জবিতে কর্মীসংকটে স্থবির সাংস্কৃতিক অঙ্গন

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৮:৫০ এএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার | আপডেট: ০৮:৫১ এএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

বিশ্ববিদ্যালয় মানে স্বাধীন শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার আঁতুড়ঘর হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিধ্যালয়ের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার ১৪ বছর পার করলেও নিজস্ব কোনো সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে ওঠেনি প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাংস্কৃতিক অঙ্গনগুলো সমৃদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের প্রয়াস থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চর্চায় ক্যাম্পাসকে ব্যবহার না করা, অনুষ্ঠান আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে যথাযথ সহযোগিতা না করা, সর্বোপরি অর্থ ও কর্মী সংকটে স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অঙ্গনটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও, বাড়ছে না সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী সংখ্যা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি চর্চার মোট ১১টি সংগঠন রয়েছে। সেগুলো হলো—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ, চারণ শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমি (নাট্য), বাঙালি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মাইম সোসাইটি, চতুষ্কোণ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদল।

২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬ সালে উদীচী জবি সংসদ যাত্রা শুরু করে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে শাহেদুল কবির মিনারকে সভাপতি ও নুর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে এর কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের দুই বছরেও ক্যাম্পাসে কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি এই সংগঠনটিকে। বার্ষিক ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পায় এই সংগঠনটি। অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় একটি রুম বরাদ্দ থাকলেও এখানে হয় না কোনো সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। ‘মনের মানুষ’ নামে অন্য একটি ব্যান্ড দল রুমটি দখল করে সেখানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মাইম সোসাইটি। তখন জহিরুল ইসলামকে সভাপতি ও সোহাগ বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পার করলেও কোনো কার্যক্রম নেই এই সংগঠনটির। বার্ষিক ২০ হাজার টাকা বাজেট থাকলেও কখনো তা উত্তোলন করা হয়নি। সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, কর্মী সংকটে এখন বিলুপ্তির পথে এই সংগঠনটি।

২০০৬ সাল যাত্রা শুরু করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অবকাশ ভবনের ৩০৩ নম্বর রুমটি যৌথভাবে ব্যবহার করে আসছে। বার্ষিক মাত্র ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পায় এ দুটি সংগঠন। অবকাশ ভবনের অন্যতম সক্রিয় এই দুটি সংগঠনের কক্ষে নেই কোনো ইন্টারনেট ব্যবস্থা, নেই কম্পিউটার, নেই ফিল্ম স্ক্রিনিংয়ের কোনো ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেলেও সাংস্কৃতিক কর্মী দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্য সংগঠনগুলো কর্মী সংকট, স্থায়ী অনুশীলন কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক অভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে অনেক সংগঠন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। একই কারণে বন্ধ হয়ে গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদল সংগঠনটি।

এবিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হলেও আমাদের সংকট রয়েছে। আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা একসাথে কোনো কার্যক্রম চালাতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যেমন আগ্রহের অভাব আছে, বিশ্ববিদ্যালয়েরও বিভিন্ন সংকট রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখনকার শিক্ষার্থীরা অনেকে ইন্টারনেটে বেশি সময় পার করছে। আবার অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে সংস্কৃতিকর্মী প্রতিটা সংগঠনে তুলনামূলক কমে যাচ্ছে। এই সকল সংগঠন সক্রিয় করে তোলার জন্য কর্মীদের সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহাদি সেকেন্দার বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে সংস্কৃতিকর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীরা একসাথে আন্দোলন করতেন। একসাথে রাজনীতিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন। সে সময় সংস্কৃতিককর্মীও বেশি ছিল। আমাদের নানাবিদ সমস্যা আর সঠিক মূল্যায়নের অভাবে সংস্কৃতিকর্মী তৈরি হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তুলতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

 

এডুকেশন বাংলা/ এজেড