প্রায় ২০০ মানুষের ধারণক্ষমতার মিলনায়তন এবং দ্বিতীয় তলায় মূল পাঠাগার।

দৃষ্টিনন্দন ভবনটির ভেতরেও রয়েছে পাঠবান্ধব পরিবেশ। বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ে সাজানো একাধিক তাক, কাঠের চেয়ার-টেবিল এবং দৈনিক সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব আয়োজনের সঙ্গে পাঠকের উপস্থিতির মিল খুব একটা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঠাগারের ভেতরে নীরবতা। বেশির ভাগ চেয়ার-টেবিলই খালি। তাকভর্তি বই থাকলেও সেগুলো পড়তে আসা মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যেও পাঠাগারটি নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে হওয়ায় কেউ কেউ এটিকে কলেজের নিজস্ব গ্রন্থাগার মনে করেন। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত সরকারি গণগ্রন্থাগার হওয়া সত্ত্বেও অনেকে সেখানে আসেন না।

বকশীগঞ্জে পাঠক আছেন, নিয়মিত নন

বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত সরকারি গণগ্রন্থাগারটিও দোতলা। পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে মূল পাঠাগার। বিভিন্ন ধরনের বইয়ের পাশাপাশি পাঠকদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও সংবাদপত্র পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সরেজমিনে সেখানে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। কেউ বই পড়ছিলেন, কেউ আবার নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। তবে পাঠাগারের আকার ও সুযোগ-সুবিধার তুলনায় পাঠকের সংখ্যা ছিল খুবই কম।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, পাঠাগারের পরিবেশ ভালো এবং বিভিন্ন ধরনের বইও রয়েছে। তবে নিয়মিত পাঠকের সংখ্যা কম। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই তথ্য পাওয়া যায়। ফলে বই নিয়ে পাঠাগারে বসার অভ্যাস আগের তুলনায় কমেছে।

প্রায় ২০ হাজার বই, ব্যবহার কতটা?

গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ২০১৩ সালে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারের নির্মাণকাজ শেষ করে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে ২০১৫ সালে পাঠাগার দুটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

দুই পাঠাগার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই। সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, ধর্ম, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়ের বই রয়েছে সেখানে। পাঠকদের জন্য রাখা হয় দৈনিক সংবাদপত্রও।

অর্থাৎ বইয়ের অভাব নেই, নেই বসার জায়গার সংকটও। অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও বড় সমস্যা নয়। কিন্তু পাঠাগারের মূল প্রাণ—পাঠক—সেই তুলনায় অনেকটাই অনুপস্থিত।

বদলে গেছে পাঠাভ্যাস

একসময় শিক্ষার্থী ও তরুণদের অবসর কাটানোর অন্যতম জায়গা ছিল পাঠাগার। গল্প, উপন্যাস, কবিতা কিংবা সাধারণ জ্ঞানের বই পড়তে অনেকে নিয়মিত পাঠাগারে যেতেন। এখন সেই জায়গার বড় অংশ দখল করেছে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদন।

কোনো তথ্য জানতে বইয়ের পাতা উল্টানোর বদলে কয়েক সেকেন্ডেই ইন্টারনেট থেকে উত্তর পাওয়া যায়। অবসর সময়েও বইয়ের বদলে ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

ফলে পাঠাগারের দরজা খোলা থাকলেও পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে না। আবার শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের পড়াশোনাও সীমাবদ্ধ থাকছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক বইয়ের মধ্যে।

শুধু ভবন বানালেই কি পাঠক ফিরবে?

