ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ১ম প্রফ দুই সপ্তাহ পেছানোর দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম পেশাগত (১ম প্রফ) পরীক্ষার সময়সূচি অন্তত দুই সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। একাডেমিক সিস্টেম লস, আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষাকার্যক্রমে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা এ দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির কথা জানায়।

সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা ১ম প্রফের বর্তমান সময়সূচির কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, একাডেমিক সিস্টেম লস, হলের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সময়ে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ কারণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে প্রথম পেশাগত পরীক্ষা অন্তত দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও একাডেমিক সমস্যার বিষয়গুলো ডিনের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। জবাবে অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদ জানান, বর্তমান পরীক্ষার সময়সূচি তার একক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়নি। সব ফ্যাকাল্টি সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে রুটিন চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন বলে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান।

‘একাডেমিক ঘাটতি পূরণ না করে পরীক্ষা কঠিন’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক সিস্টেম লসসহ বিভিন্ন কারণে তাদের শিক্ষাকার্যক্রমে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় না নিয়ে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়া হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া কঠিন হবে।

তাদের মতে, একাডেমিক গ্যাপ পূরণ না করেই পেশাগত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাক্ষাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজসহ ঢাবি অধিভুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এসএইচ-২০ ব্যাচের ক্লাস প্রতিনিধি জে কে এম মুবিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা আমাদের একাডেমিক সিস্টেম লসসহ যৌক্তিক সব কারণ সম্মানিত ডিন স্যারের সামনে তুলে ধরেছি। তিনি বিষয়গুলো অনুধাবন করলেও জানিয়েছেন, এটি তাঁর একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানদের লিখিত সম্মতিপত্র পাঠানো হলে ডিন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

জে কে এম মুবিন আরও বলেন, ‘আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার ও বিভাগীয় প্রধানরা আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। আমরা আশা করছি, সম্মানিত শিক্ষকরা আমাদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।’

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

১ নভেম্বর শুরু ১ম ও চূড়ান্ত প্রফ

উল্লেখ্য, ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস কোর্সের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য চার পেশাগত লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ও চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা আগামী ১ নভেম্বর শুরু হবে। দ্বিতীয় পেশাগত পরীক্ষা শুরু হবে ২ নভেম্বর এবং তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষা ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার মারধর, প্রতিবাদে সেই নেতার রুম ভাঙচুর

লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে; এমনকি একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া বা দৌড়ানি খাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের রাতুল হাসান রুম্মান নামে এক শিক্ষার্থী ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রের পরিচয় না দিয়ে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরবর্তীতে তা রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।

তথ্যসুত্রে জানা যায়,রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসাররী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সাথে সংঘর্ষ এ জড়ান। এসময় শরীফকে মারধরের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীফের সহপাঠীরা এসে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করে। পরবর্তীতে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাংচুর করে।

রুমমানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে, শরীফের দাবি—রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।

শরীফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান, গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলার হুমকি দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

সময় শেষ হওয়ার আগেই মেডিকেল সেন্টার বন্ধ, ববি চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ রাখার অভিযোগে দপ্তরপ্রধান ডা. শাম্মী আক্তার নিপাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল সেন্টার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টার খোলা রাখা হয়।

কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্যের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র অফিসার ডা. শাম্মী আক্তার নিপা বলেন, এর আগেও মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়েছে। তিনি শুধু অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টার কত ঘণ্টা খোলা থাকবে, এ বিষয়ে কোনো অফিস আদেশ ছিল না। এ ছাড়া সেন্টারে জনবল সংকটও রয়েছে।’

কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যেহেতু আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর জবাব দেব।’

মন্তব্য করুন

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: গ্রেপ্তারে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল তিন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেন।

সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, হামলায় জড়িতদের অনেকেই চিহ্নিত হলেও হল প্রশাসন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। হামলাকারীদের নাম-পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হলেও মামলায় তাঁদের সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়নি। নাম-পরিচয়সহ মামলা করার দাবি জানানো হলেও প্রশাসন তা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আমরা এখনো কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচিতে যাইনি। আশা করছি, প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে আমরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এর মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’

রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইবতেসাম শান্ত বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে রিপোর্টার্স ইউনিটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং পরবর্তী সময়ে আরও সাংবাদিকদের মারধর ও হুমকির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলায় জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করতে হবে।’

রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসান বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বারবার বলেছি, দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে আটক করার ব্যবস্থা নিতে। তবে এখন জানতে পেরেছি, প্রশাসন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি জানার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনকে বলতে চাই, সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো টালবাহানা করবেন না। কীভাবে কী করতে হয়, তা আমরা খুব ভালো করেই জানি।’

এর আগে রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে চার সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ জন আহত হন।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

মন্তব্য করুন

ইবিতে দুই শিক্ষার্থী আটক, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের উদ্যোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের একটি নির্জন এলাকা থেকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে মাদ্রাসা মসজিদসংলগ্ন একটি কাঁঠালবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, আটক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তরুণী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি মেসে থাকেন।

পরে তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা জানান এবং বিয়েতে সম্মতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করার কথা রয়েছে।

আটক শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘গত সাত-আট মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। আমি ভুল করেছি। আমি তাকে ভালোবাসি এবং তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই শিক্ষার্থী কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্জন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিষয়টি লক্ষ্য করার পর শুক্রবার তাদের আটক করে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিয়েতে সম্মতি জানান। তাদের বাবা-মাকে ডাকা হবে। এরপর বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই ছাত্রী যে মেসে থাকেন, সেটির মালিককেও তলব করা হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।’

মন্তব্য করুন

শেকৃবির বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে ড. নূর জাহিদ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. মো. নূর জাহিদ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংযোগ আরও কার্যকর করার ধারাবাহিকতায় তাঁকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিল্প ও পেশাগত ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিভাগের পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ড. মো. নূর জাহিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা।
এদিকে, পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ড. নূর জাহিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়রা হক।
পৃথক এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ড. জাহিদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ বিভাগের পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ড. মো. নূর জাহিদ বর্তমানে জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি, বীজ, বায়োটেকনোলজি, কৃষি ইনপুট এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের এমন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন
×