ইউনেস্কোর ‘ডিজিটাল লার্নিং উইকে’ যোগ দিতে ফ্রান্সে শিক্ষামন্ত্রী

ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ অংশ নিতে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আগামী ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা: সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা’ (Education in the Age of AI: Facts, Frictions, Frontiers)।

সূচি অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো সদর দপ্তরে ‘Age Appropriateness and AI in Education’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেবেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ‘Teachers at the Center: Agency, Competencies and the Teacher-Student Relationship’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এবারের ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষার ভবিষ্যৎ, শিক্ষকদের ভূমিকা, এআই ব্যবহারের উপযুক্ততা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১২ কোটিরও বেশি নতুন পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হবে

এনসিটিবি-NCTB
এনসিটিবি-NCTB

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি), দাখিল এবং কারিগরি শাখার ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭১টি নতুন পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই বিশাল সংখ্যক বইয়ের জন্য মোট ৪৪৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬১ টাকা ব্যয় হবে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

তিন ধাপে অনুমোদিত বই ও ব্যয়:

১. ষষ্ঠ শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির ষষ্ঠ শ্রেণির মোট ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

  • এতে মোট ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ টাকা ৫৮ পয়সা

২. অষ্টম শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির অষ্টম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৮ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

  • এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার ৯৭ টাকা

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ টাকা

৩. সপ্তম শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির সপ্তম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯২ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

  • এই বইগুলোর জন্য ব্যয় হবে ১৫০ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৪ টাকা

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা ৭ পয়সা

ক্রয় প্রক্রিয়া:

জানা গেছে, তিনটি শ্রেণির জন্যই আলাদাভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি কমিটি (টিইসি)-এর সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বইগুলো ক্রয় করার প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন—বরগুনা জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের গভ. মুসলিম হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) মোহাম্মদ ওসমান গনি, ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান খান এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মাহফুজা খানম।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট চার শিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ অব্যাহতি দুটি শর্তের অধীনে কার্যকর হবে।

শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তাদের নামে কোনো সরকারি পাওনা উদঘাটিত হলে তা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন এবং চাকরির নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় তারা কোনো ধরনের আর্থিক বা অনার্থিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

এর মধ্যে পেনশন, আনুতোষিকসহ চাকরিসংক্রান্ত অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও প্রযোজ্য হবে না বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ ছয়টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে কমিটিগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এদিন সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (বরগুনা-২) সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এসব কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে যারা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া ছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা (গোপালগঞ্জ-১), মো. জাহাঙ্গীর আলী মিয়া (মাদারীপুর-২), তাহসিনা রুশদীর (সিলেট-২), বীথিকা বিনতে হোসাইন (মহিলা আসন-২৪), মো. মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১) এবং আতিকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়াও কৃষি, মহিলা ও শিশু, সড়ক পরিবহন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও এদিন গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। পরে সভার কার্যবিবরণীতে প্রস্তাবটি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন বিষয়ক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বগুড়ার সব সংসদ সদস্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।

সভায় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের তেমন উন্নয়ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করে প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।

এ সময় তিনি বগুড়ায় নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।

পুরোনো আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ২০০১ সালের ১৫ জুলাই আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৩ সালের ১০ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ২০১৯ সালে অনুমোদিত নতুন আইনের খসড়া বাতিল করা হয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০০১ সালেই একটি আইন পাস হয়েছিল।

তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ বিষয়ে মন্ত্রিসভার নীতিগত সম্মতি ছিল। তবে ভেটিংয়ের জন্য আইনটি লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানোর পর দেখা যায়, ২০০১ সালেই এ বিষয়ে একটি আইন পাস করা হয়েছিল। ওই আইনে সরকার গেজেট প্রকাশ করলেই আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইন পাস হওয়ার পর সরকার পরিবর্তন হলে বিষয়টি আর এগোয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রথম উপাচার্য নিয়োগ ও কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ৩ জুন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

তবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে রেকর্ড আবেদন, বিপাকে শিক্ষা বোর্ড, আসছে নতুন নীতিমালা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা এবার শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগ নয়, বরং পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে— শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে এবার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। অনেকেই একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় মোট খাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক খাতা নতুন করে দেখা নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

অন্যদিকে, প্রতি খাতার ফি ১৫০ টাকা হিসেবে শিক্ষার্থীদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা। ফি বাবদ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়কে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক পরিচালক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন:"ফরম পূরণের সময় পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়ন ও ফল তৈরি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও শিক্ষার্থীদের খাতা ঠিকঠাকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তখন যদি কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করতে চায়, তাহলে তাকে ফি দিতে হবে কেন? শুধু সে পুনর্নিরীক্ষণ চায়, এ আগ্রহ জানালেই তো বোর্ড পুনরায় খাতা দেখে তার ফল জানাতে বাধ্য।"

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থীর মা আরিফা জাহান হেনা,"আমরা তো ফরম পূরণের সঙ্গে সব ফি দিয়েছি। তাহলে আবার কেন ফি দিতে হবে? তাছাড়া পুরো খাতাটা নাকি দেখাও হয় না। তারা যোগ বা বিয়োগ করতে ভুল করে; সেটা সংশোধনে আবার উল্টো আমাদের কাছ থেকেই টাকা নেন। এটা তো জুলুম।"

মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ খাতা তৃতীয় পরীক্ষক দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে মূল্যায়ন করা শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য একপ্রকার অসম্ভব কাজ। এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের একজন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মূল্যায়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন,"প্রতি বান্ডিল খাতা থেকে র‌্যানডম (দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে) কয়েককটি খাতা নিয়ে দেখে তাতে গরমিল পাওয়া গেলে, বান্ডিলের সব খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে। যদি কোনো বান্ডিলে এমন সমস্যা না হয়, তাহলে শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগ ঠিক করা হবে।"

এদিকে, পুনর্নিরীক্ষণের কারণে একাদশে ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে শিক্ষা বোর্ড। একাদশ শ্রেণিতে সাধারণ ভর্তি আবেদন ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে ভর্তির আবেদনের বিশেষ সুযোগ পাবেন। ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন,"পুনর্নিরীক্ষণে কেউ যদি ফেল থেকে পাস করে, সেদিক বিবেচনায় দুই দিন আবেদনের সুযোগ রেখেছি। তারা একই নিয়মে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। তাদের আবেদন নেওয়ার পর একাদশে ভর্তিতে কে, কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এতে ভয় বা উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আগ্রহী সবাই ভর্তির সুযোগ পাবে।"

সব মিলিয়ে আবেদনের এই বিশাল স্তূপ দেখে চাপে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এত খাতা পুনর্মূল্যায়ন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে তিনি নতুন নীতিমালার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন,bl"এবার এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এ অবস্থা দেখে মনে হয় প্রায় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; যেন কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, সেগুলোর আওতা নির্দিষ্ট করা যায়।"

মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার আলোকেই কাজ চলছে বলে জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান,"অসংখ্য খাতা পুনর্নিরীক্ষণে আবেদন এসেছে এবার। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ করছি। পুনর্মূল্যায়ন বলেন বা পুনর্নিরীক্ষণ বলেন, যেটা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, সেটাই আমরা মানছি। এর বাইরে আর কিছু জানানো সম্ভব নয়।"
 

মন্তব্য করুন
×