প্রকল্পে স্থানান্তর বা স্থায়ীকরণ চায় সেকায়েপ প্রকল্পের শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ১১:৩৫ এএম, ১৪ মে ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ১০:০১ পিএম, ১৪ মে ২০১৮ সোমবার

এমপিওভুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাক্সেস এনহ্যান্সমেন্ট (সেকায়েপ) প্রকল্পের শিক্ষকরা। সোমবার ১৪ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সকাল ১১টায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত শ্রেণি-শিক্ষক (এসিটি) এসোসিয়েশনের ব্যানার এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০০৮ সাল থেকে চালু করা হয় ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি এন্ড অ্যাক্সেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ (সেকায়েপ)। ২০১৫ সালে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান ভীতি দূর করতে মাধ্যমিক স্তরে ‘অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষক’ (এসিটি) হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সেকায়েপ।

এসিটিরা (অতিরিক্ত শ্রেণি-শিক্ষক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাসের পাশপাশি প্রতিমাসে কমপক্ষে ১৬-২০টি অতিরিক্ত ক্লাস এবং হোম ভিজিটের মাধ্যমে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখি করে থাকে। এছাড়া এসিটিরা অতিরিক্ত ক্লাস ও হোম ভিজিটের পাশাপাশি যৌতুক প্রথা ও বাল্য বিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে আসছে।

বক্তব্যে দাবি করা হয় এসিটিদের সৃজনশীল মনোভাবের কারনে সেকায়েপভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ার প্রবণতা কমেছে এবং শতভাগ পাশ নিশ্চিত হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক এসিটিদের কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এসিটিদের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশ্বের আরও ৫টি দেশের এসিটি কম্পোনেন্ট চালু করা হয়েছে। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে পরেছে দূর্গম এলাকার ২১০০ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৫২০০ এসিটি। যাদের বেশিরভাগই সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে।

বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সেকায়েপ এসিটি ম্যানুয়াল বইয়ের ২৫ ও ২৬ পৃষ্ঠার ৩৬ (ক) ও ৩৬ (খ) অনুচ্ছেদ এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে সকল এসিটিদের সকল কর্মকান্ডসমূহ পরবর্তী প্রকল্পে উন্নিত করণ অথবা এমপিও ভুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীকরণ করা হবে। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও এ কথা উল্লেখ ছিল। যার প্রতিফলন সেকায়েপ এসিটিদের ক্ষেত্রে এখনও ঘটেনি। আজ দীর্ঘ ০৫ (পাঁচ) মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের (এসিটি) ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন নোটিশ পাওয়া যায়নি ।

সম্মেলনে বক্তারা সরকারের কাছে মানবিক দৃষ্টিকোন, বয়স ও অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত শ্রেণি-শিক্ষকদের (এসিটি) পরবর্তী প্রকল্পে স্থানান্তর অথবা এমপিওভুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীকরণের দাবি জানান।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মণ ও সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন, এসিটি মো. শহিদুল ইসলাম, রাফিউর রাফি, আবু রায়হান ও আরিফ হোসেন বক্তব্য রাখেন। শতাধিক এসিটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন।

ইবি/এজেড