নিট কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলন

টানা বিক্ষোভের পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET-UG)–এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রহ্লাদ যোশীকে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা আসন থেকে নির্বাচিত প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে ভোক্তা অধিকার, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয় এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কয়লা, খনি ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন।

গত মে মাসের শেষ দিকে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। জুনের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ভারতে ফিরে এসে দিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরে ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। টানা ২৬ দিন অনশন করার পর চলতি সপ্তাহে তিনি সরকারের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করেন।

এদিকে আন্দোলন দ্রুত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বড় বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দেয়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সরকারের আশ্বাসে ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে সিজেপি। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটা এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের লাগাতার চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হয়।

মন্তব্য করুন

স্কুল-কলেজ নির্মাণে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম:

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের তদন্ত শুরু

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) আওতাধীন স্কুল ও কলেজের একতলা ভবন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত ৯ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক ভবনের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। অথচ বরাদ্দ অর্থের ৯০ শতাংশই ঠিকাদারদের দেওয়া হয়েছে, আর কাজের মানও খুব নিম্নমানের।

অনেক প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 이에 শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৩ অক্টোবর ইইডির প্রধান প্রকৌশলীকে পাঁচ প্রকৌশলী ও ১১ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ নভেম্বর ইইডি আদেশ জারি করে। ১৭ নভেম্বর ওই পাঁচ প্রকৌশলী ও ১১ ঠিকাদার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশিত হয়েছেন।

অনিয়মের অভিযোগে থাকা প্রকৌশলীদের মধ্যে রয়েছেন:

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-২ মো. আসাদুজ্জামান

  • তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পিআরএল) মীর মুয়াজ্জেম হোসেন

  • নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. জরজিসুর রহমান

  • ঢাকা মেট্রোর উপসহকারী প্রকৌশলী এ কে এম মনিরুজ্জামান

  • উপসহকারী প্রকৌশলী জামিল হোসেন

একাধিক সূত্রের দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা ও ওএসডি প্রকৌশলী রায়হান বাদশার সঙ্গে আসাদুজ্জামান ও জরজিসুরের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে তাদের স্বপদে থাকা অবস্থায় তদন্ত কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী সাংবাদিককে জানান, “মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি কাজ করছে।”

নাটোর জেলার একাধিক স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিলমারিয়া দাখিল মাদরাসার কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২১ সালের ২২ জুন। ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাজের মাত্র ৩০ শতাংশ বাকি থাকলেও ঠিকাদারকে ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছে না।

একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে ‘লাইসেন্স বাণিজ্য’ চলছে। দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলমের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ দেশে একাধিক জেলায় একচেটিয়া কাজ পাচ্ছে এবং লাইসেন্স ভাড়া বাবদ অর্থ রাজনৈতিক ফান্ডে যাচ্ছে। এর সঙ্গে প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান যুক্ত।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ প্রকৌশলী জরজিসুর রহমানকে অভিজ্ঞতা, বিভাগ বা মেধাক্রম ছাড়াই যান্ত্রিক নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

নাটোরের কয়েকটি স্কুল ও কলেজের নির্মাণে অসংখ্য কোটি টাকা বিল পরিশোধ হলেও কাজ শেষ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও প্রকৌশলী মিলিত হয়ে বিল ভাগ-বাটোয়ারা করেছেন।

তদন্ত কমিটি সোমবার সব পক্ষের বক্তব্য শুনবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৭ অক্টোবর পর্যন্তই, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত নয় : মাউশি

শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো
শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো

দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৭ অক্টোবর পর্যন্তই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনের অবকাশকালীন ছুটি অনুমোদনের কথা উল্লেখ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রজ্ঞাপনে এ সময়ের মধ্যে কোনো পরীক্ষা গ্রহণ না করার নির্দেশ থাকলেও ছুটি কোন স্তরের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য, তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।

মাউশির মাধ্যমিক শাখার উপপরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী গণমাধ্যমকে বলেন, “ছুটি শুরু হয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এবং তা ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ৮ অক্টোবর থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে। শুধু ৮ ও ৯ অক্টোবর পরীক্ষাবিহীন দিন হিসেবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কিছু প্রতিষ্ঠান ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষাবিহীন দুদিন রাখা, ছুটি বাড়ানো নয়।”

এ কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান ভুল বুঝতে পেরে ৮ অক্টোবর থেকে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসের কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন নেই; প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। বিভ্রান্ত হলে সরাসরি মাউশির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ, ‘ভাইভা কার্ড’ ঠেকানোর হুঁশিয়ারি

নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লিখিতের গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী, ডাকসু সদস্য ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে মল চত্বর ও হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে মধুর ক্যান্টিনসংলগ্ন নির্ভীক জুলাই চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিয়োগে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত পদ্ধতি থাকতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত সুপারিশ, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে ভূতে ধরেছে। ভূতের পা থাকে পেছনে, যার কারণে ভূত সামনে গেলেও পিছিয়ে যায়। বিএনপি সরকারও জনগণের ম্যান্ডেট রক্ষা না করে দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা মেধাকে ধ্বংস করে দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলতে শুরু করেছেন লিখিত পরীক্ষায় শুধু পাস কর, ভাইভাটা আমরা দেখছি। দলীয়দের জন্য ভাইভা কার্ড চালু করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি ২৪তম বিসিএসে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে একটি দলের অধীনে শতাধিক এসপি নিয়োগের অভিযোগও তুলে ধরেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপি সরকার নিয়োগে যতই ভাইভা কার্ড নিয়ে আসার চেষ্টা করুক, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি কখনো সম্ভব হতে দেওয়া হবে না।’ নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ‘চব্বিশের আগে হাসিনা সরকার মেধার সামনে কোটার দেওয়াল তুলে রেখেছিল। ছাত্র-জনতা সেই দেওয়াল ভেঙেছে। তেমনি বর্তমান সরকার ভাইভার নামে যে স্বজনপ্রীতির দেওয়াল দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, সেটিও ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ভেঙে দেবে।’

ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দেক আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান সরকার নিয়োগ-বাণিজ্য ও দলীয়করণের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। সরকার যদি মনে করে ভাইভায় নম্বর বাড়িয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য করবে, তাহলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আবারও জুলাইয়ের প্রাচীর গড়ে তোলা হবে।’

সমাবেশ থেকে বক্তারা নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক—উভয় ধাপেই প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সুপারিশের মাধ্যমে যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কোর্সের মোট নম্বরের ৮০ শতাংশ ফাইনাল পরীক্ষায় এবং ২০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নে বরাদ্দ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে তত্ত্বীয় কোর্সের প্রশ্নের ধরন ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন কার্যকর হবে।

প্রশ্নপত্রের ধরন ও মূল্যায়ন কাঠামো

নতুন কাঠামো অনুযায়ী—

  • চার ক্রেডিট কোর্সে: ১২টি প্রশ্নের মধ্যে ৮টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৮০, সময় ৪ ঘণ্টা।

  • তিন ক্রেডিট কোর্সে: ৯টি প্রশ্নের মধ্যে ৬টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৬০, সময় ৩ ঘণ্টা।

  • দুই ক্রেডিট কোর্সে: ৬টি প্রশ্নের মধ্যে ৪টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৪০, সময় ২ ঘণ্টা।

প্রয়োজনে প্রতিটি প্রশ্নে সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্ন (ক, খ, গ বা a, b, c) রাখা যাবে।

ধারাবাহিক মূল্যায়নের ধরন

প্রতিটি তত্ত্বীয় কোর্সের মোট নম্বরের ২০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত থাকবে।

  • চার ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৫ নম্বর, ক্লাস উপস্থিতি ৫ নম্বর, এবং ইন-কোর্স পরীক্ষায় (দুটি ইন-কোর্সের গড়) ১০ নম্বরসহ মোট ২০।

  • তিন ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৪ নম্বর, উপস্থিতি ৩ নম্বর, ইন-কোর্স ৮ নম্বরসহ মোট ১৫।

  • দুই ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৩ নম্বর, উপস্থিতি ২ নম্বর, ইন-কোর্স ৫ নম্বরসহ মোট ১০।

ব্যবহারিক কোর্সের মূল্যায়ন

ব্যবহারিক কোর্সগুলোর মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিলেবাস অনুযায়ী সম্পন্ন হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।নতুন এ পদ্ধতি কার্যকর হলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত অংশগ্রহণের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

মন্তব্য করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ: পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ৭৭ হাজার

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের ৯টি সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা—মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফল প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বোর্ডের ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন।

এ বছর মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন, আর ফেল করেছেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। ফলে পাসের হার হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, আর ফেলের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এ বছর সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

ফলাফলে এবারও সব দিক থেকে এগিয়ে ছাত্রীদের পারফরম্যান্স। মোট পাস করা শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬ জন এবং ছাত্র ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৪ জন। ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।

একইভাবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এগিয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা। মোট ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন।

🔸 সামগ্রিকভাবে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হলেও, ছাত্রীদের সাফল্য এখনো আশাব্যঞ্জক।

 
মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বললেন

‘জিয়াউর রহমানের ওপর বিশ্বজুড়ে গবেষণা হয়’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যার ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চলছে। কারণ, তিনি স্বাধীনতার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের যে মৌলিক ভিত্তি প্রয়োজন, তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সম্প্রতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন দেশের প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও রাজনীতির মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ‘উৎপাদনের রাজনীতি’ চালু করেন এবং মানুষকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেন। এর মাধ্যমে জাতিকে আত্মপরিচয়ের শক্তিতে দৃঢ় করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যান। তিনি এই দেশে সকলের জন্য কথা বলা ও রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন, যার সুফল আমরা আজও পাচ্ছি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. ফকির রফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ শিশিম, গাজীপুর জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. ইয়াকুব মিয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সরকার।

মন্তব্য করুন
×