৩৪ শিক্ষার্থীর চিরকুটে ভর্তি, ঢাবি ভিসির পদত্যাগ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ০৭:২৯ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য ছাত্রলীগের ৩৪ নেতাকে চিরকুটের মাধ্যমে ছাত্রত্ব দিয়ে নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু সে নিয়ম ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চিরকুটের মাধ্যমে ভর্তি করিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িত ভিসি স্যার ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের পদত্যাগ করতে হবে। সাথে সাথে অবৈধভাবে ছাত্রত্ব পাওয়া ৮ জনের পদ শূন্য করে উপনির্বাচন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনিয়মের মূল হোতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। উনার সম্পর্কে নতুন কিছু বলার আমার আগ্রহ নেই। কারণ উনার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে যে পরিমাণ সংবাদ প্রচারিত হয় তা থেকে আপনারা উনার সম্পর্কে জানতে পারবেন। আমি আজকের মানববন্ধন থেকে অনতিবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখা সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ছাত্রলীগ সারা বাংলাদেশে সকল অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে। ডাকসুতেও তারা অবৈধভাবে এসেছিল। এই অবৈধ কাজের সাথে জড়িত উপাচার্য ও ডিনের পদ ও শিক্ষকতা থেকে পদত্যাগ করতে হবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন বলেন, ‘১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন ছিল একটি প্রহসনের নির্বাচন। এ নির্বাচনে ভিসি অবৈধভাবে ছাত্রলীগের নেতাদের ছাত্রত্ব দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়। আমরা এই অবৈধ ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি।’

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডাকসু ভবনের সামনে এসে শেষ করে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘এক দুই তিন চার, দালাল ভিসি গদি ছাড়’, ‘পরীক্ষা ছাড়া ডাকসু নেতা মানি না মানব না’, ‘ডাকসুতে অছাত্র কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘যে ডাকসু অছাত্রদের সে ডাকসু মানি না’, ‘চিরকুটের প্রশাসন ধিক্কার ধিক্কার’, ইত্যাদি স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেন।

এডুকেশন বাংলা/একে