ক্যামেরার ফ্রেমে আর মঞ্চের অভিনয়ে শেকৃবিতে সমতার জয়গান

সমাজ বদলের হাতিয়ার হতে পারে শিল্প—এই বার্তারই জোরালো প্রতিধ্বনি মিলল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। লিঙ্গবৈষম্যের শেকল ভাঙার আহ্বান জানিয়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী। ‘ম্যাজেন্ডা প্রজেক্ট’-এর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও কিষাণ থিয়েটার।


এবারের আসরে অংশ নেয় দেশের ১০টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি প্রতিভাবান দল। লিঙ্গ সমতার ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ও চিন্তাজাগানিয়া ভিডিওগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৩টি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। ২৫ হাজার টাকার প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৫০ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পান যথাক্রমে ১৫ ও ১০ হাজার টাকা। পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত বিজয়ী প্রতিযোগী জারিফুল ইসলাম জিম বলেন, "সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে প্রশ্নবিদ্ধ করারই চেষ্টা ছিল আমাদের। এই স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ সৃজনশীল পথচলায় দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে।"


শিল্পের পাশাপাশি কথায় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপেও ছিল সমতার স্পষ্ট অঙ্গীকার। শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের সর্বত্র নারী বা পুরুষ পরিচয়ে নয়, সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।" পাশাপাশি তিনি জানান, শেকৃবিতে সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শেকৃবির ছাত্র পরিচালক অধ্যাপক আশাবুল হক প্রদর্শিত ২৭টি বাছাইকৃত ভিডিওচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেন, সমাজের একটি হাত নিষ্ক্রিয় রেখে প্রগতির পথে হাঁটা অসম্ভব; সুন্দর সমাজ গড়তে দুই হাতকেই সমানভাবে কাজে লাগাতে হবে।


পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা শেষে সমকালীন সমাজচিত্র নির্ভর নাটক ‘বহ্নিশিখা’ মঞ্চস্থ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'কিষাণ থিয়েটার'। নিজস্ব রচনা ও নির্দেশনার এই নাটকটি বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের সমতার চেতনায় নতুন করে আলোড়িত করে।

মন্তব্য করুন

মেয়েদের আসনে ছেলেরা, ‘মুক্তি’ বাসে নিয়ম মানা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

মন্তব্য করুন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টোরিয়াল বডি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে।

কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চার দফা সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টোরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে বিভাগভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উত্তেজনা ছড়ায়

এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

এরপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য করুন

জাবির হলে সিগারেট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ, দোকান বন্ধের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের অধীন ‘হাসান টি স্টোরে’ সিগারেট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে অবগত না করেই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) শরীফুল ইসলামের চাপের মুখে দোকান বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকানদার হাসান।

তবে দোকান বন্ধের বিষয়টি আগে জানতেন না বলে জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।

দোকানদার হাসান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে হলের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ তার দোকানে এসে সিগারেট আছে কি না জানতে চান। দোকানে সিগারেট না থাকায় তিনি ‘সিগারেট নেই’ বলে জানান। এ নিয়ে বায়েজিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

হাসান বলেন, ‘আমি বলেছি সিগারেট নেই। সিগারেট বিক্রি করি না—এ কথা বলিনি। বিষয়টি হয়তো বায়েজিদ হল সংসদের জিএসকে জানান। পরে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহির স্যার আমাকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর একজন গার্ড এসে জানান, হল থেকে দোকান বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

তবে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের আগে হল প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘আমি হাসান ভাইকে দুইবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন আমার এক বন্ধুও সঙ্গে ছিল। পরে হলের জিএসসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। গার্ডদেরও জানিয়েছি। তারা বলেছে, আপাতত দোকান বন্ধ থাকুক।’

দোকান বন্ধের বিষয়ে হল সংসদের জিএস শরীফুল ইসলাম বলেন, জিনিসপত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হলের সবাই অবগত। আপাতত দোকানটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝামেলা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে। হল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। সবাই বসে আলোচনা করে আগামীকালের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতাম না। যার সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে, সেই শিক্ষার্থী ও দোকানদার—কেউই আমাকে আগে কিছু জানায়নি। দু’পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি ফয়সালা করব।’

মন্তব্য করুন

রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
×