এমপিওভুক্তিতে 'পাস' করা প্রতিষ্ঠানকে ফেল করানো হয়েছে (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৭:৪৫ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:৪৫ এএম, ৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

সম্প্রতি ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার)তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান নীতিমালার বাইরে গিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নীতিমালা অনুযায়ী পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও `ফেল` করানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাফলতি এবং অব্যবস্থাপনার জন্য এমন হয়েছে বলে মনে করেন স্বাধীনতা ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ মাসুদুল হাসান আরিফ।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে দেশের জনপ্রিয় শিক্ষাবিষয়ক নিউজ পোর্টাল এডুকেশন বাংলা`র বার্তা বিভাগে ফেসবুক লাইভে তিনি এসব কথা বলেন।

নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করেও অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আটকে থাকা এমপিওভুক্তকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা গত ২৩ অক্টোবর প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের কাছে কৃর্তজ্ঞ। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুষ্ঠানে শর্ত্ পূরণ করার পরও তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়নি।

তিনি বলেন, এবার যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে; তা একটি নীতিমালার মাধ্যমে হয়েছে। আর সেই নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৮ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আবেদন চাওয়া হয়েছি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব প্রতিষ্ঠান যোগ্যতা অর্জন করেছে সেইসব প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এমপিওভুক্তকরণের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদনের সকল শর্ত পূরণ করার পরেও সেইসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত হয়নি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠান ময়মসিংহ সদর উপজেলার ডিকেজিএস ইউনাইটেড কলেজ। এই কলেজে আমি অধক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই প্রতিষ্ঠানে ২০১৮ সালে যখন আবেদন চাওয়া হয়েছিল; তখন ছাত্র সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৯ জন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৭১ জন ও পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর ওইসবগুলোই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিওভুক্তিকরণ নীতিমালার ভেতরে ছিল। সকল শর্তপূরণ করার পরও আমাদের প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি হয়নি।

মাসুদুল হাসান আরিফ বলেন,এমপিওভুক্তি না হওয়ার পর বিগত কয়েকদিন যাবত আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম ২০১৭ সালে পাসের হার নয়। পাসের হার হিসাব করা হয়েছে ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের। কিন্তু ২০১৮ সালে যখন আবেদন চাওয়া হয়েছিল তখন শুধু ২০১৭ সালের পাসের হার ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা চাওয়া হয়ছিল। তবে সেই নীতিমালায় যারা উত্তীর্ণ হলো তাদের কেন বাদ দেয়া হলো এটা একটি প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, যারা নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করেছিল, সেইসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব কম। তারপর নীতিমালায় কিছু শর্ত শিথীল করে ১৫, ১৬ ও ১৭ সালের পাসের হার যোগ করে যারা ৭০ পেয়েছে তারা যোগ্য।

অধ্যক্ষ আরিফের প্রশ্ন যারা যোগ্যতা অর্জন করে পাস করল, তাদের ফেল করানোর জন্য কেন নতুন নীতিমালা তৈরি করা হলো? নতুন নীতিমালা তো তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা পাস করতে পারেনি,তাদের কীভাবে সহজে পাস করানো যায়। সেই নীতিমালা হতে পারে। কিন্তু পাস করা প্রতিষ্ঠানকে কেন ফেল করানো জন্য নীতিমালা! এটি কোন ধরনের নীতিমালা? প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে।

এ শিক্ষক নেতা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুপূর্ণ ছিল। তবে এটা বাস্তাবায়ন হয়েছে। তাই সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যক্ষ আরিফ আরও বলেন,আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ্দিন পরিশ্রম করেও বাদ পড়ল, সেইসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলমান নীতিমালার মধ্যে থেকেই এমপিওভুক্তি করার দাবি জানান তিনি।

এছাড়াও স্বাধীনতা নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক কর্মচারি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আরো কয়েকটি প্রস্তাব সরকারে কাছে উপস্থাপন করেন শিক্ষক তিনি।

মাসুদুল হাসান আরিফ বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করার সময় অনেক প্রতিষ্ঠান তথ্য দিতে ভুল করেছিল। যা পরবর্তীতে সংশোধন করা যায়নি। তবে ওই ধরনের ভূল আবেদনগুলোকে কয়েক দিন সময় দিয়ে সংশোধনের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, আবেদনের সময় যারা যোগ্য ছিল; সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে নিলেও অনেক সমস্যা সমাধান হবে। আর যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে শর্ত্ শিথিলের দরকার নেই। এটাই বাস্তবতা, এটাই করা উচিৎ।

আর শর্ত্ শিথিল তাদের জন্য করা উচিৎ যারা শর্ত্ পূরণ করতে পারেনি। আর যারা শর্ত্ পূরণ করতে পেরেছে তাদের জন্য আবার শর্ত্ শিথিল কিসের প্রশ্ন অধ্যক্ষ আরিফের। তাদেরকে অবশ্যই নীতিমালার আওতায় এনে নতুন একটি তালিকা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

নীতিমালায় পাসের হারে শহর ও মফস্বল এলাকায় সঠিক সংজ্ঞা দেওয়া উচিৎ ছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ভুলের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এমিওভুক্ত হয়নি। এছাড়াও মফস্বল এলাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শর্ত্ শিথিল করা উচিৎ। কারণ শহরের প্রতিষ্ঠানের মত মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার ও ছাত্র সংখ্যা এক হবে না। তাই মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শর্ত্ শিথীল করা প্রয়োজন। তা হলে অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে।

আরেকটি বিষয় হলো- নীতিমালা প্রনয়ণের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলকে অন্তভূক্ত করা উচিৎ। যা দীর্ঘ্দিন পর হলেও এই সরকার বুঝতে পেয়েছে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের মধ্যে দুই জনের একটি প্রতিনিধি দল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আসলে দুইজনের মাধ্যমে নয়, প্রত্যেক শিক্ষক সংগঠন, সিনিয়র শিক্ষকদের সমন্বয়ে মিটিং হলে এসব সমস্যা সমাধান সহজ হবে।

এডুকেশন/কেআর/ এসআই