গ্রেড ও বেতন বৈষম্য: আলোচনা চায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৬:৩৫ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-বৈষম্য কমানোসহ গ্রেড উন্নীতকরণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করতে চায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গতকাল বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের পর এ নিয়ে অর্থসচিবের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসবেন। এই আলোচনার মাধ্যমে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের জন্য তিনি সুফল নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

বেতনবৃদ্ধি করে বৈষম্য কমানোর জন্য ১০টি যুক্তি তুলে ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যুক্তিতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বেতন-বৈষম্য দূর করার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তিনটি গ্রেডে বেতন দেওয়া হয়। সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে পার্থক্য ছিল দুইটি গ্রেড। ১৯৭৭ সালের পে-স্কেল থেকে ২০০৫ সালের পে-স্কেল পর্যন্ত চারটি গ্রেডে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে পার্থক্য বেড়ে দুইটি গ্রেড থেকে তিনটি হয়। ২০০৬ সালের জুন থেকে বেতনবৃদ্ধি করা হলেও সহকারী শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের মধ্যে পার্থক্য তিন গ্রেডে রয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে নতুন করে বেতন স্কেল নির্ধারণের ফলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলে পার্থক্য বেড়ে যায়। পার্থক্য হয় চারটি গ্রেড। ফলে সহকারী শিক্ষকরা বেতন স্কেলের দিক থেকে আরো পিছিয়ে পড়েন এবং বৈষম্য বেড়ে যায়।

বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ১১তম গ্রেডে, প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক ১২তম গ্রেডে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষক ১৫তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।

বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেলে ১০তম গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিদ্যমান বেতন যথাযথ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই।’

এদিকে গ্রেড উন্নীতকরণের প্রস্তাব নাকচ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন পৌনে ৪ লাখ সহকারী শিক্ষক। শিক্ষক নেতারা বলেন, গ্রেড বৈষম্য কমানোর দাবি দীর্ঘদিনের। সরকার বারবার এ দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধির বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। শিক্ষক নেতারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে ৩ লাখ ২৫ হাজার সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।

এডুকেশন বাংলা/এজেড