ক্লাস চলাকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেঝে ধসে আহত ৫ শিক্ষার্থী

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ক্লাস চলাকালে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মেঝের একাংশ ধসে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির একটি কক্ষে ক্লাস চলছিল। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঝের একাংশ নিচের দিকে ধসে পড়ে। এতে কক্ষে থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাহিম বাদশা, মো. আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। তারা সবাই বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সবুতর নেছা বলেন, ‘ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝে ধসে পড়ে। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তারা সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেঝের এক পাশের বালি ও মাটি সরে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়টির ভবনটি নতুন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার কারণ এবং ভবনের অবস্থা যাচাই করতে এলজিইডির প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি
‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি

বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি। এর উদ্বোধন হবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাবে। সপ্তাহের পাঁচটি স্কুল দিবসে নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে—

  • রবিবার: ১২০ গ্রাম বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • সোমবার: বনরুটি ও ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ

  • মঙ্গলবার: ৭৫ গ্রাম ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা/মৌসুমি ফল

  • বুধবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • বৃহস্পতিবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় মোট এনার্জির ২৫.৯%, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২.২%, প্রোটিনের ১৬.৪% এবং ফ্যাটের ২১.৭% গ্রহণ করতে পারবে—যা শিশুদের শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টির অবস্থা উন্নত করা এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ বাড়ানোও এই প্রকল্পের অংশ।

তিনি আরও বলেন, ফিডিং কর্মসূচি চালু হলে বিদ্যালয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি হবে এবং ক্ষুধা নিবারণের ফলে শেখার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

মন্তব্য করুন

নাটোর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির শুরু

নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন
নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) নাটোরের গুরুদাসপুরের খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে এই ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি পুষ্টিহীনতা ও বিদ্যালয় চলাকালে শিশুদের ক্ষুধা দূর করতে সহায়তা করবে, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আরও মনোযোগী হবে এবং বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়বে। তিনি জানান, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এই উদ্যোগটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, নাটোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ডমেনিকো স্কালপেল্লি। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ সরবরাহ করা হবে।

এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশের বেশি হবে, ঝরে পড়া কমবে, প্রতি বছর প্রকৃত ভর্তির হার ১০ শতাংশের বেশি বাড়বে এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে।

পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

মন্তব্য করুন

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ: ১৬৫ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'স্কুল ফিডিং' কর্মসূচি শুরু হচ্ছে নভেম্বরে

আগামী নভেম্বর মাস থেকে দেশের ১৬৫টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পেতে শুরু করবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মোহাম্মদ শামসুজ্জামান সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মহাপরিচালক জানান, নভেম্বর মাসের ১৭ তারিখ থেকে এই 'স্কুল ফিডিং' কার্যক্রমটি চালু হবে। কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৬৫টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩১ লাখ শিশুকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, সপ্তাহে পাঁচ দিন শিশুদের ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি, বিস্কুট এবং দেশীয় ফলসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যতিক্রম: দারিদ্র্যের হার অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য ব্যবহার করে প্রতিটি জেলা থেকে সবচেয়ে দরিদ্র একটি করে উপজেলাকে এই কর্মসূচির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার দেওয়া হবে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সকল উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।

মহাপরিচালক আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার যেমন—ডিম, দুধ, কলা, পাউরুটি, উন্নত মানের বিস্কুট ও মৌসুমি ফল সরবরাহ করার মাধ্যমে শিশুরা স্কুলে আরও বেশি মনোযোগী হবে এবং তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

মন্তব্য করুন

ডিপিএডের মানোন্নয়ন পরীক্ষা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর, রুটিন প্রকাশ

ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) প্রোগ্রামের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানোন্নয়ন (ইমপ্রুভমেন্ট) পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ পরীক্ষা চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

নেপের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে এ সুযোগ কেবল প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

পরীক্ষার সূচি

১০ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষা পরিচিতি ও শিক্ষাদর্শন এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিখন মূল্যায়ন ও ফলাবর্তন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষণ পদ্ধতি-কৌশল ও শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষাক্রম ও শিখন সামগ্রী পরীক্ষা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিশুর বিকাশ ও শিখন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন-বাংলা পরীক্ষা হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাণিতিক দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই এ ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তি হননি—এমন কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানাবেন। প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে নির্ধারিত গোপনীয় ই-মেইলে পাঠানো হবে। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট নিজে ই-মেইল পরিচালনা করবেন এবং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

পরীক্ষার হলে বই, খাতা, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি, ল্যাপটপসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া যাবে না।

প্রতিটি পরীক্ষা শেষে নেপ থেকে পাঠানো কোড নম্বর ব্যবহার করে উত্তরপত্র কোডিং করতে হবে। এরপর পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতিসংক্রান্ত ইউনিটভিত্তিক উত্তরপত্র মিলিয়ে প্রতি পরীক্ষার্থীর জন্য ২০০ টাকা বীমাকৃত পার্সেলের মাধ্যমে উত্তরপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রথম সেমিস্টারের মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী আবারও অনুত্তীর্ণ হলে ভবিষ্যতে তাকে আর মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়নি।

এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন, অনিয়ম বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে ডিপিএড নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

ইউনেস্কোর কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ পেল চলনবিলের ‘ভাসমান স্কুল’

ভাসমান স্কুল
ভাসমান স্কুল

বাংলাদেশের চলনবিল এলাকার সৌরশক্তিচালিত 'ভাসমান স্কুল' ইউনেস্কোর মর্যাদাপূর্ণ কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ অর্জন করেছে। এটি শিক্ষায় নতুন উদ্ভাবন এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রসারে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান, যা চীনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদান করা হয়।

শুক্রবার সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরস্কার প্রাপ্তির তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বের শত শত মনোনয়নের মধ্য থেকে ইউনেস্কো যে তিনটি উদ্যোগকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচন করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশের সিধুলাই ভাসমান স্কুল, আয়ারল্যান্ডের লার্ন উইথ নালা ই-লার্নিং এবং মরক্কোর সেকেন্ড চান্স স্কুল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ এডুকেশন প্রোগ্রাম।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ২৭ সেপ্টেম্বর চীনের শানডং প্রদেশের চুফু শহরে, কনফুসিয়াসের জন্মস্থানে অনুষ্ঠিত হয়। এই স্কুলের স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান তার প্রতিষ্ঠান সিধুলাই স্ব-নির্ভর সংস্থার পক্ষে ট্রফি ও সনদ গ্রহণ করেন।

চলনবিল অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ রেজোয়ান শৈশবে প্রতি বছর বর্ষাকালে তার স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে দেখতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ২০০২ সালে একটি নৌকাকে স্কুলে রূপান্তরিত করার উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেন। তার এই উদ্যোগটি বিশ্বের প্রথম ভাসমান স্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সৌরশক্তিনির্ভর এসব ভাসমান স্কুল এখনো লাইব্রেরি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে চলেছে, যা বর্ষায় চারদিকে পানিবেষ্টিত গ্রামগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে।

ইউনেস্কো এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছে, বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থানীয়ভাবে তৈরি উদ্ভাবনী উপায়ে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই এই ভাসমান স্কুলের সাফল্যের মূল কারণ।

বর্তমানে সিধুলাইয়ের ভাসমান স্কুলের এই মডেল বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অনুসরণ করছে। শুধু তাই নয়, এই অনন্য উদ্যোগ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

মন্তব্য করুন

বিসিএস থেকে সরকারি প্রাথমিকে স্বপ্নের সোপান: ১১১ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১১১ জন প্রধান শিক্ষক (নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে মেধাবী অথচ পদ স্বল্পতার কারণে ক্যাডার সার্ভিসে স্থান পাননি, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এমন যোগ্য প্রার্থীদের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) সচিবালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এই মেধাবীরা এখন দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেলেন। আজ (বুধবার) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সুযোগ ও সম্মানের নতুন দিগন্ত

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-১২ (টাকা ১১,৩০০-২৭, ১৩০) বেতনে যোগদান করবেন। এটি কেবল একটি চাকরি নয়, বরং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি মহৎ দায়িত্ব।

 

নিয়মাবলীতে ভবিষ্যতের হাতছানি

নতুন প্রধান শিক্ষকদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও শর্তাবলী দেওয়া হয়েছে, যা তাদের পেশাগত জীবনে শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পথ দেখাবে:

১. শিক্ষানবিশকাল: যোগদানের পর প্রথম দুই বছর তাদের শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। এই সময়কাল তাদের দক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২. যোগদানের সময়সীমা: নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবশ্যই ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে তাদের পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগদান করতে ব্যর্থ হলে, তাদের নিয়োগ আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। ৩. আবশ্যিক প্রশিক্ষণ: মানসম্পন্ন পাঠদান ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে, যোগদানের পরবর্তী চার (৪) বছরের মধ্যে তাদের ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি)’ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৪. যোগদান প্রক্রিয়া: শিক্ষকেরা তাদের যোগদানপত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করবেন। অফিসার যোগদানপত্র গ্রহণপূর্বক তাদের একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন, যা তাদের সরকারি শিক্ষক হিসেবে নতুন জীবনের সূচনা নিশ্চিত করবে।

এই নিয়োগের মাধ্যমে মেধাবী তরুণদের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো, যা নিঃসন্দেহে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এক নতুন প্রেরণা সৃষ্টি করবে।

মন্তব্য করুন
×