বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিতে প্রস্তুত এনসিটিবি

এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা
এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা

সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কাজ করছে—বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো এনসিটিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো ছাপা ও বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে সংস্থাটি। বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির নিজস্ব তদারকির পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়েও নজরদারি করছে। প্রেস মালিকদের সঙ্গেও চলছে নিয়মিত সমন্বয়।

সম্প্রতি এনসিটিবি অডিটোরিয়ামে বই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেখানে মালিকরা মুদ্রণ ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধান করা হলে সময়মতো বই সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মত দেন।

এর পরপরই গত মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি দেশের এক হাজারের বেশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় আগের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরবরাহকৃত বইয়ের বিল দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বই গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বই পাঠানোর সময় মাঠপর্যায় সঠিকভাবে অবহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বই সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত স্থান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে নির্ধারিত সময়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।

মন্তব্য করুন

প্রক্সি দিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা, পিএসসিতে এসে ধরা যুবক

প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে মো. রিপন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দিতে পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হলে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে পরিচয় যাচাই ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর তাকে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএসসি।

পিএসসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. রিপন হোসেন অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী ছিলেন। তার রোল নম্বর ২১০১১৮৭। নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চাকরিতে যোগদানের জন্য তিনি পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পরিচয় যাচাই করতে প্রবেশপত্রের ছবি এবং মৌখিক পরীক্ষার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তার বর্তমান চেহারা মিলিয়ে দেখেন। এতে তার পরিচয় নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়।

বিষয়টি পিএসসির উপপরিচালক শোভন সমাদ্দারকে জানানো হলে তিনি উপসচিব ওয়াসিমুল বারীকে অবহিত করেন। পরে কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে যাচাই-বাছাই ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পিএসসি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিপন হোসেন নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি ওই নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক—কোনো পরীক্ষাতেই নিজে অংশ নেননি। তার পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি লাভের অপচেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরাও, প্রজ্ঞাপনের আগে পেরোতে হবে ৪ ধাপ

সরকারি চাকরিজীবীদের মতো নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। তবে তাদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আর এ প্রজ্ঞাপন জারির আগে চারটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার সময়ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একই প্রক্রিয়ায় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ওই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্মসচিব মো. মজিবুর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ১ জুলাই ২০১৫ থেকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর নির্ধারিত নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ও ভাতা পাবেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর তফসিল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আদেশটি ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর করা হয় এবং তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পরিচালক (শিক্ষা), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এ নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অষ্টম পে-স্কেলের সময়ের মতো এবারও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন হবে। এজন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ার চারটি ধাপ শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্তব্য করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের: মাউশি

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন বা অধ্যাদেশ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন সব দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাইবার স্পেসে আচরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই নীতিমালাগুলো অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারীর 'আচরণবিধি লঙ্ঘনের' শামিল হবে। এর পাশাপাশি এটি অনেক ক্ষেত্রে 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি' এবং 'শাস্তিযোগ্য অপরাধ' হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে 'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)' এবং 'সাইবার সুরক্ষা আইন/অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২৫ নং অধ্যাদেশ)'-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সব আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ভাইভা শেষের দুই বছরের বেশি সময়েও ফল প্রকাশ হয়নি, দ্রুত নিয়োগের দাবি

মাউশির ৬১০ পদের ফল প্রকাশের দাবিতে রংপুরে চাকরিপ্রার্থীদের মানববন্ধন

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ১০ম গ্রেডের চার ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় শিক্ষা ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন চাকরিপ্রার্থীরা।

যে চার পদের ফল আটকে

চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। বিজ্ঞপ্তির আওতায় বিভিন্ন পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা কর্মরত রয়েছেন।

তবে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের ৬১০টি পদে এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। পদগুলো হলো—

  • প্রদর্শক—৫১৪টি

  • গবেষণা সহকারী—২১টি

  • সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার—৬৯টি

  • ল্যাবরেটরি সহকারী—৬টি

আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হয়। কিন্তু ভাইভা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।

‘আমরা অনিশ্চয়তায়’

মাউশির নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, ‘প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভাতেও অংশ নিয়েছি। ৬১০টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন যদি ফল আটকে রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী হবে? আমরা তো অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।’

পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অধিকাংশ পদের ফল প্রকাশ হলেও চারটি ক্যাটাগরির ফল আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। একই নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন দ্বৈতনীতি কেন হবে? আমাদের একবার মন্ত্রণালয়ে, আবার মাউশিতে পাঠানো হচ্ছে। আমরা যেন ফুটবলের মতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছি।’

চার দফা দাবি

স্মারকলিপিতে চাকরিপ্রার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—

১. অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা।
২. ফল প্রকাশের পর নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।
৩. নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রার্থীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া।
৪. নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা।

এ বিষয়ে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ভাইভা শেষের দুই বছরের বেশি সময়েও ফল প্রকাশ হয়নি, দ্রুত নিয়োগের দাবি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ১০ম গ্রেডের চার ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় শিক্ষা ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন চাকরিপ্রার্থীরা।

যে চার পদের ফল আটকে

চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। বিজ্ঞপ্তির আওতায় বিভিন্ন পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা কর্মরত রয়েছেন।

তবে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের ৬১০টি পদে এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। পদগুলো হলো—

