মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু শনিবার

লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ৪২ দিনব্যাপী ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং’-এর তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। দেশের ১৪টি সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে (টিটিসি) বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ ব্যাচে চারটি বিষয়ের প্রতিটিতে ৪০ জন করে মোট ১৬০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্প দপ্তর থেকে সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর পাশাপাশি টেলিফোনে যোগাযোগ করে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণ শুরুর আগের দিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রিপোর্ট করতে হবে প্রশিক্ষণার্থীদের।

রিপোর্টিংয়ের সময় কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বয়স যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, চাকরিতে প্রথম যোগদানের কপি, বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমপিও প্রাপ্তির আদেশের কপি অথবা সর্বশেষ মাসের আইবাস জেনারেটেড বেতন বিলের কপি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ছাড়পত্র। এসব কাগজপত্র ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে।

পুরোটা আবাসিক প্রশিক্ষণ

মাউশি জানিয়েছে, ৪২ দিনের এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ আবাসিক। ফলে প্রশিক্ষণের পুরো সময় প্রশিক্ষণার্থীদের নির্ধারিত আবাসিক ব্যবস্থায় থেকে অংশ নিতে হবে। বিষয়টি প্রশিক্ষণার্থীদের আগেই জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণের প্রথম এক সপ্তাহের খাবার ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

থাকবে কো-অর্ডিনেশন কমিটি

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থী গ্রুপের বিপরীতে একটি করে কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রুপের প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি।

সংশ্লিষ্ট টিটিসির মাস্টার ট্রেইনারদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বাস্তবায়নে টিটিসির অন্যান্য অনুষদ সদস্য ও কর্মচারীদেরও কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত বাজেটের বিস্তারিত বিভাজন ও ব্যয় নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রশিক্ষণের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বাজেট অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ করতে হবে।

প্রশিক্ষণ শুরুর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সব প্রশিক্ষণার্থীর হাতে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের কপি পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট টিটিসিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।

মন্তব্য করুন

মাউশির ডিজি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খানের পদত্যাগ: 'স্বাস্থ্যগত কারণ' নাকি 'অপমানবোধ'?

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও পদত্যাগপত্রে 'স্বাস্থ্যগত কারণের' কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এই আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে 'অপমানবোধের' একটি তীব্র গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

অব্যাহতির আনুষ্ঠানিক কারণ: স্বাস্থ্যগত সমস্যা

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি মহাপরিচালকের পদে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু "স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালন আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই আমি মহাপরিচালকের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।"

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি তাঁর আবেদনের সমর্থনে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও জমা দিয়েছেন। এই আনুষ্ঠানিক কারণ অনুসারে, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

পদত্যাগের নেপথ্য কারণ: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিতর্ক

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাত্র একদিন আগে, ৬ অক্টোবর, সোমবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাউশির মহাপরিচালক পদে নতুন নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই ঘটনাটিই মূলত বিতর্কের মূল কারণ।

  • নজিরবিহীন ঘটনা: মাউশির ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, বর্তমান ডিজি দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই নতুন ডিজি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

  • 'অপমানজনক' অনুভূতি: মাউশির একাধিক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কর্মরত ডিজির উপস্থিতিতে এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাকে অধ্যাপক ড. আজাদ খান 'অপমানজনক' বা 'অপমানিত' বোধ করেছেন। এই অপমানবোধ থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

অর্থাৎ, যদিও পদত্যাগপত্রে স্বাস্থ্যগত কারণের কথা বলা হয়েছে, তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে—নতুন ডিজি খোঁজার জন্য মন্ত্রণালয়ের 'নজিরবিহীন' বিজ্ঞপ্তিই তাঁর আকস্মিক অব্যাহতি চাওয়ার প্রধান কারণ।


 

ফেইসবুকে সাবেক ডিজির মন্তব্য

পদত্যাগের পরদিন, অধ্যাপক ড. আজাদ খান তাঁর ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও স্ট্যাটাসটি সরাসরি পদত্যাগ বা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ছিল না, তবে তাঁর একটি মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, "জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর অনেককে (যারা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে) ভোগ করতে হবে।" এই ধরনের মন্তব্য তাঁর পদত্যাগের পেছনে প্রশাসনের সাথে অসন্তোষ বা বিরোধের আভাস দিচ্ছে।

বর্তমানে পদটি শূন্য হওয়ায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে মাউশির প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিটি গঠনের নির্দেশ কার্যকর নয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পরিপত্র স্থগিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর) চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করার যে পরিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করেছিল, তার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিপত্রটি জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪ এ চলতি বছরের ২৮ ও ৩১ আগস্ট সংশোধনী আনে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড। সংশোধনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়নসংক্রান্ত ১৩(১) বিধি এবং যোগ্যতাসংক্রান্ত ৬৪(৩) বিধি পরিবর্তন করা হয়।

এই দুই বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গত রোববার রিট আবেদন করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।

পরে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বোর্ডগুলো ম্যানেজিং কমিটি পরিচালনাসংক্রান্ত প্রবিধানমালায় সংশোধন আনে, যেখানে বলা হয়েছে— সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন।

অর্থাৎ বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শুধুমাত্র সরকারি বা আধা সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। আগে যেখানে সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে হতেন, সেখানে এখন এই যোগ্যতাসীমা আরোপ করা হয়েছে— যা আবেদনকারীদের মতে বৈষম্যমূলক।

রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশোধিত ১৩(১) এবং ৬৪(৩) বিধি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্ট রুল জারি করে ৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। ফলে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাডহক কমিটি আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

 

মন্তব্য করুন

বগুড়ার শেরপুরে ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড নিয়ে শিক্ষকদের মারামারি, বিদ্যালয়ে পুলিশ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞান ও শৃঙ্খলার কেন্দ্র। কিন্তু বগুড়ার শেরপুরে একটি বিদ্যালয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সেই শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এক সময় এমন উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকতে হয়।

ঘটনার বিবরণ:

রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক একটার দিকে বগুড়ার শেরপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সাহেব আলী এবং ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসানের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের কারণ ও পরিণতি: অভিযোগ অনুসারে, বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দিতে রাজি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহেব আলী প্রথমে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসানকে মারধর করেন। ঘটনার সূত্রপাত এই পাসওয়ার্ড নিয়েই।

মাহমুদুল হাসানের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে যে, মাহমুদুল হাসানের পক্ষ নিয়ে কয়েকজন 'বহিরাগত' বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সহকারী শিক্ষক সাহেব আলীকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে সাহেব আলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

শিক্ষকদের বক্তব্য: এ বিষয়ে ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ী তিনিই বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড বসিয়ে থাকেন। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া তিনি পাসওয়ার্ড দিতে রাজি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষক সাহেব আলী তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। বহিরাগত আসার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তাঁকে মারধর করার খবর শুনে তাঁর এক ভাই বিদ্যালয়ে এসেছিলেন।

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ শেখ জানান, ঘটনার পর বিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ আসার পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করেছেন।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ছেড়ে থানায় ফিরে গেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনে জটিলতা, সময় বাড়ছে না; বৃহস্পতিবার মাউশির বৈঠক

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও তথ্যগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে অনেক শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না। সমস্যার সমাধানে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানালেও আপাতত তা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আলম মাহমুদ বলেন, বদলি আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বদলি কার্যক্রম শুরু করতে কাজ করছে মাউশি।

এদিকে আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে মাউশি। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদন করতে না পেরে প্রতিদিন অনেক শিক্ষক অধিদপ্তরে এসে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। তাদের অধিকাংশের অভিযোগ একই ধরনের। অনেক শিক্ষকই দাবি করছেন, আবেদন করতে না পারার পেছনে তাদের কোনো ভুল নেই।

শিক্ষকদের অভিযোগগুলো মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার মাউশিতে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠকে শিক্ষকদের আবেদনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, যেসব সমস্যা কারিগরিভাবে সমাধানযোগ্য, সেগুলো শনাক্ত করে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি আপাতত আমলে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাউশি।

মন্তব্য করুন

দারুল ইহসানের সনদধারী গ্রন্থাগার শিক্ষকদের তথ্য চাইল মাউশি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে সনদ অর্জনকারী সহকারী শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছে।

মাউশির সহকারী পরিচালক এস এম মোসলেম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও কমিটির সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দারুল ইহসান থেকে সনদপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী ই-মেইলের মাধ্যমে এই তথ্য মাউশিতে পাঠাতে হবে।

শিক্ষকদের যে সকল তথ্য জানাতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে:

  • জেলার নাম

  • শিক্ষকের নাম ও পদবি

  • কর্মস্থলের ঠিকানা

  • প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ

  • দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সনদ ও ক্যাম্পাসের নাম

  • দারুল ইহসানের সনদের পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো সনদ অর্জন করা হয়েছে কি না (যদি থাকে, সেই তথ্য)।

মন্তব্য করুন

নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত; খুশি শিক্ষকরা, ক্লাসে ফেরার ঘোষণা

দীর্ঘ ১০ দিনের লাগাতার আন্দোলনের মুখে অবশেষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি মেনে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে 'সমঝোতা' হওয়ায় শিক্ষক নেতারা আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপরই শিক্ষকরা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেন।

আন্দোলনের মুখে নমন সরকার:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতাসহ মোট তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের এই নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

মঙ্গলবার সকালে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরই ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার সিদ্ধান্তে উভয়পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়। এরপর দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত সম্মতিপত্র দেওয়া হয়।

১৫ শতাংশ কার্যকর হবে দুই ধাপে:

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের উপসচিব মোসা. শরীফুন্নেসার সই করা সম্মতিপত্রে বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ার সময়সূচি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মতি অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতা দু'টি ধাপে কার্যকর হবে:

  • প্রথম ধাপ: চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের সাড়ে ৭ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।

  • দ্বিতীয় ধাপ: আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে আরও সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা যুক্ত হবে।

ফলে সবমিলিয়ে তারা মোট ১৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। এই নতুন সম্মতির ফলে আগের (১৬ অক্টোবর) দেওয়া সম্মতিপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া:

সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষক নেতারা জানান, আপাতত তারা এই সিদ্ধান্তে খুশি। এজন্য তারা শহীদ মিনারে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন এবং ক্লাসে ফিরে যাবেন।

যদিও শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতার দাবিতে অনড় ছিলেন, তবুও টানা আন্দোলনের মুখে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষক নেতারা সার্বিক পরিস্থিতিতে 'বিজয়' হিসেবে দেখছেন।

তবে, আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা এই বৈঠকেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলেছেন। দাবিগুলো হলো: চিকিৎসাভাতা ১৫০০ টাকা করা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করা।

মন্তব্য করুন
×