ই-মেইল জটিলতায় কারিগরি শিক্ষকদের বদলির শূন্যপদ এন্ট্রি আটকে আছে
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমে শূন্যপদের তথ্য দিতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানের নামে সঠিক ই-মেইল ঠিকানা না থাকা, ভুল ই-মেইল ব্যবহার কিংবা অধিদপ্তরে আগে দেওয়া ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্যপদের তথ্য পাঠানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সমস্যার সমাধান পেতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ভিড় করছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সফটওয়্যারে প্রবেশ এবং ই-মেইল সংশোধনের উপায় জানার চেষ্টা করছেন।
এমন সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষক সোহেল মাহমুদ। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া ই-মেইল ঠিকানা সংশোধনের বিষয়ে জানতে তিনি অধিদপ্তরে এসেছেন।
সোহেল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করা ই-মেইল চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের স্যার অধিদপ্তরে যে ই-মেইল জমা দিয়েছিলেন, সেটি ব্যক্তিগত নামে তৈরি করা। এ কারণে শূন্যপদের চাহিদা দেওয়া যাচ্ছে না। স্যার অসুস্থ থাকায় সমস্যার সমাধানের জন্য আমি অধিদপ্তরে এসেছি।’
যেভাবে দিতে হবে শূন্যপদের তথ্য
শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য এমপিও-টি-টি-এস (MPO-TTS) সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার নির্দেশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের এমপিও শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, শূন্যপদের তথ্য দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিইএমআইএস (TEMIS)-এ দেওয়া নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে সফটওয়্যারে লগইন করতে হবে।
প্রথমবার লগইনের সময় প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ই-মেইলের পাসওয়ার্ড আপডেট করে সফটওয়্যারে থাকা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
তবে এ তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদের সুযোগ কেবল প্রথমবার লগইনের সময়ই থাকবে। একবার তথ্য আপডেট করার পর পরবর্তীতে আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়
শূন্যপদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রির জন্য ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। সফটওয়্যার ব্যবহারে কোনো ধরনের সমস্যা হলে অফিস চলাকালীন ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তবে ই-মেইল সংক্রান্ত সমস্যায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আপাতত নতুন করে ই-মেইল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।
তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বদলি কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যক্তিগত ই-মেইল দিয়েছেন কিংবা ভুল ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে পাঠিয়েছেন। এখন তারা সমস্যায় পড়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকাল থেকেই একই সমস্যা নিয়ে শিক্ষকরা ফোন করছেন। অনেকে অধিদপ্তরেও আসছেন। তবে ই-মেইল সংশোধনের জন্য নতুন করে সময় দেওয়া আপাতত সম্ভব নয়। এজন্য ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কতজন শিক্ষক এ সমস্যায় পড়েছেন, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
আগেই ই-মেইল তৈরির নির্দেশ
এর আগে বদলি কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা ছিল।
অধিদপ্তরের ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে-এর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল থাকা বাধ্যতামূলক। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে তা অধিদপ্তরকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ই-মেইল ঠিকানা না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন শূন্যপদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।