বিসিএস শিক্ষা সমিতির কোটি টাকার হিসাবে অসংগতি, অডিটে মিলেছে নানা অনিয়ম

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি’র ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদকালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম ও হিসাবের অসংগতির তথ্য উঠে এসেছে। সমিতির অডিট ও অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ভাউচার ছাড়া টাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না পাওয়া, একই খরচ একাধিকবার দেখানো এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংগঠনের অর্থ ব্যয়ের মতো অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

২০২৪ সালে সমিতির বর্তমান কমিটির উদ্যোগে আগের কয়েক বছরের আর্থিক কার্যক্রমের অডিট করা হয়। প্রফেসর এস এম মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি এ অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

অডিট প্রতিবেদনে সমিতির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় ১৬টি অসংগতি ও ফাইন্ডিংস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় ভাউচার ছাড়া নগদ অর্থ প্রদান, একই বিল একাধিকবার উপস্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নথি না থাকার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

৩০ লাখ টাকার ব্যয়ের হিসাব নেই

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ মেয়াদের অডিটে সমিতির বিশেষ তহবিল (মামলা) থেকে মোট ৩৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ব্যয়ের বিবরণ অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সমিতির মূল আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক-সংক্রান্ত চেক রেজিস্টার, কেনাকাটার স্টক রেজিস্টার, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অর্থ প্রাপ্তির রসিদ এবং বকেয়া চাঁদার বিস্তারিত হিসাবও অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাধারণ তহবিল থেকে মামলায় ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়

মামলা পরিচালনার জন্য সমিতির পৃথক বিশেষ তহবিল থাকার পরও সাধারণ তহবিল থেকে এ খাতে অর্থ ব্যয়ের তথ্য পেয়েছে অডিট কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা পরিচালনার নামে সাধারণ তহবিল থেকে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এসব ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রিকুইজেশন বা প্রয়োজনীয় কার্যবিবরণী পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মামলা পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদারও পূর্ণাঙ্গ হিসাব অডিট কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

অডিটে যেসব অনিয়মের তথ্য

অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা কয়েকটি অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল থেকে শওকত হোসেন নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ কেনার তথ্য।

২০২৩ সালের অক্টোবরে কোনো ভাউচার ছাড়াই কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে নাসিরুল আজম বাপ্পিকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাজী হাসান ও নাজমুল নামে দুজনকে ৩ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২১ জুলাই নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির দুপুরের খাবারের বিল একই ভাউচারে দুইবার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এ খাতে খাবারের বিল ১৫ হাজার ৯০০ টাকা এবং ফটোকপি বাবদ ১ হাজার ৫০ টাকা দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের এপ্রিল ও মে মাসের ক্যাশ বুকের হিসাব পাওয়া যায়নি বলেও অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অধিকাংশ ভাউচারে কাটাকাটি, ওভাররাইটিং এবং তারিখ না থাকার বিষয়ও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমিতির মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষ পৃথকভাবে হিসাব সংরক্ষণ করায় দুই হিসাবের মধ্যে ব্যাপক অমিল দেখা যায়। ফলে সঠিকভাবে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া বিভিন্ন খরচের বিল-ভাউচারে ভ্যাট পরিশোধ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহারের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বেতন ও বোনাসের বিলেও কোষাধ্যক্ষ ও সম্পাদকের স্বাক্ষর না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অডিট কমিটির সুপারিশ

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ করেছে অডিট কমিটি। এর মধ্যে প্রতিটি বিল ও ভাউচারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা, ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে ক্যাশ বুক ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ মেয়াদে সমিতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সময়ে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর সমিতির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যা বলছেন বর্তমান সদস্য সচিব

অভিযোগের বিষয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৬ সালে আমরা যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন ১ কোটি ৮ লাখ টাকা রেখে এসেছিলাম। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বিল-ভাউচারসহ জমা দিয়েছিলাম। তবে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কী হয়েছে, তা বলতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। অভিযোগ ওঠা বিষয়গুলো কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

অডিট প্রতিবেদনে উঠে আসা আর্থিক অসংগতিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

মন্তব্য করুন

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১২ কোটিরও বেশি নতুন পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হবে

এনসিটিবি-NCTB
এনসিটিবি-NCTB

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি), দাখিল এবং কারিগরি শাখার ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭১টি নতুন পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই বিশাল সংখ্যক বইয়ের জন্য মোট ৪৪৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬১ টাকা ব্যয় হবে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

তিন ধাপে অনুমোদিত বই ও ব্যয়:

১. ষষ্ঠ শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির ষষ্ঠ শ্রেণির মোট ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

  • এতে মোট ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ টাকা ৫৮ পয়সা

২. অষ্টম শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির অষ্টম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৮ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

  • এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার ৯৭ টাকা

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ টাকা

৩. সপ্তম শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির সপ্তম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯২ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

  • এই বইগুলোর জন্য ব্যয় হবে ১৫০ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৪ টাকা

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা ৭ পয়সা

ক্রয় প্রক্রিয়া:

জানা গেছে, তিনটি শ্রেণির জন্যই আলাদাভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি কমিটি (টিইসি)-এর সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বইগুলো ক্রয় করার প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়।

মন্তব্য করুন

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরুর তারিখ জানা গেল

অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। যা চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীরাই এবার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

বোর্ডের তথ্যমতে, নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১১+ এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর হতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২২ বছর নির্ধারিত। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিকটবর্তী অনুমোদিত স্কুল বা কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ওইএমএন বা ইএসআইএফ বাটনে ক্লিক করে ইআইআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সোনালি সেবার স্লিপ প্রিন্ট করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে শিক্ষার্থীর তথ্য ইএসআইএফ পূরণ করে ফাইনাল সাবমিট করতে হবে। ফাইনাল সাবমিটের আগে ভর্তি ফরম ও জন্মসনদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

আর রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা এবং যুব রেডক্রিসেন্ট ফি হিসেবে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ টাকা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব যুব রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমের জন্য রাখবে এবং ২৪ টাকা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
 

বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীর তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যদের ওপর বর্তাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তারা ব্যানবেইস থেকে ইআইআইএন সংগ্রহের পর সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। স্বীকৃতি হালনাগাদ না থাকলে দ্রুত স্বীকৃতি নবায়নের আবেদন করতেও বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

'এখন ১০ শতাংশ নয়, শিক্ষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান'

পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষক নেতাদের সময়মতো দাবি ও হিসাব-নিকাশ পেশ না করার কারণে চলতি বাজেটে বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, "এখন ১০ শতাংশ নয়, পরের বাজেটে বাড়ানো যেতে পারে।"

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সময়মতো প্রস্তাব না দেওয়ায় বরাদ্দ কম

অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষক নেতারা যদি প্রাথমিক হিসাবটা আগেভাগে মন্ত্রণালয়ে দিতেন, তবে বাজেট ঘোষণার আগেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো যেত। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য এবং সময়মতো প্রস্তাব গেলে এখনকার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হতো।

তবে, বর্তমানে যেখানে অর্থের সংস্থান নেই, সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

 

পরের বাজেটে বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার আগামী বছরের বাজেটে কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে। তিনি শিক্ষক নেতাদের ধৈর্য ধরার এবং আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করছি, কিন্তু তাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।"

 

শিক্ষক নেতারা রাজি নন

অধ্যাপক আবরার জানান, শিক্ষক নেতারা সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এখনই ১০ শতাংশ এবং সামনের বছর আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবে, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তারা তাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, "সংস্থান থাকলে আমরা এখনই দিতাম। কিন্তু বাস্তবতায় অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে।" শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেন তিনি।

 

পে-কমিশনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আবরার নতুন পে-কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠন করেছে, যার প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পে কমিশনের রিপোর্টে ৫০, ৭০ বা এমনকি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

 

ভবিষ্যতের জন্য 'থোক বরাদ্দ' থেকে মুক্তি

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, তারা বর্তমানে 'থোক বরাদ্দ' থেকে শতকরা হারে ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে যাচ্ছেন, যা একটি বড় অগ্রগতি। কারণ ভবিষ্যতে মূল বেতন বাড়লে সেই অনুপাতে বাড়ি ভাড়াও বাড়বে।

তিনি শিক্ষক নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ভবিষ্যৎ সরকার 'থোক বরাদ্দ' পদ্ধতিতেই থেকে যেতে পারে, যা শিক্ষকদের জন্য লাভজনক হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে, কিন্তু বর্তমানে সময় ও অর্থ দুটোই সীমিত। তিনি শিক্ষক নেতাদের এই সুযোগ না হারানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার এমপিও শিক্ষকদের বদলির আবেদন নেওয়ার নির্দেশ

বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকা থেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে নির্ধারিত ছকে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, বর্তমান পদের প্রথম ও সর্বশেষ এমপিও কপি, বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানপত্র এবং কর্মস্থলের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর পাঠাতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান অগ্রায়নপত্রের মাধ্যমে আবেদন ফরোয়ার্ড করবেন এবং এর একটি অনুলিপি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করবেন।

বদলির আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর চাকরি পূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি সংক্রান্ত নীতিমালার সব শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

তবে কোনো শিক্ষকের এমপিও স্থগিত থাকলে, তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বদলির আবেদন ফরোয়ার্ড করা যাবে না।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মিত বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অবসরভাতা না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ৮৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

অবসরে যাওয়া শিক্ষক
অবসরে যাওয়া শিক্ষক

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৮ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী চার বছর ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিয়মিত চাঁদা দেওয়া সত্ত্বেও অবসরের পর তারা প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবসরের ছয় মাসের মধ্যে ভাতা পরিশোধ করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা বাস্তবায়ন করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট জানিয়েছে, জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তিতে এখনই প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি সরকার দিয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা—যার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা বন্ড আকারে অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং ২০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও সংকট নিরসন হবে না। বর্তমানে একটি আবেদন নিষ্পন্ন হতে গড়ে আড়াই বছর সময় লেগে যাচ্ছে।

এদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে চলছেন, আবার অনেকে টাকা না পেয়ে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা প্রাপ্য পাওয়ার জন্য ছুটছেন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও সমাজে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। তরুণ প্রজন্মও শিক্ষা পেশায় আগ্রহ হারাতে পারে। তাদের মতে, শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করাতেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের হিসাবে, বর্তমানে ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন, যার জন্য প্রয়োজন ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে ৪২ হাজার ৬০০ আবেদন জমে আছে, যা নিষ্পত্তি করতে লাগবে প্রায় ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। অথচ বোর্ডের মাসিক চাহিদা ৬৫ কোটি টাকা হলেও জমা হয় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

চাকরিকালে কাটা টাকা

অবসর সুবিধার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬% এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪% টাকা কেটে রাখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে—এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য। অর্থাৎ, চাকরিকালে নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পেতে এখন বছরের পর বছর ধরনা দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

সমাধানের দাবি

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট সমাধানে প্রয়োজন এককালীন বিশেষ বরাদ্দ। নাহলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতেই থাকবে।


 

মন্তব্য করুন

এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে রেকর্ড আবেদন, বিপাকে শিক্ষা বোর্ড, আসছে নতুন নীতিমালা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা এবার শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগ নয়, বরং পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে— শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে এবার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। অনেকেই একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় মোট খাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক খাতা নতুন করে দেখা নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

অন্যদিকে, প্রতি খাতার ফি ১৫০ টাকা হিসেবে শিক্ষার্থীদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা। ফি বাবদ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়কে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক পরিচালক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন:"ফরম পূরণের সময় পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়ন ও ফল তৈরি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও শিক্ষার্থীদের খাতা ঠিকঠাকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তখন যদি কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করতে চায়, তাহলে তাকে ফি দিতে হবে কেন? শুধু সে পুনর্নিরীক্ষণ চায়, এ আগ্রহ জানালেই তো বোর্ড পুনরায় খাতা দেখে তার ফল জানাতে বাধ্য।"

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থীর মা আরিফা জাহান হেনা,"আমরা তো ফরম পূরণের সঙ্গে সব ফি দিয়েছি। তাহলে আবার কেন ফি দিতে হবে? তাছাড়া পুরো খাতাটা নাকি দেখাও হয় না। তারা যোগ বা বিয়োগ করতে ভুল করে; সেটা সংশোধনে আবার উল্টো আমাদের কাছ থেকেই টাকা নেন। এটা তো জুলুম।"

মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ খাতা তৃতীয় পরীক্ষক দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে মূল্যায়ন করা শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য একপ্রকার অসম্ভব কাজ। এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের একজন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মূল্যায়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন,"প্রতি বান্ডিল খাতা থেকে র‌্যানডম (দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে) কয়েককটি খাতা নিয়ে দেখে তাতে গরমিল পাওয়া গেলে, বান্ডিলের সব খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে। যদি কোনো বান্ডিলে এমন সমস্যা না হয়, তাহলে শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগ ঠিক করা হবে।"

এদিকে, পুনর্নিরীক্ষণের কারণে একাদশে ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে শিক্ষা বোর্ড। একাদশ শ্রেণিতে সাধারণ ভর্তি আবেদন ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে ভর্তির আবেদনের বিশেষ সুযোগ পাবেন। ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন,"পুনর্নিরীক্ষণে কেউ যদি ফেল থেকে পাস করে, সেদিক বিবেচনায় দুই দিন আবেদনের সুযোগ রেখেছি। তারা একই নিয়মে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। তাদের আবেদন নেওয়ার পর একাদশে ভর্তিতে কে, কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এতে ভয় বা উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আগ্রহী সবাই ভর্তির সুযোগ পাবে।"

সব মিলিয়ে আবেদনের এই বিশাল স্তূপ দেখে চাপে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এত খাতা পুনর্মূল্যায়ন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে তিনি নতুন নীতিমালার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন,bl"এবার এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এ অবস্থা দেখে মনে হয় প্রায় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; যেন কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, সেগুলোর আওতা নির্দিষ্ট করা যায়।"

মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার আলোকেই কাজ চলছে বলে জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান,"অসংখ্য খাতা পুনর্নিরীক্ষণে আবেদন এসেছে এবার। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ করছি। পুনর্মূল্যায়ন বলেন বা পুনর্নিরীক্ষণ বলেন, যেটা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, সেটাই আমরা মানছি। এর বাইরে আর কিছু জানানো সম্ভব নয়।"
 

মন্তব্য করুন
×