মুজিববর্ষেই জাতীয়করণের বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত

মো. আবুল হোসেন

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ১১:৩৪ এএম, ১৩ মার্চ ২০২০ শুক্রবার

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত শুধু শিক্ষক সমাজের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। আপনারা যদি সত্যিই জাতীয়করণ আদায়ের পক্ষ্যে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করবেন আশা করি। মনে রাখবেন ঘুমন্ত মানুষকে সচেতন করা যায় কিন্তু জেগে থাকা মানুষকে সচেতন করা যায় না।

আপনারা সবাই বুঝেন সকলে দলমত নির্বিশেষে রাজপথে না নামলে জাতীয়করণ আদায় করা সম্ভব নয়। তবুও আন্দোলনের ডাক দিলে আপনারা রাজপথে না নেমে ঘরে বসে থাকেন কেন তা বোধগম্য নয়? আশা করি এই মুজিববর্ষেই জাতীয়করণ আদায়ের লক্ষ্যে সকলের ঘুম ভাঙ্গবে। জাতীয়করণ আদায়ের ক্ষেত্রে সংগঠন বিবেচ্য বিষয় নয়। দাবি আদায় করা বিবেচ্য বিষয়। আজকাল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সংগঠন ব্যাঙের ছাতার মতো বিস্তার লাভ করেছে। যেখানে দাবি এক সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এক সংগঠন কর্মসূচি দিলে অন্যরা সহযোগিতা করে না বরং বিরুপ মন্তব্য করে।
যা সত্যিই আমাদের দাবি আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সাধারণ শিক্ষকরা আজ দাবি আদায়ে সোচ্চার হওয়া স্বত্বেও আন্দোলনে এগিয়ে আসতে পারে না কারণ একটাই সেটা হলো নেতৃত্ব নিয়ে কাড়াকাড়ি। সংগঠন গুলো নিজের দাপট টিকিয়ে রাখতে শিক্ষকদের বাধা প্রদান করে আন্দোলনে না যাবার জন্য। সাধারণ শিক্ষকদের তাই আমরা জাতীয়করণ আন্দোলনে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হচ্ছি বার বার। আর আমরা দাবি আদায়ে পিছিয়ে যাচ্ছি শতভাগ। সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দের কারণে সাধারণ শিক্ষকরা কেন দাবি আদায়ে ব্যর্থ হবে আপনারা বলুন? শিক্ষক সংগঠন গুলো গড়ে উঠেছে শিক্ষকদের কল্যানের জন্য এমনটাই আমরা জানতাম কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বাস্তবতা ভিন্ন।

আজ আমরা সংগঠন গুলোর অনৈক্যের কারণে দাবি আদায়ে বার বার ব্যর্থ হচ্ছি। জানি না এর অবসান কখন হবে। আমরা চাই এই মুজিববর্ষেই এই বিভাজনের অবসান হউক। আজ যদি সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ জেগে উঠতেন তাহলে জাতীয়করণ আদায় করা সম্ভব হত। আমরা আশা করি আপনারা নিজের ভুল বুঝতে পেরে জাতীয়করণ আদায়ের লক্ষ্যে জেগে উঠবেন। জাতীয়করণ আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য আপনারা নিজে এগিয়ে আসবেন এবং অন্যকে উৎসাহিত করবেন।
আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ আদায়ের লক্ষ্যে ৬৪ টি জেলায় কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা আশা করি সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে জাতীয়করণ আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের সহযোগিতা করবেন।

লেখক: সিনিয়র যুগ্ম- মহাসচিব
বাশিস (কেন্দ্রীয় কমিটি)

এডুকেশন বাংলা/এজেড