নিট কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলন

টানা বিক্ষোভের পর অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET-UG)–এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শনিবার পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রহ্লাদ যোশীকে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা আসন থেকে নির্বাচিত প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে ভোক্তা অধিকার, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয় এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কয়লা, খনি ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন।

গত মে মাসের শেষ দিকে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। জুনের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ভারতে ফিরে এসে দিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরে ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। টানা ২৬ দিন অনশন করার পর চলতি সপ্তাহে তিনি সরকারের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করেন।

এদিকে আন্দোলন দ্রুত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বড় বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দেয়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সরকারের আশ্বাসে ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে সিজেপি। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটা এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের লাগাতার চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হয়।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বললেন

‘জিয়াউর রহমানের ওপর বিশ্বজুড়ে গবেষণা হয়’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যার ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চলছে। কারণ, তিনি স্বাধীনতার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের যে মৌলিক ভিত্তি প্রয়োজন, তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সম্প্রতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন দেশের প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও রাজনীতির মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ‘উৎপাদনের রাজনীতি’ চালু করেন এবং মানুষকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেন। এর মাধ্যমে জাতিকে আত্মপরিচয়ের শক্তিতে দৃঢ় করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যান। তিনি এই দেশে সকলের জন্য কথা বলা ও রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন, যার সুফল আমরা আজও পাচ্ছি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. ফকির রফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ শিশিম, গাজীপুর জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. ইয়াকুব মিয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সরকার।

মন্তব্য করুন

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম

ফল খারাপ হলেও প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হয়েছে

বছর এইচএসসি সমমানের পরীক্ষায় সারাদেশে পাসের হার কমলেওপ্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হয়েছেবলে মন্তব্য করেছেন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

সরকার চেয়েছে যেন এবার প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়। তাই প্রশ্নপত্রের ধরন খাতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে সামগ্রিক ফলাফল কিছুটা কম হলেও মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “প্রশ্নের ধরন হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আগে থেকে জানালে তারা আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতো।

অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কলেজের ফলাফল সন্তোষজনক। এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। ভিকারুননিসা স্কুল ওরিয়েন্টেড কলেজএখানে লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের আমরা তৈরি করেছি। মেধার তারতম্য থাকতেই পারে, সবাই সমান মেধাবী নয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বছর এইচএসসিতে অংশ নেয় ,৫১৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেয় ,৪৯৫ জন এবং পাস করেছে ,৪৩৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছে ৮০ জন শিক্ষার্থী।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী

  • বিজ্ঞান বিভাগে: পাস করেছে ,৮০৭ জন, ফেল ৬০ জন, জিপিএ পেয়েছে ৭৯৭ জন।
  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে: পাস ৩১৬ জন, ফেল ১১ জন, জিপিএ পেয়েছে ১০৫ জন।
  • মানবিক বিভাগে: পাস ৩১১ জন, ফেল জন, জিপিএ পেয়েছে ৮৪ জন।

তিন বিভাগে মোট জিপিএ পেয়েছে ৯৮৬ জন শিক্ষার্থী। অধ্যক্ষের ভাষায়, “এবারের ফলাফল হয়তো আগের মতো ঝলমলে নয়, কিন্তু এটি বাস্তব সৎ মূল্যায়নের প্রতিফলন।

 

মন্তব্য করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ: পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ৭৭ হাজার

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের ৯টি সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা—মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফল প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বোর্ডের ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন।

এ বছর মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন, আর ফেল করেছেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। ফলে পাসের হার হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, আর ফেলের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এ বছর সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

ফলাফলে এবারও সব দিক থেকে এগিয়ে ছাত্রীদের পারফরম্যান্স। মোট পাস করা শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬ জন এবং ছাত্র ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৪ জন। ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।

একইভাবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এগিয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা। মোট ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন।

🔸 সামগ্রিকভাবে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হলেও, ছাত্রীদের সাফল্য এখনো আশাব্যঞ্জক।

 
মন্তব্য করুন

জকসু নির্বাচন সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ বছর ডিসেম্বর মাসে নির্ধারিত শীতকালীন ছুটি জানুয়ারি মাসে স্থানান্তর করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম জানান, যেসব বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শেষ হবে, তাদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন ও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামী ১৩ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

উপাচার্য বলেন, “আগামী ২২ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানদের মতামতের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতেই জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী—

  • ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি: ৯ ও ১১ নভেম্বর

  • চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ: ১২ নভেম্বর

  • মনোনয়নপত্র বিতরণ: ১৩–১৭ নভেম্বর

  • মনোনয়ন দাখিল: ১৭–১৮ নভেম্বর

  • মনোনয়ন বাছাই: ১৯–২০ নভেম্বর

  • প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর

  • আপত্তি নিষ্পত্তি: ২৪–২৬ নভেম্বর

  • ডোপ টেস্ট: ২৭ ও ৩০ নভেম্বর

  • চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: ৩ ডিসেম্বর

  • মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর

  • প্রচারণা চলবে: ৯–১৯ ডিসেম্বর

  • ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা: ২২ ডিসেম্বর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং জকসু নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

