ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে অনলাইন ক্লাস

আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রথমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস চালুর কথা জানিয়েছে।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক জরুরি নোটিশে জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনিবার্য কারণে স্থগিত থাকবে, তবে পরীক্ষা চলবে। পরবর্তী দিনের (১৪ নভেম্বর) কার্যক্রম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস ও শাটল সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক দপ্তর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

স্কুলগুলোর মধ্যেও অনলাইন ক্লাস ও বন্ধের সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিউ ইস্কাটনের এজি চার্চ স্কুল নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আজ ও আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

সব প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ‘অনিবার্য কারণে’ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এইচএসসির নিম্নমুখী ফল, ভর্তিযুদ্ধে নামছে শিক্ষার্থীরা

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৩ লাখ আসন; তবু শঙ্কা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

নিম্নমুখী এমন ফলাফলে অনেক শিক্ষার্থী মন খারাপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। কারণ, সামনে তাদের অপেক্ষা করছে কঠিন ‘ভর্তিযুদ্ধ’।

ভর্তিযুদ্ধের সামনে শিক্ষার্থীরা : দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলে উচ্চশিক্ষার স্তরে প্রায় ১৩ লাখ আসন রয়েছে। কিন্তু এবার পাস করেছেন মাত্র ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, আসন ফাঁকা থাকবে ৬ লাখেরও বেশি।

তবুও প্রতিযোগিতা থাকবে শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে; এর মধ্যে ৫৩টিতে চলছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টালে আরও প্রায় ৫ হাজার আসন রয়েছে।
ফলে এই ২০-২২টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে সবচেয়ে তীব্র।

🎓 শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

শিক্ষার্থীদের প্রধান টার্গেট বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষ ২০-২২টি বিশ্ববিদ্যালয়।

নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, “প্রত্যাশা ছিল গোল্ডেন জিপিএ-৫। তা হয়নি। এখন লক্ষ্য বুয়েট— না হলে ঢাবি বা কুয়েট-চুয়েট।”

অন্যদিকে ভিকারুননিসা নূন কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা বলেন, “ঢাকাতেই পড়তে চাই। তাই ঢাবি প্রথম টার্গেট। না হলে রাজশাহী বা জাহাঙ্গীরনগরেও চেষ্টা করবো।”

🏫 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিকল্প

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী—প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে আসন: ৬,৩৪০টি      প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে: ১,৩৫০টি        আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে: ৩৫০টি

এছাড়া শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে ১,৮৬,৮৯৯টি আসন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩,৬৩০টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৮,৫৮,২৭৫টি (অনার্স ও পাস কোর্স মিলিয়ে) আসন রয়েছে।এছাড়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪,৫২৯টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭,৫৯৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজে ১,৪৪০টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে ৫,৬০০টি আসন রয়েছে।

📊 বিশেষজ্ঞের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে আসন সীমিত। ফলে সবাই সুযোগ পাবে না। শিক্ষার্থীদের উচিত বিকল্প সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। সরকারেরও উচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে সেখান থেকেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়।”

 

ধরন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট আসন মন্তব্য
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৩ ৫০,০০০ উচ্চ প্রতিযোগিতা
সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৫,০০০ সীমিত আসন
প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৭,৬৯০ বেশি খরচ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০+ ১,৮৬,৮৯৯ বিকল্প সুযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৬৪ কলেজ ৮,৫৮,২৭৫ তুলনামূলক সহজ ভর্তি
অন্যান্য (উন্মুক্ত, নার্সিং, টেক্সটাইল, মেরিন ইত্যাদি) - ১,০০,০০০+ বিভিন্ন সুযোগ

 “ভর্তিযুদ্ধে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়”
📍বুয়েট, 📍ঢাবি, 📍রাজশাহী, 📍চট্টগ্রাম, 📍জাহাঙ্গীরনগর, 📍জগন্নাথ, 📍শাহজালাল, 📍খুলনা, 📍বরিশাল ও 📍মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেখানো থাকবে।

মন্তব্য করুন

বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি এবং কেন?

ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড
ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড

“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)

কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়?

সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়—

১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence)

অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত।

গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে।

২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality)

অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত—

  • তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়।

  • অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন।

  • শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই।

এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook)

অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

  •  বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি.  আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প

এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে।

উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation)

অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়—

প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে

বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে।

৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy)

অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)।
এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে—

  • প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে।

কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন?

কারণ—

  • প্রত্যেকটি র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে

  • ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে

  • এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম

তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।

মন্তব্য করুন

যবিপ্রবি শিক্ষার্থী তোহার আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জয়

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন (ডব্লিউ-আই-সি-ই) ২০২৫-এ স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মো. তোহা বিন আছাদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ২১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ আসরে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশ থেকে দেড় হাজারের মতো প্রতিযোগী প্রকল্প নিয়ে অংশ নেয়। সেখানে তোহা ও তার সহযাত্রী জাহিদ হাসান জিহাদ এবং তাদের দল ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ প্রকল্প নিয়ে অংশ নেন এবং আইটি অ্যান্ড রোবোটিকস ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক জয় করেন।

উদ্ভাবনী কাজে আগ্রহী এই তরুণ গবেষণামুখী শিক্ষার্থী সবসময়ই স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখার। এরই ধারাবাহিকতায় হেক্সাগার্ড রোভার প্রকল্পটি একটি উদ্ভাবনী রোবোটিক সিস্টেম, যা দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজ, নজরদারি এবং দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

স্বর্ণপদক জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে দ্বীপ বলেন, স্বর্ণপদক অর্জনের সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। বাংলাদেশের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে যখন ঘোষণা করা হলো আমরা স্বর্ণপদক পেয়েছি, তখন মনে হয়েছিল—এটাই জীবনের অন্যতম গর্বের অর্জন। আমার পরিবার আনন্দে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকরাও গভীর গর্ব অনুভব করেছেন এবং বলেছেন, এ অর্জন যবিপ্রবির জন্যও একটি সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি পদক নয় বরং বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি বিশ্বাস করি, এই সাফল্য আগামীতে দেশের আরও তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে।

মন্তব্য করুন

ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে ১৮ কোটি মানুষ: ভিপি সাদিক

ভারতের বিরুদ্ধে শুধু ১১ জন না, ১৮ কোটি মানুষ খেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাবি মহসিন হলের মাঠে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখতে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাদিক বলেন, আমরা এতদিন ভারতের আধিপত্যের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে সে আধিপত্য ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি আজকে জিতব।

তিনি বলেন, আজকে শুধু মাত্র ভারতের বিরুদ্ধে ১১ জন খেলছে না, খেলছে ১৮ কোটি মানুষ।

মন্তব্য করুন

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৭ মার্চ, রুটিন চূড়ান্ত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের ২৭ মার্চ থেকে শুরু হবে। প্রথম দিন 'সি' ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিটের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ মার্চ, ৩ এপ্রিল এবং ১০ এপ্রিল—এই তিন দিনে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

  • ২৭ মার্চ: 'সি' ইউনিটের (বাণিজ্য বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষা।

  • ৩ এপ্রিল: 'বি' ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষা।

  • ১০ এপ্রিল: 'এ' ইউনিটের (বিজ্ঞান বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষা।

তবে, কবে থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে, সেই তারিখ পরবর্তী সভায় নির্ধারণ করা হবে।

সভায় ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন: ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি নয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার নতুনভাবে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০২৫ (সংশোধিত)’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ইতোমধ্যে এর খসড়া তৈরি করেছে। নতুন খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং পরিচালনা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতে পারবেন না। এর মাধ্যমে বোর্ডে পারিবারিক প্রভাব সীমিত করা এবং স্বার্থের সংঘাত রোধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৯ জন এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন হতে হবে। ইউজিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বোর্ডে বৈচিত্র্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এক পরিবারের অতিরিক্ত সদস্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা এই নতুন বিধান দ্বারা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে ইউজিসির নেতৃত্বে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সুনামের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করে ট্রাস্টি বোর্ডে সুপারিশ করবে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কমবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন হবে আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ।

এ ছাড়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নতুন শর্তও যোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে পাঁচ একর জমি থাকতে হবে এবং টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নিতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ইউজিসির ৫৭তম সভায় এই খসড়াটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ট্রাস্টি বোর্ডে পারিবারিক প্রভাব কমানো, নেতৃত্বের ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ইউজিসি মনে করে, এই সংশোধনগুলো কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১৬টি, যার মধ্যে ১০৫টিতে পাঠদান চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি। ইউজিসির আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়বে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য আসবে এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে কমে যাবে।

 

মন্তব্য করুন
×