জেনে নিন পূর্ব রাজাবাজারে যেভাবে মানা হবে লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৯:৪৭ পিএম, ৮ জুন ২০২০ সোমবার

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১২টার পর থেকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলার লক্ষ্যে ডিএনসিসি এলাকার জন্য গঠিত কমিটির এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্ব রাজাবাজার এলাকার নাজনিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ডিএনসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), এটুআই, ই-কমার্স অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। এলাকায় একটি মাত্র প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ (গ্রিন রোডে অবস্থিত আইবিএ হোস্টেলের পাশের সড়ক) খোলা থাকবে। লকডাউন চলাকালে এই এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। জনগণের চলাচল অত্যন্ত সীমিত রাখা হবে।

এছাড়া, লকডাউন চলাকালে পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় বসবাসরত লোকজন বাইরে যেতে পারবেন না এবং বাইরের লোকজন এ এলাকার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-পণ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় করা যাবে, যা বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এটুআই ও ইক্যাব যৌথভাবে এটি পরিচালনা করবে।

হোম ডেলিভারির জন্য ইতোমধ্যে একদল প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে। যাদের অনলাইন সুবিধা নেই, নগদ অর্থে খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করতে চান, তাদের জন্য দুই-একটি শাক-সবজি, মাছ-মাংসের ভ্যান, ভ্যানচালক ও পণ্যসামগ্রী সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে ভেতরে প্রবেশ করানো হবে। ডিএনসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান পূর্ব রাজাবাজার এলাকার কর্মহীন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের একটি তালিকা প্রণয়ন করেছেন।

তালিকা অনুযায়ী, তাদেরকে ডিএনসিসি থেকে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হবে। এই এলাকার অসুস্থ রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু করা হবে। পূর্ব রাজাবাজার এলাকার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লকডাউনের বিষয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। ওই এলাকার নাজনিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ স্থাপন করা হবে। এটি সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। বুথটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক।

লকডাউন যথাযথভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে ওই এলাকায় পুলিশের টহল থাকবে। মোবাইল কোর্টও পরিচালিত হবে। গুরুতর রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারবে।

এছাড়া, জরুরি সেবা যেমন— বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা লকডাউন এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন। ডিএনসিসির বিশেষ পরিচ্ছন্নতা টিম সেখানে কাজ করবে। তবে ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী বা মেডিক্যাল বর্জ্য আলাদাভাবে প্যাকেট করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাছে দিতে হবে। মেডিক্যাল বর্জ্য কোনোভাবেই অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে মেশানো যাবে না।

ডিএনসিসির সোমবারের অনলাইন সভায় অন্যান্যের মধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা, এটুআই এর প্রতিনিধি রেজাউল জামি, ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন পরিচালক হাসপাতাল ডা. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার, শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর:

ত্রাণের জন্য- ৩৩৩

গ্রাউন্ড কোর্ডিনেশন টিম মেম্বার:

২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরান, ফোন নম্বর- ০১৯১১-৩৮০৬৩৩

আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন: ০১৭১৫৪০৭১৩৯

ওসি শেরেবাংলা নগর থানা: ০১৭১৩৩৯৮৩৩৫

ব্র্যাকের প্রতিনিধি ডা. ফারহানা: ০১৭১৩-০৯৫২৭৯

আইইডিসিআর প্রতিনিধি ডা. ফারজানা: ০১৭১৯২১২৫৯১

মাসুদ হোসেন পিএ টু ওয়ার্ড কাউন্সিলর: ০১৭১১৯৩৯৭৯৬