মন্তব্য করুন

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার

উপদেষ্টা পরিষদের সভার অনুমোদনের পর ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। রোববার (৯ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৮ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ১১ দিন সাপ্তাহিক ছুটি—অর্থাৎ শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে মিলে গেছে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও পবিত্র ঈদুল ফিতরে ৫ দিন, ঈদুল আজহায় ৬ দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় ২ দিন ছুটি থাকবে।

গত ৬ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামী বছরের জন্য সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সাধারণ ছুটির মধ্যে ৭ দিন ও নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটির মধ্যে ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে পড়েছে।

সাধারণ ছুটির মধ্যে রয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২০ মার্চ জুমাতুল বিদা, ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১ মে মে দিবস ও বুদ্ধপূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), ২৮ মে ঈদুল আজহা, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী, ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী), ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন)।

নির্বাহী আদেশে ছুটি হিসেবে থাকছে ৪ ফেব্রুয়ারি শবে বরাত, ১৭ মার্চ শবে কদর, ১৯ ও ২০ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে এবং ২২ ও ২৩ মার্চ পরে দুই দিন করে মোট চার দিন, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ২৬ ও ২৭ মে ঈদুল আজহার আগে এবং ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পরে তিন দিনসহ মোট পাঁচ দিন, ২৬ জুন আশুরা এবং ২০ অক্টোবর দুর্গাপূজার মহানবমীর দিন।

ঐচ্ছিক ছুটির তালিকায় মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য রয়েছে ১৭ জানুয়ারি শবে মিরাজ, ২৪ মার্চ ঈদুল ফিতরের পরের তৃতীয় দিন, ১ জুন ঈদুল আজহার পরের চতুর্থ দিন, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে থাকছে ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা, ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রী ব্রত, ৩ মার্চ দোলযাত্রা, ১৭ মার্চ হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, ১০ অক্টোবর মহালয়া, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর দুর্গাপূজা (সপ্তমী ও অষ্টমী), ২৬ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা এবং ৮ নভেম্বর শ্যামাপূজা।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, ১৮ ফেব্রুয়ারি ভস্ম বুধবার, ২ এপ্রিল পূণ্য বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল পূণ্য শুক্রবার, ৪ এপ্রিল পূণ্য শনিবার, ৫ এপ্রিল ইস্টার সানডে এবং ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর বড়দিনের আগে ও পরের দিন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির দিনগুলো হলো ১ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা, ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যত্র প্রযোজ্য), ৩০ এপ্রিল ও ২ মে বুদ্ধপূর্ণিমার আগে ও পরের দিন, ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ২৬ সেপ্টেম্বর মধু পূর্ণিমা এবং ২৫ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা)।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে ১২ ও ১৫ এপ্রিল বৈসাবি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য সামাজিক উৎসবের দিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, একজন সরকারি কর্মচারী তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। বছরের শুরুতেই এ ছুটি ভোগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। সাধারণ, নির্বাহী আদেশ বা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এছাড়া যেসব অফিস বা সংস্থার সময়সূচি ও ছুটি নিজস্ব আইন বা বিধিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত, কিংবা যেগুলোকে অত্যাবশ্যক সেবা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে—সেগুলো জনস্বার্থ বিবেচনায় নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী ছুটি ঘোষণা করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রজ্ঞাপন (৯ নভেম্বর ২০২৫)

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কোর্সের মোট নম্বরের ৮০ শতাংশ ফাইনাল পরীক্ষায় এবং ২০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নে বরাদ্দ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে তত্ত্বীয় কোর্সের প্রশ্নের ধরন ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন কার্যকর হবে।

প্রশ্নপত্রের ধরন ও মূল্যায়ন কাঠামো

নতুন কাঠামো অনুযায়ী—

  • চার ক্রেডিট কোর্সে: ১২টি প্রশ্নের মধ্যে ৮টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৮০, সময় ৪ ঘণ্টা।

  • তিন ক্রেডিট কোর্সে: ৯টি প্রশ্নের মধ্যে ৬টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৬০, সময় ৩ ঘণ্টা।

  • দুই ক্রেডিট কোর্সে: ৬টি প্রশ্নের মধ্যে ৪টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৪০, সময় ২ ঘণ্টা।

প্রয়োজনে প্রতিটি প্রশ্নে সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্ন (ক, খ, গ বা a, b, c) রাখা যাবে।

ধারাবাহিক মূল্যায়নের ধরন

প্রতিটি তত্ত্বীয় কোর্সের মোট নম্বরের ২০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত থাকবে।

  • চার ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৫ নম্বর, ক্লাস উপস্থিতি ৫ নম্বর, এবং ইন-কোর্স পরীক্ষায় (দুটি ইন-কোর্সের গড়) ১০ নম্বরসহ মোট ২০।

  • তিন ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৪ নম্বর, উপস্থিতি ৩ নম্বর, ইন-কোর্স ৮ নম্বরসহ মোট ১৫।

  • দুই ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৩ নম্বর, উপস্থিতি ২ নম্বর, ইন-কোর্স ৫ নম্বরসহ মোট ১০।

ব্যবহারিক কোর্সের মূল্যায়ন

ব্যবহারিক কোর্সগুলোর মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিলেবাস অনুযায়ী সম্পন্ন হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।নতুন এ পদ্ধতি কার্যকর হলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত অংশগ্রহণের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

মন্তব্য করুন
×