ডাকসু নির্বাচন: প্রক্টর টিমের পাহারায় সভায় ছাত্রদলের অংশগ্রহণ

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৫:১৯ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৫:২৮ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শুরু হয়েছে। আলোচনাসভায় প্রক্টর টিমের পাহারায় অংশ নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা শুরু হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু ছাত্রদলের নেতারা যথাসময় উপস্থিত না হওয়ায় তা আধা ঘণ্টা পরে শুরু হয়।

উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী সভায় উপস্থিত হন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, সহকারী প্রক্টর মো. বদ্রুজ্জামান ভুঁইয়া, সহকারী প্রক্টর সীমা ইসলামসহ প্রক্টর টিমের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য ছাত্রদলের নেতাদের পাহারা দিয়ে সভায় নিয়ে আসেন।

এর কয়েকমাস আগে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম দফার আলোচনা সভায় পাহারা দিয়ে ক্যাম্পাসে নেওয়া হয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকীকে।বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত ছাত্রদলের নেতারা। এ বিষয়ে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, এইভাবে নিয়ে আসা মানে বোঝাই যায় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমরা নিরাপদ নই। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাওয়াতে আমরা সভায় আসতে শঙ্কাবোধ করছি। এজন্য প্রক্টর আমাদের সহযোগিতা করেছে। ডাকসু নিয়ে প্রচারণা চালাতে গেলে তখন আমাদের কে সহযোগিতা করবে? প্রশাসনের উচিত দ্রুতই ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করা।এর আগেও ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের দাবি জানান। বুধবার ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার সহাবস্থান নিশ্চিতের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে- সব ছাত্র সংগঠনের জন্য সহাবস্থান নিশ্চিত করা। সবাই যেন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ারভাবে নির্বাচনের কাজ করতে পারে। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে। এর আগে পরিবেশ সংসদের একটি সভা হয়েছে। সেখানে আমাদের প্রতিনিধিরা গিয়েছিলেন। কিন্তু যেভাবে পাহারা দিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়েছে, এর থেকেই প্রমাণ হয় যে সহাবস্থান নেই। এভাবে এলে নির্বাচনের পরিবেশ হয় না। আমরা চাই আগে সহাবস্থান, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ডাকসুর গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করেছি। দীর্ঘদিন যেহেতু ডাকসু নির্বাচন হয়নি, সেহেতু এর গঠনতন্ত্রে অনেকগুলো বিষয় রয়েছে যা সংশোধন করা এখন সময়ের দাবি। প্রার্থীদের বয়সের বিষয়টিও আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়াও অনেকগুলো বিষয় যুগোপযোগী করা দরকার বলে আমাদের মনে হয়েছে। আমরা সেগুলো মতবিনিময় সভায় তুলে ধরবো।’

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, এটা পাহারা হয়। তারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিল। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি। আমাদের কাজ সবাইকে সহযোগিতা করা।

 

এর আগে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য জন্য গঠনতন্ত্র ‘যুগোপযোগী’ করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার ১০ জানুয়ারি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।-ইত্তেফাক