'মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার" বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি

আহমদ হোছাইন

এডুকেশন বাংলা

প্রকাশিত : ১২:৫৮ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার

গত ৫ সেপ্টেম্বর গেজেট অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষা সেক্টরের উপজেলা লেভেলের প্রশাসনিক পদ সমুহের নিয়োগবিধি প্রকাশ করা হয়। উহা পড়ার পর আমার মনে নিম্নোক্ত উপলব্ধি সমুহ আসে।

১, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদটি যেহেতু শিক্ষা প্রশাসন সংক্রান্ত পদ, সেহেতু এই পদে এমন ব্যক্তির পদায়ন বা নিয়োগ আবশ্যক, যিনি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। অনভিজ্ঞ ব্যক্তি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবার কোন সুযোগ সভ্য দেশে থাকতে পারে না। আমাদের দেশে ও কোনো ক্ষেত্রে আছে বলে আমার জানা নাই। কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা ছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধান নাই। কিন্তু গেজেটের বিধি অনুযায়ী প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে এনে সরাসরি কর্মকর্তা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উচিত ছিল, তাদেরকে রাজস্ব খাতে আনতেই যদি হতো, শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করাই যুক্তিযুক্ত ছিল।

২, ঐ পদে পদায়নের সময় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের মর্যাদা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার কথা আমাদের শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারক গণের মাথায় ছিলো না কেন? নাকি শিক্ষক গণের মর্যাদার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ই কর্তাবাবুদের মনমগজের উদ্ভট বিক্রিয়া ছিলো?

৩, ২০০৯সালে উপবৃত্তি অফিসার গণকে রাজস্ব খাতে উন্নীত করার সময় প্রারম্ভিক বেতন গ্রেড 9 নং গ্রেড দেওয়া হয়। অথচ ওনাদের চেয়ে অনেক বেশী যোগ্যতা সম্পন্ন সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের অনেক দিনের দাবী (9ম গ্রেডে প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড) পূরণ না করে দ্বিতীয় শ্রেণী নামক প্রহসনের মাধ্যমে আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত করে আজ অবধি কোন সমাধান করা হলো না। যদ্দরুণ 6 হাজারের মতো শিক্ষক ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত থেকে গেলেন।

৪, "সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার " পদটি কোন শ্রেণীর তার ব্যাখা গেজেটে নাই। ধরে নিলাম, এটা দ্বিতীয় শ্রেনীর পদ। নিয়োগ কি পিএসসির মাধ্যমে হবে? সংশয় প্রকাশ করছি। যদি পিএসসির মাধ্যমে হয়, নিশ্চয় নন ক্যাডার নিয়োগ হবে। সরকারি মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক গণ‌ও নন ক্যাডার। উভয় পদে এক‌ই যোগ্যতার মানুষ নিয়োগ দিলে উভয় পদকে একীভূত করাকে সমীচীন মনে হয়। যার কোন ব্যাখ্যা গেজেটে নাই।

৫, সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়, অনার্স সহ মাস্টার্স, সাথে বিএডের শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের চেয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন অফিস সহকারী কেন অফিসার পদে প্রমোশন পাবেন? এই প্রশ্ন আমাকে কুরেকুরে খাচ্ছে।

৬, আরেকটা মজার বিষয় হলো, নিরাপত্তা প্রহরী গণ 3 বছর পর অফিস সহায়ক, অফিস সহায়ক গণ 5 বছর পর অফিস সহকারী, অফিস সহকারী গণ আট বছর পর উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক অফিসার , সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার গণ আট বছর পর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হতে পারবেন। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি এস‌এস‌সি পাশ করে নিরাপত্তা প্রহরী পদে চাকরি নিয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে 24 বছরের মাথায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হতে পারবে। এদিকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করা শিক্ষক গণ তার অধীনস্থ কর্মচারী হিসেবে ঘোড়ার ঘাস কাটবে। জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা ঘোড়ার ডিম প্রসব বেদনায় ছটফট করবে।

৭, অনেক সহকর্মী ও বন্ধু বান্ধব মনে করেন, সরকার যা ইচ্ছা তাই করবে, আমাদের তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। আমার চাকরি আমি করবো। মাস শেষে বেতন পাবো। কিন্তু সম্মান ছাড়া কোন পেশাই মানুষের জন্য উত্তম নয়। টাকাই যদি সব হতো, তাহলে আমার মনে হয় মাধ্যমিকের অনেক শিক্ষক ই এই চাকরিতে যোগদান করতেন না। বিদেশে গিয়ে এর চেয়ে অনেক বেশী টাকা রোজগার করতে পারতেন। আমাদের সম্মানের জন্য ই আমাদেরকে লড়াই করতে হবে।
৮, আরেকটা কথা আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যদি আমাদের মাধ্যমিকের এই হযবরল অবস্থার কথা পৌঁছানো যেতো, তাহলে উনি মাধ্যমিক শিক্ষকদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ব্যক্তিদেরকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় এনে উচিত শিক্ষা দিতেন। দুর্নীতি পরায়ণ মাধ্যমিক সেক্টরের হর্তাকর্তাদের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার জন্য আমাদের সবার আন্তরিক ভাবে চেষ্টা চালানো উচিত। উনি ই আমাদের শেষ ভরসাস্থল। উনি যদি আমাদের ন্যায্য দাবী না মানেন, তাহলে মনকে প্রবোধ দিতে পারবো।

৯, সংবিধানের 29 অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট করলে এই সব হাবিজাবি বিধিমালা বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করলে আমি একবার সর্বোচ্চ আদালতে যেতে চাই। কেউ এগিয়ে না আসলে আমি একাই যাবো। কেউ আকাশ থেকে নেমে এসে আমাদের সমস্যা সমাধান করে দেবে না। আমাদের সমস্যা আমাদের ই সমাধানের পথ বের করতে হবে। প্রয়োজন হলে কঠোর আন্দোলন করতে হবে। আমরা শিক্ষকগণ ই যদি ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে কুণ্ঠাবোধ করি, তাহলে জাতিকে কি শিক্ষা দিবো?

১০, আমরা সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, আমরা ঐক্যবদ্ধ নেই। সবার কাছে আহবান জানাই আসুন সবাই এক হয়ে আমাদের ন্যায্য দাবীগুলো আদায়ে সচেষ্ট হ‌ই। কে কি করেছে না করেছে সে সবের হিসাব না নিয়ে, হাহুতাশ না করে আমি নিজে কি করেছি তার হিসাব মিলাইতে সচেষ্ট হ‌ই। সিনিয়র জুনিয়র ভেদাভেদ ভুলে আমি পেলে আপনি ও পাবেন সেই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে কাঁধে কাঁধ রেখে নিজ নিজ স্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে চেষ্টা করি। জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ।
মাআসসালাম।


এডুকেশন বাংলা/এজড