দেড়গুন হচ্ছে প্রাথমিকের উপবৃত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৯:২২ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:২৩ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেড়গুন হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীকে মাসে একশত টাকার পরিবর্তে দেড় শত টাকা পাবে। বছরের শুরুতেই বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষাসামগ্রী (খাতা, কলম, স্কুলব্যাগ) কিনতে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এসব অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, উপবৃত্তি চালুর ফলে শিক্ষার্থী ঝরে পরা কমে গেছে। প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উপবৃত্তি একশত টাকার পরিবর্তে দেড়শত টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বছরের শুরুতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাসামগ্রী কিনতে ৫০০টাকা দেওয়া হবে। ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠানো হবে। কারণ উপবৃত্তি প্রকল্পটি ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপবৃত্তি দ্বিগুন ও শিক্ষার্থীদের ড্রেস দিলে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা দরকার হবে। বিশাল অংকের প্রজেক্ট একনেকে পাস হওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে আমরা সরে এসেছি।


উপবৃত্তি প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে মাসে একশত টাকার পরিবর্তে দুইশত টাকা উপবৃত্তি। এবং বছরের শুরুতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে জুতা কিনতে ৫০০ টাকা, স্কুল ড্রেস বাবদ এক হাজার ও স্কুল ব্যাগ কিনতে ৫০০ টাকা মোট দুই হাজার টাকা দিতে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এতে পাঁচ বছরে উপবৃত্তি খাতে ১৫শ কোটি ও শিক্ষাসামগ্রী বাবদ ১৪শ কোটি টাকাসহ মোট ২৯শ কোটি খরচ হতো। প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেনি। তারা উপবৃত্তি মাসিক দেড়শত টাকা ও শিক্ষাসমাগ্রী বাবদ ৫০০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পাঁচ বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকা দরকার হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (৩য় পর্যায়) পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. ইফসুফ আলী বলেন, জাতীর জনকের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে স্কুল ড্রেস দিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দুই হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। উপবৃত্তির টাকা অপ্রতুল হওয়ায় দ্বিগুনের প্রস্তাব করে ছিলাম। এতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার দরকার হতো। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তা অনুমোদন হয়নি।

এডুকেশন বাংলা