অ্যাপভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ এএম, ২৮ জুন ২০২০ রবিবার

পরীক্ষানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে অ্যাপভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হতে পারে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের শ্রেণিকার্যের ধারাবাহিক মূল্যায়নটি শিক্ষক সেদিনই অ্যাপের মাধ্যমে পোস্ট করবেন এবং কেন্দ্র থেকে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

শনিবার দুপুরে এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) আয়োজিত ‘করোনায় শিক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয়` শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে প্রধান অতিধির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ বছর তিনটা বিষয়কে নিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পাইলট প্রজেক্ট নিয়েছিলাম। যেখানে খুবই ভালো সাড়া পেয়েছি। যা আমরা আগামী বছর থেকে কয়েকটি বিষয়ের ওপর কিছু নম্বর নির্ধারণ করে চালু করার চেষ্টা করছি। পর্যায়ক্রমে সবগুলো বিষয়ে কিছু কিছু অংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের মধ্যে চলে আসবে। তবে এই ধারাবাহিক মূল্যায়ন ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে না নিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের তথ্যগুলো সংরক্ষণ করা হবে। যা কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ডা. দীপু মনি বলেন, আগেকার দিনে যে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হতো সেগুলো ভালোমতো মূল্যায়ন হতো না অর্থাৎ বছর শেষে মূল্যায়নের নামে একটি নম্বর বা সংখ্যা যোগ করে দেয়া হতো। এখন আর সেটি করা হবে না। এখন অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। সেই অ্যাপে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের মূল্যায়ন শিক্ষক পোস্ট করবেন এবং সেই অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকেও সেগুলো মনিটর করা সম্ভব। অর্থাৎ অ্যাপের মাধ্যমে ধারাবাহিক মূল্যায়নের এই ব্যবস্থাটি চালু হলে প্রতিদিনের ধারাবাহিক মূল্যায়নের তথ্যটি সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিদিনের মূল্যায়ন অ্যাপে শিক্ষক পোস্ট করবেন এবং কেন্দ্র থেকে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এর ফলে পরীক্ষা পদ্ধতির সনাতন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, করোনায় স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা কমতে পারে। স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট পুষিয়ে নিতে চলতি শিক্ষাবর্ষ আগামী মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শিক্ষাবর্ষের ছুটি কমিয়ে শ্রেণি ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা অর্জনের দিকটি আপস করা হবে না। যতটুকু না পড়ালে পরবর্তী ক্লাসে ওঠা সম্ভব না হয় সেটিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইরাব সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক। সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির নেওয়াজের সঞ্চালনায় এতে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইরাব কোষাধ্যক্ষ শরিফুল আলম সুমন।

আলোচনায় অংশ নেন ইরাব যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দফতর সম্পাদক এম এইচ রবিন, সাংবাদিক মহিউদ্দিন জুয়েল, তানিয়া আক্তার প্রমুখ।