জাবির ভর্তি পরীক্ষা এবারও ক্যাম্পাসেই, বিভাগীয় শহরে নয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা এবারও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।
তিনি বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত দিয়েছে, গত বছরের মতো এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষা হবে। অন্যান্য বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।’
এর আগে গত বছর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
যে কারণে বিভাগীয় শহরে হচ্ছে না
বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা না নেওয়ার পেছনে সময়, পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, শিক্ষক ও ভিজিলেশন সংকট এবং শিক্ষার্থীদের বাড়তি আর্থিক চাপের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় নিয়মিত একাডেমিক ও আবাসিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনেও কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহ কিংবা ঈদের পর পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলবে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারের অধিকাংশ দিনই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম থাকে। ফলে বিভাগীয় শহরগুলোতে পরীক্ষা আয়োজন করতে গেলে জাবির ভর্তি পরীক্ষা মার্চের শেষ সপ্তাহ বা এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
এতে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শহরে পরীক্ষা নিতে গেলে আবেদন ফি ও যাতায়াত খরচ বাড়বে। আবার সবার জন্য সমান আবেদন ফি রাখার নীতির কারণে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে বলে জানান তিনি।
ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে নতুন প্রস্তাব
ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র বা প্রশ্নের ধরন নির্ধারণের বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে একটি প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম কিছুটা আলাদা হওয়ায় তাদের জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কীভাবে প্রণয়ন করা যায়, সে বিষয়ে উপাচার্য একটি প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটি। কমিটির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রতিটি ফ্যাকাল্টির ইউনিটভিত্তিক প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ভবিষ্যতে কম শিফটে পরীক্ষা
বর্তমান ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়িয়ে কম শিফটে, এমনকি এক শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়েও একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হয়েছে।
সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘হঠাৎ করে শিফটের সংখ্যা কমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে না। আমাদের শিক্ষকসংখ্যা সীমিত। পাশাপাশি পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় ভিজিলেশন ব্যবস্থারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তাই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আবেদন নেওয়া বা বিভিন্ন জেলা শহরে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয়। কারণ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও সীমিত আসনের কারণে তাদের বড় অংশকেই শেষ পর্যন্ত ভর্তি করা সম্ভব হবে না।
একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা তিন বিষয়ে
মঙ্গলবারের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় মোট তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা। এগুলো হলো—নিয়মিত প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা এবং গ্র্যাজুয়েট সম্মেলন।
গ্র্যাজুয়েট সম্মেলন নিয়েও সভায় বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ডিন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে উপাচার্য আলোচনা করবেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।