বাজেটে এমপিওভূক্তি ঘোষণা না এলে ১০ জুন থেকে অবস্থান কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০২:৪৮ পিএম, ২৩ মে ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ১১:৪৫ এএম, ২৪ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার

আগামী ৭ জুনের মধ্যে এমপিওভুক্তির ঘোষণা না এলে ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতর অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। কর্মসূচি সফল করতে ২৮মে ৬৪ জেলায় প্রস্তুতি সভা করবেন তারা।

বুধবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা,কারিগরি) এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকড. বিনয় ভুষণ রায়।সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলারসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।

নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে দিবারাত্রি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশন করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর ৫ জানুয়ারি আমরণ অনশন কর্মূসচি স্থগিত করেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। এদিন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত শিক্ষকদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌছে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান শিক্ষকদের বলেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীও এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন অনশন ভেঙ্গে শিক্ষকরা যেন যাঁর যাঁর বাড়ি ফিরে যান এবং শ্রেণিকক্ষে ফেরেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষরা এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রথম আন্দোলন শুরু করেন ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে। ওই বছরের ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ পিপার স্প্রে ব্যবহার করে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর একই বছরের ১৫ জানুয়ারি ন্যাম ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি করতে গেলে মানিক মিয়া এভিনিউর পশ্চিম পাশে পুলিশ বাধা দেয়। সেই বাধা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। একপর্যায়ে পিছু হটেন শিক্ষকরা। সোবহানবাগের প্রিন্স প্লাজার সামনে অবস্থান করতে চাইলে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এরপর তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসে অবস্থান করে। শিক্ষামন্ত্রী এই ঘটনার পর শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ৩ মাসের মধ্যে এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন।এই আশ্বাসে পেরিয়ে যায় দুই বছর।

এরপর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে প্রথমে শহিদ মিনারে সমাবেশ এবং পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন পালন করে নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন।

সমাবেশ থেকে বলা হয়, সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে এই আন্দোলন চলবে। সরকার আবারও এমপিওভুক্তির আশ্বাস দেয়। ওই আশ্বাসের পর কেটে যায় একবছর। এরপর ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আবার রাজপথে নামেন শিক্ষকরা। ওই সময় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার। ওই আশ্বাসের পর শিক্ষকরা ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে আবার অবস্থান নেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। প্রায় ২৮ দিন অবস্থান করার পর শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তারা ফিরে যান বিদ্যালয়ে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও এমপিও প্রসঙ্গ না আসার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি।