বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি
দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুল পর্যায়ের। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সার্ভেইল্যান্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আত্মহত্যায় মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৩। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী—১৯০ জন, যা মোট সংখ্যার ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া কলেজ শিক্ষার্থী ৯২ জন (২২ দশমিক ৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৭৭ জন (১৯ দশমিক ১ শতাংশ) এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৪৪ জন (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)।
অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ৩১০টি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩২ ও ৫১৩।
তবে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব তথ্য মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যার ঘটনাগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি কোনো সরকারি জাতীয় মৃত্যুনিবন্ধন বা সরকারি জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান নয়। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে।
সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক ও সামাজিক চাপ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।