প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ১১ ছাত্রীর চুল কাটলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৬:৫৪ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

প্রাথমিক শিক্ষক প্রধান জোর পূর্বকভাবে ১১ ছাত্রীর চুল কাটলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও দপ্তরী মিলে এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায়২৯ নং ডিএমখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

গত বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবসী। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে আজ সোমবার অভিযোগের তদন্তে বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউল আজম হিরক। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ডিএমখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাথী, মারিয়া, তাজরিন, ফাহমিদা, সুমাইয়া, শ্রাবন্তি, ইতি, ফারহানা, নাহিদা ও ফাতেমাসহ ১১ ছাত্রীর চুল এবড়ো-থেবড়োভাবে কেটে দেন দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী জুমান। জুমান চুলকাটতে আসলে ছাত্রীরা বারবার নিষেধ করে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কেটে দেন জুমান।

একপর্যায়ে ছাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করলে অভিভাবকরা এগিয়ে এলে প্রধান শিক্ষক কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি। এ খবর জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় ভেঙ্গে পড়েছে ছাত্রীরা। কেউ কেউ বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষিকার শাস্তি দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী নাহিদা জানায়, ‘আমার চুল অনেক বড় ছিল। আমি কাটতে বারবার নিষেধ করেছি। কিন্তু ম্যাডাম দপ্তরিকে কাটতে বলেছেন, দপ্তরি জোর করে আমার চুল কেটে দিয়েছেন। এখন সব চুল ফেলে দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। আমি লজ্জায় স্কুলে যাইনি।’

আরেক ছাত্রী সাথী জানায়, ‘ম্যাডাম বলে মাথায় চুল থাকলে ব্রেন খারাপ হয়ে যায়। উঁকুনে রক্ত খেয়ে ফেলে। তাই চুল কেটে দিয়েছে। আমার সব চুল ফেলে টাক হয়ে গেছি।’

নাহিদার বাবা দেলোয়ার ব্যাপারী বলেন, ‘মেয়ে বড় হয়ে গেছে। একজন পুরুষ দিয়ে আমার মেয়ের চুল কাটার সাহস প্রধান শিক্ষিকা পেলেন কোথায়? চুল হল মেয়েদের অলংকার। এখন মেয়ে স্কুলে যায় না। ঘর থেকে লজ্জায় বের হয় না। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।’

বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী জুমান বলেন, ‘আমাকে প্রধান শিক্ষিকা চুল কাটতে বলেছে। আমি বিদ্যালয়ে থাকা কেঁচি দিয়ে চুল কেটেছি। আমার কোন দোষ নেই।’

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ বলেন, ‘মাস খানেক আগে মা সমাবেশে মেয়েদের চুল সেটিংস করে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার কথা বুঝেনি। তাই শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করতে মেয়েদের চুল কেটেছি।’ এ নিয়ে কিছু লোক প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিয়ে অবহিত করতে বলেছি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটতে পারেন না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এডুকেশন বাংলাএকে