  • প্রদর্শক—৫১৪টি

  • গবেষণা সহকারী—২১টি

  • সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার—৬৯টি

  • ল্যাবরেটরি সহকারী—৬টি

আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হয়। কিন্তু ভাইভা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।

‘আমরা অনিশ্চয়তায়’

মাউশির নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, ‘প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভাতেও অংশ নিয়েছি। ৬১০টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন যদি ফল আটকে রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী হবে? আমরা তো অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।’

পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অধিকাংশ পদের ফল প্রকাশ হলেও চারটি ক্যাটাগরির ফল আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। একই নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন দ্বৈতনীতি কেন হবে? আমাদের একবার মন্ত্রণালয়ে, আবার মাউশিতে পাঠানো হচ্ছে। আমরা যেন ফুটবলের মতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছি।’

চার দফা দাবি

স্মারকলিপিতে চাকরিপ্রার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—

১. অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা।
২. ফল প্রকাশের পর নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।
৩. নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রার্থীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া।
৪. নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা।

এ বিষয়ে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্তব্য করুন

মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব দেবেন ইউএনও ও ডিসি — শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তার প্রতিনিধি পালন করবেন—এ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৫ নভেম্বর তারিখে স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি প্রকাশ করে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৬৭৫৭/২০২৫–এর প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ৮ সেপ্টেম্বর যে পরিপত্র (যেখানে সংশোধিত প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী নিয়মিত বা অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল) জারি করেছিল, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে।

এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে প্রবিধানমালা-২০২৪-এর অনুচ্ছেদ ৬৯ অনুযায়ী ইউএনও (উপজেলা পর্যায়) এবং ডিসি বা তার প্রতিনিধি (জেলা পর্যায়) সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিলুপ্ত হবে। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়।

মন্তব্য করুন

পরীক্ষার ডামাডোলে গভর্নিং বডি নির্বাচন: শিক্ষক-অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ

শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো
শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো

৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ: শিক্ষাপঞ্জির সংবেদনশীল সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষাবর্ষের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়—নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশিকা শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, প্রথাগতভাবে এই নির্বাচন বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা এগিয়ে আনা হয়েছে বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার ঠিক মাঝখানে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে।

সংবেদনশীল সময়ে নির্বাচনের নির্দেশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষ করতে হবে। অথচ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এই সময়টিই শিক্ষার্থীদের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির এবং পরীক্ষার সময়।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা: ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা: ২৯ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা যখন পড়াশোনা নিয়ে চূড়ান্তভাবে ব্যস্ত, শিক্ষকেরা প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, ঠিক তখনই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা শঙ্কিত। তাঁদের মতে, এই সময়ে নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ নিশ্চিতভাবেই বিঘ্নিত হবে।

প্রথা ভাঙার কারণ ও উদ্বেগের জায়গা
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সময়ে পাঠদানের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় নির্বাচন ঘিরে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সবার অংশগ্রহণও স্বতঃস্ফূর্ত থাকে। কিন্তু এবার পরীক্ষার সময় নির্বাচন হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষার পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি, বুথ স্থাপন এবং নির্বাচন আয়োজনের অতিরিক্ত চাপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর একাধিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক  বলেন, "একই সময়ে নির্বাচন ও পরীক্ষা নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষার্থীদের জন্য অসুবিধা তৈরি করবে। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। মন্ত্রণালয়ের উচিত অবশ্যই দুটি বিষয়ের রুটিনের মধ্যে সমন্বয় করা।"

অন্যদিকে অভিভাবকেরা সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার সময় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়লে তা সন্তানের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচনের কারণে স্কুলের স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ বিঘ্নিত হলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আগাম প্রচারণায় সরগরম ক্যাম্পাস
নির্বাচনের এখনো দেড় মাস বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের পরিচালনা নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। গেল সপ্তাহে ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আসন্ন গভর্নিং বডি নির্বাচন - ২০২৫ আয়োজন উপলক্ষে বনশ্রী শাখা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় কলেজ শাখার প্রার্থী হিসেবে আহসান উল্ল্যা মানিককে মনোনীত করে অভিভাবকদের প্রতি তাঁকে নির্বাচিত করার আহবান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু। তিনি আগাম প্রচারণার বিষয়ে বলেন, "কলেজের নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ব্যস্ততা বাড়ে। ঢাকার বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই।" তবে তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শিক্ষক প্রতিনিধি মানে হচ্ছে একটি দল বা উপদল তৈরি করা। এই বিষয়টি নির্বাচনে বাদ দেওয়া উচিত।"

মন্ত্রণালয়ের নীরবতা
সাধারণ অভিভাবক এবং শিক্ষক মহলের প্রশ্ন হলো—শিক্ষাবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হওয়ার মুহূর্তে এমন স্পর্শকাতর সময়ে নির্বাচন আয়োজনের তাড়াহুড়ো কেন? যদিও দীর্ঘদিন ধরে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটির নির্বাচন হয়নি, সেই দিকে মন্ত্রণালয়ের নজর কম থাকলেও পরীক্ষার সময় এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের যৌক্তিকতা কী? শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে কিনা, তা নিয়ে এখন শিক্ষামহলে জোর আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, "এ বিষয়ে আসলে আমার বলার কিছু নেই। এটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এটি নিয়ে কাজ করছেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।" তবে বিদ্যালয় পরিদর্শক ও শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন
×