তরুণদের ভাবনা: খাগড়াছড়িতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৪:৪৮ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার

খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করছে রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনে আগে স্থানীয়রা তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন প্রার্থীদের কাছে। খাগড়াছড়িতে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৮ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার প্রায় ৬১ হাজার।

যার বেশিরভাগই তরুণ শিক্ষার্থী। নতুন ভোটারদের প্রত্যাশাও অনেক। নতুন ভোটার হওয়া শিক্ষার্থীরা খাগড়াছড়িতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার দাবি জানান। তারা মনে করেন কর্র্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এ জেলার বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৮৩ সালে সরকারি এক আদেশে খাগড়াছড়ি জেলা সৃষ্টি হয়। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এ পাহাড়ি জনপদের আয়তন ২৬৯৯ কিমি.। যার ভূমিরূপ টিলা ও পাহাড়। পাহাড়ি টিলায় জুম চাষ (ঢালু পাহাড়ে বিশেষ চাষাবাদ) বেশি হয়।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2017June/sajek-velly_travelnewsbd20181206104743.jpg

পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকাংশই জুম চাষাবাদ করেন। জুম চাষ ছাড়াও এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে মাঝারি এবং বৃহৎ কোনো শিল্প কারখানা নেই। এমনকি ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানও হাতেগোনা। পাহাড়ি এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষই কৃষি ও কৃষিজ পণ্য বিকিকিনির সঙ্গে যুক্ত।

পাহাড়ের মাটি উর্বর ও বৈচিত্র্যময় ফসল চাষাবাদের উপযোগী হওয়ায় এখান কৃষি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ধান ছাড়াও পাহাড়ে আখ, ভুট্টা, পেঁপে, আম্রপালি, লিচু, লেবু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফলসহ বৃহৎ আকারে মিশ্র ফলদ বাগান রয়েছে। খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য জেলার সিংহভাগ অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক।

পাহাড়ি এলাকার প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও কৃষির বিকাশে কোনো উদ্যোগ নেই। জেলা সৃষ্টির পর ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও টেকসই কৃষির বিকাশে গবেষণার কোনো কাজ হয়নি। গতানুগতিক কৃষি পণ্য উৎপাদন করা হলেও উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী মো. জাফর উদ্দিন সবুজ জানান, খাগড়াছড়িতে কোনো উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে পাহাড়ে জুম চাষসহ সাধারণ চাষাবাদের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো যাবে।

পাশের জেলা রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও খাগড়াছড়িতে উচ্চশিক্ষার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। খাগড়াছড়িতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।’

তন্ময় ত্রিপুরা নামে আরেক স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী জানান, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোলে ঢাকা বা চট্টগ্রাম ছুটতে হয়। আর্থিক সামর্থ্যরে অভাবে অনেকের পক্ষে জেলা শহরের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতি মো. কবীর হোসেন জানান, ‘খাগড়াছড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অতীব জরুরি। এখানকার অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এ জেলায় অবস্থান করে অধ্যয়ন করতে পারবেন এবং জেলার সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও জ্ঞানের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বোধিসত্ত্ব দেওয়ান বলেন, ‘এখানকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি জরুরি।’

এডুকেশন বাংলা/একে