দুই পাঠাগারের চিত্র বলছে, অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ থাকলেও পাঠক তৈরির জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে। পাঠক ফেরাতে বইপাঠ কর্মসূচি, পাঠচক্র, সাহিত্য আড্ডা, কুইজ, বিতর্ক ও শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা আয়োজন করা যেতে পারে।

স্কুল-কলেজের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাগারে আনার উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই সংগ্রহ, বই পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক আয়োজন চালু করা যেতে পারে।

কর্মজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পাঠাগারের কার্যক্রমের সময় বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নির্দিষ্ট অফিস সময়ের মধ্যে পাঠাগার খোলা রাখলে কর্মজীবী মানুষের একটি বড় অংশ সেখানে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

জনবল সংকটেও থমকে কার্যক্রম

দুই পাঠাগারের দায়িত্ব পালন করছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মোখলেছুর রহমান। বকশীগঞ্জের পাশাপাশি তিনি দেওয়ানগঞ্জ গণগ্রন্থাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বকশীগঞ্জ গণগ্রন্থাগারে তিনজন এবং দেওয়ানগঞ্জে মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে পাঠক তৈরির জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী বলেন, গ্রন্থাগারে পাঠক না থাকা দুঃখজনক বাস্তবতা। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তথ্য পাওয়া সহজ হয়েছে। তবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। চাকরির পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার বাইরে জ্ঞান, সাহিত্য ও মননচর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

জামালপুর সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই আলহাদী বলেন, একসময় পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তোলার যে সংস্কৃতি ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতায় শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। কেন পাঠক তৈরি হচ্ছে না, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।

বকশীগঞ্জ উপজেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, দুই পাঠাগারের অন্যতম সমস্যা জনবল। বকশীগঞ্জে তিনজন এবং দেওয়ানগঞ্জে দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। দেওয়ানগঞ্জের পাঠাগারটি কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে হওয়ায় অনেকে এটিকে কলেজের গ্রন্থাগার মনে করেন। এ কারণে সেখানে সাধারণ পাঠকের উপস্থিতি খুব কম। পাঠক বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচারণাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় কবিতা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মানুষকে পাঠাগারে ফেরাতে সামাজিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। অফিস সময়ের পর পাঠাগার বন্ধ থাকলে চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান না। পাঠক আকৃষ্ট করতে বইপাঠ কর্মসূচি, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করা যেতে পারে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, পাঠাগারের প্রচারে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের পাঠাগার সম্পর্কে জানানো এবং বই পড়তে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রচারের মাধ্যমে পাঠকরা আবারও পাঠাগারমুখী হবেন বলে আশা করেন তিনি।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, পাঠাগারে পাঠক বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাঠাগারমুখী করতে স্কুল-কলেজে প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, পাঠাগারে পাঠক বাড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন, যাতে পাঠাগারগুলোতে পাঠকের সংখ্যা বাড়ে।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—তাকভর্তি বই আর দৃষ্টিনন্দন ভবনই কি একটি পাঠাগারের সাফল্যের মাপকাঠি? নাকি সেই বই মানুষের হাতে পৌঁছানো, পাঠের অভ্যাস তৈরি করা এবং নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই একটি গণগ্রন্থাগারের প্রকৃত সার্থকতা?

মন্তব্য করুন

নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে ইলিশের দাম বাড়ল, কেজিতে বেড়েছে ৩০০-৪০০ টাকা

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে বেড়েছে ইলিশের দাম। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ দাম বাড়ায় মাছঘাটে এসে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। অনেকেই ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বড়স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে। ছোট আকারের ইলিশের দাম পড়ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে একই আকারের ইলিশের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম

ব্যবসায়ী নবীর হোসেন বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও।

তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ুক, এটা আমাদেরও কাম্য নয়। মূলত ইলিশের দাম কম থাকলে ক্রেতা বেশি আসে এবং বিক্রিও ভালো হয়। আগামী দুই দিনে যদি ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়ে, তাহলে দামও কমতে পারে।’

কুমিল্লা থেকে মাছ কিনতে আসা আসমা বেগম বলেন, ১০-১২ দিন আগেও চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট থেকে ইলিশ কিনেছেন তিনি। তখন যে দামে মাছ কিনেছিলেন, এখন একই ধরনের ইলিশের দাম কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।

তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে ইলিশের দাম আরও কমবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো, দাম আরও বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মনে হয় না আর ইলিশ কিনতে পারব।’

