এফএইচ হলের প্রভোস্টকে হেয় করার প্রতিবাদে ঢাবি ফার্মেসি শিক্ষকদের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুষদের শিক্ষকরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া চিঠিতে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, এফএইচ হলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যে টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

চিঠিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অভিযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের অধিকারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকরা আরও বলেন, এফএইচ হলে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চাওয়া সবার অধিকার হলেও চাপ প্রয়োগ কিংবা মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত শেষে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়াই সমীচীন।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাডেমিক এলাকায় ব্যানার-পোস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে হেয় করার মতো প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তিনি ছাড়াও ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা মর্মাহত হয়েছেন এবং এর প্রভাব অনুষদের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমে পড়ছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, কোনো বিষয় তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত ছবি ব্যবহার, ব্যানার-পোস্টারিং ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে তদন্তের ফল প্রকাশের আগেই দায়ী করা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার শামিল।

ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও-ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ব্যানার-পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা উচিত।

শিক্ষকদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত বা হেয় করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো যৌক্তিক অভিযোগকেও খাটো বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিঠির শেষে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তি, সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা চর্চার বিদ্যাপীঠ। তাই মব-চাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ ফর গাজা’: ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতির পদযাত্রা

২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি
২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ ফর গাজা’ করে গাজার নিরীহ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছে।

  • শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে পদযাত্রা শুরু করে। পদযাত্রা শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

  • শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, মসজিদুল আকসা রক্ষা করার জন্য তারা লড়াই করবে এবং মসজিদটি ছাড়বে না।

  • জামিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার স্থানীয় নেতা সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, বিশ্বের নানা মহলে বিরোধ থাকলেও তাওহিদ ও শিরক নিয়ে বড় লড়াই চলছে; ভবিষ্যতে তাওহিদ বিজয়ী হবে—এমন ভাবনা জানান।

  • আরো পড়ুন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাজনৈতিক স্বার্থ, সতর্ক করেছেন উপদেষ্টা

  • তানভীর মণ্ডল বলেন, আল আকসা মুসলমানদের প্রথম কিবলা; ফিলিস্তিনের ইতিহাস ও আবেগ আমাদের সবার সঙ্গে জড়িত। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

  • শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলের হাতে প্রায় ৬৬,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন। সাম্প্রতিক মানবিক নৌবহরে হামলারও কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন করেন।

  • মসজিদের খতিব আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, ফিলিস্তিনিদের কষ্টে যদি আমরা অনাসক্ত থাকি, তাহলে আমাদের ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হবে; প্রয়োজনে রক্ত ও জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকতে হবে—এমন বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত ছাত্রদল প্রার্থীর

আবিদুল ইসলাম খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরাজিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনের সময় ছাত্রদল রাষ্ট্রের স্বার্থে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ভোটার ও প্রার্থীদের অভিযোগের যথাযথ জবাবদিহি করতে যদি প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে ডাকসু নির্বাচন পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থেকেই যায়।

” শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে “মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন” বিষয়ে আয়োজিত তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা শীর্ষক সংলাপের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আবিদ জানান, খুব শিগগিরই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনও আলোচনা হয়।

এবারকার নির্বাচনও সদ্য শেষ হয়েছে, যেখানে নানা অভিযোগ উঠেছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগের জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আমরা পূর্বের মতো সংঘাতের পথে হাঁটিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করিনি। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। নতুন বাংলাদেশের নতুন ছাত্ররাজনীতির প্রচলনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছি। ভোটে নানা অনিয়মের ফাঁদ পাতা হয়েছিল, সেখানে আমাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” ভিপি পদে হারের বিষয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “এটিকে আমরা সরলভাবে পরাজয় বলতে চাই না। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তি প্রভাব বিস্তার করছে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হন সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হন ফরহাদ হোসেন। তারা দুজনই ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষকতা মহান পেশা, কিন্তু মান-মর্যাদায় পিছিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষকরা

শিক্ষকতাকে দীর্ঘদিন ধরে মহান পেশা হিসেবে অভিহিত করা হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মান-মর্যাদা ও আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব পর্যায়ের শিক্ষকই বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদা নিয়ে অসন্তুষ্ট।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৬২০টি, যেখানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি সহকারী শিক্ষক এখনো তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদায় আছেন। তাঁরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান—যেখানে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা, মোট বেতন প্রায় ১৮ হাজার টাকার মতো। যদিও প্রধান শিক্ষকদের সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে, তবুও এখনো তাঁরা সমপদের পূর্ণ বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।


 প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন

সহকারী শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রাথমিক সহকারী সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
তাদের তিন দফা দাবি হলো—
► সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে বেতন ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ,
► চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড বাস্তবায়ন,
► প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের প্রতিবার আশার বাণী দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমি ১৬ বছর চাকরি করছি, এখনো ১৩তম গ্রেডে বেতন পাই। শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হন, পাঠদানে মনোযোগী হবেন কিভাবে?”


