কারিগরি শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৮:২০ এএম, ১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৬:১৩ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার

সরকার যখন কারিগরি শিক্ষাকে প্রসারিত করার চিন্তাভাবনা করছে ঠিক সেসময় কারিগরি শিক্ষার্থীরাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বছরও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা ৯৭ হাজার ১৪ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা নিয়ে আজ সোমবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতেই মূলত কত জিপিএ এবং কোন সালের পাস করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে, তা চূড়ান্ত হবে।

সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এসএসসি পাস এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা। সাধারণ কলেজে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা যায় মাত্র দুই বছরে। ফলে তাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কোনো বাধা নেই। অথচ কারিগরি বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে সময় লাগে চার বছর। অথচ এই সার্টিফিকেট এইচএসসির সমমান। ফলে কোনো শিক্ষার্থী যদি ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করে ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়, সে পাস করে বের হবে ২০১৮ সালে। ফলে ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষাবিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কাল (আজ সোমবার) আমাদের ভর্তি নীতিমালা বিষয়ক বৈঠক রয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে যেন ২০১৪ সালের এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হতে পারে সে বিষয়ে আমরা ভাবছি। আর ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা ও প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তিতে কোন বিষয় থাকতে হবে, তা বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে।’

জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন ধরনের কোর্স রয়েছে। সেগুলো হলো সাধারণ অনার্স, ডিগ্রি পাস ও প্রফেশনাল অনার্স। তবে কারিগরি ব্যাবহারিকনির্ভর শিক্ষা। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল কোর্সও ব্যাবহারিকনির্ভর। ফলে কারিগরি থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের পছন্দ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল অনার্স। কিন্তু গত বছর সেখানে তাদের ভর্তিরই সুযোগ ছিল না।

অথচ গত শিক্ষাবর্ষের আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই এসএসসি পাস করার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত অনার্সে ভর্তির সুযোগ থাকত। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমিয়ে ২০১১ সাল, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ২০১৩ সাল এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে তা কমিয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়।

জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন ভর্তির সাল কমিয়ে আনায় প্রফেশনাল কোর্সে শিক্ষার্থী কমতে থাকে। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে প্রফেশনালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি থাকলেও গত শিক্ষাবর্ষে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র দুই হাজার ৮০০ জনে। এ ছাড়া সাধারণ অনার্স কোর্সে জিপিএ ২ পেলে ভর্তির সুযোগ থাকলেও প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা রাখা হয় ২.৫০। এ ছাড়া প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তিতেও বিষয়ের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করলে তাকে গণিত, পদার্থের মতো বিষয় থাকতে হবে। অথচ দেখা গেছে, প্রফেশনাল কোর্সে এ বিষয়গুলোই নেই। একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক থেকে প্রফেশনাল কোর্সে আসা শিক্ষার্থীদেরও বিষয়ের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের এ কোর্সে আগ্রহ থাকলেও তারা ভর্তির সুযোগই পাচ্ছে না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল কোর্সে বিবিএ, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয় থাকলেও কর্তৃপক্ষের কঠোর সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।