২২ দিন বন্ধ থাকবে ইলিশ ধরা ও বিক্রি

আগামী ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময় চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটেও ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, বর্তমানে মৌসুমের শেষ পর্যায়ের ইলিশ বেচাকেনা চলছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ ধরা শুরু হলে আবার ঘাটে ইলিশের বেচাকেনা শুরু হবে।

নিষেধাজ্ঞার আগে বাকি দুই দিনে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সরবরাহ বাড়ুক এবং ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসুক।’

মন্তব্য করুন

রাবিনা ট্যান্ডনের খোঁচা: “আজকাল কলেজের মেয়েরা তো প্রতি সপ্তাহেই নতুন প্রেমে!

বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় জুটি অক্ষয় কুমার ও রাবিনা ট্যান্ডন। নব্বইয়ের দশকে তাদের রোমান্স ছিল ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার কেন্দ্রে। ‘মোহরা’ ছবির সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, যা পরে বাগদান পর্যন্ত গড়ায়। তবে কিছু বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাবিনাকে আবারও সেই পুরনো সম্পর্ক ও বাগদান ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অভিনেত্রী হেসে বলেন, “আমি তো সেসব ভুলেই গেছি।” তিনি আরও বলেন, “কিছু অনস্ক্রিন জুটি মানুষ ভুলতে পারে না। ‘মোহরা’-র সময় আমরা হিট জুটি ছিলাম, এখনও কোথাও দেখা হলে খুব স্বাভাবিকভাবে কথা হয়। সবাই নিজের জীবনে এগিয়ে যায়।”

রাবিনা হালকা রসিকতার ছলে আরও বলেন, “আজকাল মেয়েরা কলেজে প্রতি সপ্তাহেই বয়ফ্রেন্ড বদলায়। আর আমার একটাই বাগদান ভাঙা— সেটাই এখনও লোকের মাথায় ঘুরছে! কেন জানি না। সবাই তো জীবনে এগিয়ে যায়, কেউ বিচ্ছেদ করে, কেউ নতুনভাবে শুরু করে— এতে এত ভাবনার কী আছে?”

বর্তমানে রাবিনা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী অনিল থাডানির সঙ্গে; তাদের ২১ বছরের সংসার। দম্পতির মেয়ে রাশা থাডানি এ বছরই বলিউডে পা রেখেছেন। অন্যদিকে, অক্ষয় কুমারও ২০০১ সালে অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্নাকে বিয়ে করে সংসারী হন।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার অক্ষয় ও রাবিনাকে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে বড় পর্দায়— আসছে তাদের নতুন ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’।

মন্তব্য করুন

২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

 

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে রবিউস সানি মাস। সে হিসাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পালিত হবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, এমপি।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম রবিউস সানি মাসের ১১তম দিন। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নেই। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় ২৪ সেপ্টেম্বর এ উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কার্যকর হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ উপলক্ষে ছুটি থাকবে। একইভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায়ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি রয়েছে। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বর ছুটি উল্লেখ করা হলেও তা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কি বন্ধ থাকবে?

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এক নয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এদিন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে, আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম চলতে পারে। তাই ২৩ সেপ্টেম্বর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী?

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মূলত রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনকে বোঝায়। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ ১১। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে এ দিনটি পালন করা হয়।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদের হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমী (রহ.)-এর কাছে মারেফাতের জ্ঞান অর্জন করেন।

মুসলিম সমাজে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হয়।

মন্তব্য করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুল পর্যায়ের। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সার্ভেইল্যান্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৩। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী—১৯০ জন, যা মোট সংখ্যার ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী ৯২ জন (২২ দশমিক ৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৭৭ জন (১৯ দশমিক ১ শতাংশ) এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৪ জন (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)।

অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ৩১০টি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩২ ও ৫১৩।

তবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব তথ্য মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যার ঘটনাগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কোনো সরকারি জাতীয় মৃত্যুনিবন্ধন বা সরকারি জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান নয়। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।

সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন
×