২০৩০ সাল নাগাদ ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ১০:৪২ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি। আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে স্ব স্ব বাজেট কাঠামো তৈরি করে তা বাজেট অনুবিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

রূপকল্প-২১ এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন এবং মুজিববর্ষ উদ্যাপনে এবারের বাজেট ঘোষণা ও তা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন বাজেটের আগে ঋণের বিপরীতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসতে আগামী বাজেটে ‘বিশেষ পলিসি’ গ্রহণ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রতিটি বাজেটেই কর্মসংস্থানের বিষয়টি থাকে। এবারও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে অর্জিত প্রবৃদ্ধির সুফল পাবে এদেশের প্রতিটি মানুষ।

জানা গেছে, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চলতি বাজেটে একশ’ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই বরাদ্দ শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এছাড়া চলতি বাজেটে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণার পর রেমিটেন্স আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স আহরণ ৫ বিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে আশা করছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকার সিংহভাগ ভোগব্যয় খাতে ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই অর্থ সরাসরি বিনিয়োগে নিয়ে আসা সম্ভব হলে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ কারণে নতুন বাজেটে রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসার বিশেষ পলিসি গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আজিজুল আলম বলেন, চলতি বাজেটে রেমিটেন্সের ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনার বিষয়টি খুব ভালভাবে গ্রহণ করেছেন প্রবাসীরা। ইতোমধ্যে রেমিটেন্স আহরণ বাড়ছে। চলতি অর্থবছর শেষে গত অর্থবছরের তুলনায় ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসবে দেশে। তিনি বলেন, এক কোটি প্রবাসী বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এই অর্থের গুরুত্ব ও অবদান দিন দিন বাড়ছে। তবে রেমিটেন্সের টাকা বিনিয়োগে নিয়ে আসার সেই রকম কোন পলিসি দেশে নেই। সরকারী প্রণোদনায় রেমিটেন্স আগামীতে আরও বাড়বে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর এ কারণে নতুন বাজেটে এ বিষয়ে একটি পলিসি গ্রহণ করার কথা ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, রেমিটেন্সের টাকা প্রবাসীরা যাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।

এদিকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা ঘোষিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বেসরকারী খাতে। এছাড়া আগামী অর্থবছরের শেষের দিকে চালু হচ্ছে পদ্মা সেতু। স্বপ্নের এই সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণবঙ্গ ব্যাপক শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে। কর্মতৎপরতা বাড়বে পায়রা ও মংলাবন্দরে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র চালু হলে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক সাফল্যের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড