নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

মেহেরপুরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় নকল, চার শিক্ষার্থী বহিষ্কার

মেহেরপুরে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষায় নকলের ঘটনায় জড়িত চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুই শিক্ষককে পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজে বাউবির অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি নজরে আসার পর পরীক্ষার সময় নকলের সঙ্গে জড়িত চার পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে পরীক্ষায় নকলের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলা ও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ঘটনার শিকার বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গাংনী থানায় মামলা করেন। মামলায় রফিকুজ্জামান ও মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে, জেনে নিন নতুন বেতন

নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো আগামী ১ জুলাই থেকেই তাদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছে।

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই গ্রেড অনুযায়ী বাড়বে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা যেভাবে বাড়বে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একই হারে সেই সুবিধা পাবেন না। এমনকি নতুন কাঠামোয় টেলিফোন বিল পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

তিন ধাপে বাড়বে বেসিক

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন তিন ধাপে বাড়ানো হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসিক ৩০ শতাংশ বাড়বে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৬৫ শতাংশ হবে। সর্বশেষ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেসিক শতভাগ বাড়বে বলে জানা গেছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর অন্যান্য চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে যাবে।

কোন গ্রেডে কত বেতন

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের মূল বেতন ৫০ হাজার থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা।

নবম গ্রেডের প্রভাষকদের বর্তমান মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা। নতুন কাঠামোয় এই বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিএড ডিগ্রিধারীরা ১০ম গ্রেডে বেতন পান। এ গ্রেডে বর্তমানে মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।

১১তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।

১৬তম গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা।

অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তাদের মূল বেতন বেড়ে হবে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।

অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা একইভাবে বাড়বে না।

মন্তব্য করুন

বগুড়ায় আরও এক বেসরকারি স্কুল সরকারি, বদলেছে নাম

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করা হয়েছে। সরকারি হওয়ার পর বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাধীন গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ২৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো। প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে।

তবে আত্তীকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কেও সরকারি করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বা ২৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

মন্তব্য করুন

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। পরে সভার কার্যবিবরণীতে প্রস্তাবটি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন বিষয়ক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বগুড়ার সব সংসদ সদস্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।

সভায় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের তেমন উন্নয়ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করে প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।

এ সময় তিনি বগুড়ায় নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।

পুরোনো আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ২০০১ সালের ১৫ জুলাই আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৩ সালের ১০ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ২০১৯ সালে অনুমোদিত নতুন আইনের খসড়া বাতিল করা হয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০০১ সালেই একটি আইন পাস হয়েছিল।

তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ বিষয়ে মন্ত্রিসভার নীতিগত সম্মতি ছিল। তবে ভেটিংয়ের জন্য আইনটি লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানোর পর দেখা যায়, ২০০১ সালেই এ বিষয়ে একটি আইন পাস করা হয়েছিল। ওই আইনে সরকার গেজেট প্রকাশ করলেই আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইন পাস হওয়ার পর সরকার পরিবর্তন হলে বিষয়টি আর এগোয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রথম উপাচার্য নিয়োগ ও কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ৩ জুন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

তবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মার্চেই এসএসসি পরীক্ষা, পেছানোর সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রমজান, মৌসুমি বৃষ্টি-বন্যা এবং পরবর্তী এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বিবেচনা করেই পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের পর তা মার্চে পিছিয়ে যাওয়ার কারণ এবং পরীক্ষা আরও পেছানোর সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এক হাজারের বেশি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। তারা রোজার আগেই, ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলেন। সেই দিক বিবেচনা করে আমরা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের একটি সম্ভাব্য সময় ধরেছিলাম।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ১০ মার্চ তা শেষ হবে। একই সঙ্গে মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রথমে এসএসসি, এরপর এইচএসসি এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা—সবকিছুর সঙ্গে সমন্বয় করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।’

তার ভাষ্য, সবদিক বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি মাসকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মনে করা হয়েছিল। তবে রমজানের কারণে ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রোজা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরীক্ষা আরও পেছানোর সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘তবে পরীক্ষা পেছানোর আর কোনো কারণ নেই।’

এর আগে চীন সফর শেষে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে পাঁচটি বড় অর্জনের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীন সফর করে। প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ছিলেন।

সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বা টিভেট ব্যবস্থার মডেল ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। পাশাপাশি টিভেট খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সফরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অবসরভাতা না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ৮৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

অবসরে যাওয়া শিক্ষক
অবসরে যাওয়া শিক্ষক

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৮ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী চার বছর ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিয়মিত চাঁদা দেওয়া সত্ত্বেও অবসরের পর তারা প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবসরের ছয় মাসের মধ্যে ভাতা পরিশোধ করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা বাস্তবায়ন করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট জানিয়েছে, জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তিতে এখনই প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি সরকার দিয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা—যার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা বন্ড আকারে অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং ২০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও সংকট নিরসন হবে না। বর্তমানে একটি আবেদন নিষ্পন্ন হতে গড়ে আড়াই বছর সময় লেগে যাচ্ছে।

এদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে চলছেন, আবার অনেকে টাকা না পেয়ে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা প্রাপ্য পাওয়ার জন্য ছুটছেন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও সমাজে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। তরুণ প্রজন্মও শিক্ষা পেশায় আগ্রহ হারাতে পারে। তাদের মতে, শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করাতেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের হিসাবে, বর্তমানে ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন, যার জন্য প্রয়োজন ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে ৪২ হাজার ৬০০ আবেদন জমে আছে, যা নিষ্পত্তি করতে লাগবে প্রায় ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। অথচ বোর্ডের মাসিক চাহিদা ৬৫ কোটি টাকা হলেও জমা হয় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

চাকরিকালে কাটা টাকা

অবসর সুবিধার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬% এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪% টাকা কেটে রাখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে—এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য। অর্থাৎ, চাকরিকালে নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পেতে এখন বছরের পর বছর ধরনা দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

সমাধানের দাবি

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট সমাধানে প্রয়োজন এককালীন বিশেষ বরাদ্দ। নাহলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতেই থাকবে।


 

মন্তব্য করুন
×