‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিতে সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বাড়বে সরকারি বরাদ্দ
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নয়নের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দও বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমাতে জাতীয় প্রতিযোগিতা
বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য দূর করার বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’-এর মতো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে।
এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, ‘কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম তৈরির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বিভাগ ও জেলায় চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’
বেকারত্ব কমিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মাহদী আমিন বলেন, বেসরকারি খাতকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাসস