মেডিকেল কলেজে আসন পুনর্বিন্যাস: মানোন্নয়নের যুক্তি নাকি চিকিৎসক সংকটের আশঙ্কা

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করেছে সরকার। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৭২২টি আসন কমানো হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি মেডিকেলে কমেছে ৩৫৫টি আসন, তবে তিনটি কলেজে ৭৫টি আসন বাড়ানোয় নিট হিসেবে সরকারি কলেজে আসন কমেছে ২৮০টি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে অধিদপ্তর নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

🔹 প্রথম সারির ১০ মেডিকেলে আসন কমানো

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের প্রথম সারির ৯টি পুরনো মেডিকেল কলেজ—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট এমএজি ওসমানী, বরিশালের শের-ই-বাংলা, ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ, রংপুর এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ—প্রত্যেকটির ২৫টি করে আসন কমিয়ে ২৫০ থেকে ২২৫ করা হয়েছে।
এছাড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজেও ৫টি কমিয়ে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫টি। ফলে প্রথম সারির এই ১০টি মেডিকেল কলেজে মোট ২৩০টি আসন কমেছে।

🔹 পিছিয়ে থাকা মেডিকেলে বড় কাটছাঁট

রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে মান নিয়ে আলোচিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে ৫০টি আসন কমিয়ে ৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনা, নীলফামারি, নওগাঁ, মাগুরা ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে ২৫টি করে কমিয়ে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০টি করে।

🔹 তিন মেডিকেলে আসন বেড়েছে

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে আসন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাজউদ্দীন ও টাঙ্গাইলে ২৫টি করে বাড়িয়ে আসন হয়েছে ১২৫টি এবং পটুয়াখালী মেডিকেলে ২৫টি বাড়িয়ে ১০০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

🔹 অধিদপ্তরের যুক্তি: মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো সীমাবদ্ধতা

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন বলেন,“এটি আসন কমানো নয়, বরং সমন্বয়। ২০২২ সালে হঠাৎ করে ১০৩০টি আসন বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু অবকাঠামো বাড়ানো হয়নি। অনেক জায়গায় লেকচার গ্যালারির ধারণক্ষমতা ২৫০ হলেও শিক্ষার্থী নেওয়া হয়েছিল ২৫০ বা তারও বেশি। তাই আসন সংখ্যা বাস্তবসম্মতভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, যেন শিক্ষার্থীরা আরামদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,“হ্যাঁ, কেউ বলতে পারে সুযোগ কমছে, কিন্তু মানের চিকিৎসক তৈরি করতে গেলে মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। যত্রতত্র ভর্তি নিলে ভালো ডাক্তার তৈরি হবে না।”

🔹 বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি: মানোন্নয়ন হোক, তবে যুক্তিসঙ্গতভাবে

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সৈয়দ আকরাম হোসেন বিষয়টিকে “যুক্তিসঙ্গত সমন্বয়ের” প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন,“বাংলাদেশে এখনো জনগোষ্ঠীর তুলনায় চিকিৎসক ঘাটতি রয়েছে। তাই আসন কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে শক্ত যুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থাকতে হবে। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) মানদণ্ডে প্রতিটি মেডিকেল কলেজের মূল্যায়ন করা উচিত। তারপর যেখানে ঘাটতি, সেখানে সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”

অধ্যাপক আকরাম আরও বলেন,রাষ্ট্রের উচিত চিকিৎসক তৈরির প্রক্রিয়াকে শুধু সংখ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মান ও চাহিদার ভারসাম্য বিবেচনা করা। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ক্ষেত্রে। তাই যে মেডিকেল কলেজ ভালো পারফর্ম করছে, সেটি সরকারি হোক বা বেসরকারি—রাষ্ট্রের উচিত তাদের প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া।”

তার মতে,“আসন কমানো যুক্তিযুক্ত হতে পারে, কিন্তু সেটি যদি প্রক্রিয়াগতভাবে—যেমন ডব্লিউএফএমই মানদণ্ডে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে—করা হয়, তবেই তা গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক হয়।”

মন্তব্য করুন

মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে ‘অপটোজেনেটিকস’, চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে—তা বোঝার গবেষণায় যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন পিটার হেগেম্যান, জর্জ নাগেল ও কার্ল ডেইসেরথ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের জন্য এ তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে আলো ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ‘অপটোজেনেটিকস’ উদ্ভাবন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, অপটোজেনেটিকসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্নায়ু সার্কিট সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি কারণগত সম্পর্ক অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়েছে। ফলে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া বোঝার পাশাপাশি বিভিন্ন স্নায়বিক ও মানসিক রোগ নিয়ে গবেষণায়ও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শৈবাল থেকে মস্তিষ্কের গবেষণায়

অপটোজেনেটিকসের ভিত্তি তৈরি হয় এককোষী শৈবাল Chlamydomonas নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে। পিটার হেগেম্যানের আগ্রহ ছিল—এই ক্ষুদ্র শৈবাল কীভাবে আলোর উৎস শনাক্ত করে এবং সেদিকে সাঁতার কাটে।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল শৈবালের কোষের পৃষ্ঠে থাকা ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামের বিশেষ প্রোটিন শনাক্ত করেন। নীল আলো পড়লে প্রোটিনটির মাধ্যমে একটি চ্যানেল খুলে যায়। এর ফলে চার্জযুক্ত আয়ন কোষে প্রবেশ করে এবং বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়।

গবেষকেরা আরও দেখতে পান, এই প্রোটিন অন্য কোনো কোষে প্রবেশ করানো হলেও সেটি আলো-সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। পরবর্তী সময়ে এই বৈশিষ্ট্যই স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতি তৈরির ভিত্তি হয়ে ওঠে।

আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ স্নায়ুকোষ

এরপর কার্ল ডেইসেরথ চ্যানেলরোডপসিনকে ব্যবহার করে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিন তৈরির জিন প্রবেশ করান। এরপর নীল আলো প্রয়োগ করে ওই স্নায়ুকোষে বৈদ্যুতিক সংকেত সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।

২০০৫ সালে ডেইসেরথ এ গবেষণার ফল প্রকাশ করেন। এর দুই বছর পর জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ সক্রিয় করার ক্ষেত্রেও সফলতা পান তিনি। এ গবেষণার ধারাবাহিকতায় আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিটি ‘অপটোজেনেটিকস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

নিউরোসায়েন্সে নতুন যুগ

অপটোজেনেটিকস দ্রুতই বিশ্বজুড়ে নিউরোসায়েন্স গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিতে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ু সার্কিট শনাক্ত এবং সেগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান।

এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্নায়বিক ও মানসিক রোগের কার্যকারণ বোঝার গবেষণাও এগিয়েছে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়েও অপটোজেনেটিকসের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে।

নোবেল কমিটি বলছে, অপটোজেনেটিকস মস্তিষ্ক গবেষণার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ ও সার্কিটকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মানুষের স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণের পেছনে থাকা জটিল প্রক্রিয়া বোঝার পথ আরও উন্মুক্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি: ১৬ বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টাল কলেজের ২৯ ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ১৬টি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের ২৯ জন শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল। নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানজীম রুবাইয়াত আফিফ ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুল কবীর স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে সংশ্লিষ্ট নেতাদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও বিগত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের অনুপস্থিতি সংগঠনের কাছে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার কারণ এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এ বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বসুন্ধরা আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব, বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং সিটি ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এ ছাড়া হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও শোকজ করা হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন আশিয়ান মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

এ ছাড়া পপুলার মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিষয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

৫১তম বিশেষ বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর

৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এবারের বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পিএসসি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

আবেদন শুরু ১ অক্টোবর

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড অথবা পিএসসির ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

সাধারণ প্রার্থীদের আবেদন ফি ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ফি ৫০ টাকা। এর সঙ্গে টেলিটকের ভ্যাট ও ডেটা ভেরিফিকেশন চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ৫ টাকা দিতে হবে।

২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবেদন করে ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন।

বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা

২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে, তারা এ বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের সব লিখিত পরীক্ষা ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হতে হবে। দেশি বা বিদেশি ডিগ্রির সমমানের সনদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় জমা দিতে হবে।

সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে।

৩০০ নম্বরে বাছাই

এবারের বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে ২০০ নম্বরের লিখিত এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে থাকবে। মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে থাকবে ১০ নম্বর করে। সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে থাকবে ১০০ নম্বর।

প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা হবে।

নভেম্বরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা

পিএসসি জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষা মূলত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও প্রার্থিতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের তদবির করলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল সনদ ব্যবহার কিংবা পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

এ ছাড়া এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করার কথাও জানিয়েছে পিএসসি।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি ও অন্যান্য কারণে শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে।

মন্তব্য করুন
×