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র

বাংলাদেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, যেখানে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যাদের বিএড নেই, তাঁরা ১১তম গ্রেডে ১২,৫০০ টাকা মূল বেতন পান। আর বিএডধারীরা ১০ম গ্রেডে যান, যেখানে মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা। তাঁদের বাড়িভাড়া ১,০০০ টাকা ও চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা।

কলেজ পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নবম গ্রেডে ২২,০০০ টাকা মূল বেতন পান। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা তাঁরা পান না। সম্প্রতি উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।


 নন-এমপিও শিক্ষকদের দুরবস্থা

দেশে এখনো ৬,৫০০ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা কোনো সরকারি বেতন পান না।
এছাড়া অনার্স-মাস্টার্স কলেজে প্রায় ৫,৫০০ শিক্ষক এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক একই অবস্থায় আছেন।
তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি— এমপিওভুক্তির আওতায় আনা এবং পূর্ণাঙ্গ ভাতা নিশ্চিত করা।

এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।


 শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য : 

বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল বাশার হাওলাদার বলেন,

“ইউনেসকোর ১৯৯২ সালের সনদে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা থাকবেন সব পেশার ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশ সেই সনদে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু আমাদের শিক্ষকরা এখনো বেতন-ভাতায় সবচেয়ে পিছিয়ে। অভাব-অনটনে ভালো শিক্ষাদান আশা করা যায় না।”তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের অবহেলা, হেনস্তা, চাকরিচ্যুতি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা চাই, আগামী দিনে সরকার যেই হোক না কেন, শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিক।”


🎓 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাস্তবতা

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মোট ১৭২টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে—সরকারি ৫৬টি এবং বেসরকারি ১১৬টি।

কয়েকটি নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানের বেতন দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকরা নামমাত্র বেতন পান।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা সরকারি স্কেল অনুযায়ী বেতন পেলেও তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।


🌍 আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান

দেশ

পদ/ মূল বেতন (প্রায়)

বাংলাদেশ

প্রভাষক২২,০০০ টাকাঅধ্যাপক৬৪,৬০০ টাকা

ভারত

সহকারী অধ্যাপক৫৫,০০০ টাকাসহযোগী অধ্যাপক৯০,০০০ টাকাঅধ্যাপক,১০,০০০ টাকা

পাকিস্তান / শ্রীলঙ্কা

তুলনামূলকভাবে উন্নত বেতন ভাতা

অধিকাংশ দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রভাষকের পদ নেই—শুরু হয় সহকারী অধ্যাপক থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক মানে বাংলাদেশের শিক্ষকরা অনেকটাই পিছিয়ে।


 

শিক্ষকতা পেশা মহান হলেও বাংলাদেশের শিক্ষকরা এখনো মর্যাদা, পদোন্নতি ও আর্থিক নিরাপত্তায় পিছিয়ে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—সব স্তরেই রয়েছে বেতন বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও আন্দোলনের ইতিহাস।
ইউনেসকোর এবারের প্রতিপাদ্য— “শিক্ষকতা পেশা : মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি”—এই আহ্বানটিই যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের শিক্ষকদের।

মন্তব্য করুন

৩ জানুয়ারি কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা

৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি
৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি


২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন।

তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সব সমন্বয় করবে গাকৃবি। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ACAS–এর অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, আসন বিন্যাস এবং প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তথ্য পরে জানানো হবে।

কৃষি গুচ্ছের আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে ১৮ কোটি মানুষ: ভিপি সাদিক

ভারতের বিরুদ্ধে শুধু ১১ জন না, ১৮ কোটি মানুষ খেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাবি মহসিন হলের মাঠে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখতে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাদিক বলেন, আমরা এতদিন ভারতের আধিপত্যের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে সে আধিপত্য ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি আজকে জিতব।

তিনি বলেন, আজকে শুধু মাত্র ভারতের বিরুদ্ধে ১১ জন খেলছে না, খেলছে ১৮ কোটি মানুষ।

মন্তব্য করুন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের লং মার্চ ঘোষণা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা শিক্ষাভবন অভিমুখে লং মার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“আমরা এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে এক কদম পিছিয়ে আসা মানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আশা ও আত্মত্যাগকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, বহু প্রতীক্ষিত এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি না হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“এই আন্দোলন শুধু দাবি নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ইতিহাসে এত সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও পরিণত আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। আমরা আমাদের শেষ পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।”

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের জন্য একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে—

  • সায়েন্স স্কুলে থাকবে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ

  • আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ স্কুলে থাকবে সরকারি বাংলা কলেজ

  • বিজনেস স্কুলে অন্তর্ভুক্ত হবে সরকারি তিতুমীর কলেজ

  • ল অ্যান্ড জাস্টিস স্কুলে থাকবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুসারে শিক্ষার্থীরা প্রথম চার সেমিস্টারে সাধারণ নন-মেজর কোর্স করবে, এরপরের চার সেমিস্টারে নির্দিষ্ট বিষয়ে (ডিসিপ্লিনভিত্তিক) অধ্যয়ন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস এমন স্থানে স্থাপন করা হবে, যা সব শিক্ষার্থীর জন্য যাতায়াত-সুবিধাজনক হবে। ক্লাস নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

খসড়া কমিটির সদস্য তানজিমুদ্দিন খান বলেন,“আমাদের দায়িত্ব ছিল খসড়া তৈরি করা। আমরা তা সম্পন্ন করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।”

উল্লেখ্য, সাত কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু এরপর থেকেই নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতা দেখা দেয়, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনে নামে। দীর্ঘদিনের সেই জটিলতার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, কলেজগুলোকে পুনরায় পৃথক করা হবে। পরে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট পৃথকীকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

মন্তব্য করুন
×